Truth Test / NARCO Test কি? এটা কিভাবে করা হয়?

Truth Test / NARCO Test নামটা হয়ত আপনারা শুনে থাকবেন।

নার্কো টেস্ট হল একপ্রকার সত্য অনুসন্ধান করার পরীক্ষা। এই পরীক্ষা করার জন্য অপরাধীর শরীরে কতগুলো ড্রাগস কে ইঞ্জেক্সনের মাধ্যমে অপরাধীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়। এই ড্রাগস গুলি হল-ইথেনল, সোডিয়াম, পেন্টাথল ইত্যাদি।

কেউ কেউ এই ড্রাগস গুলোকে Truth Test Drugs / Truths Drugs বলে থাকে। এই ওষুধের প্রয়োগে মানব শরীর ধীরে শিথিল এবং অর্ধ চৈতন্য হয়ে যায়।

মানুষ যখন অর্ধ চৈতন্যে এবং ঘোরের মধ্যে থাকে, তখন তার সাধারণ প্রাকৃতিক ভাবে চিন্তা করার শক্তি কমে যায়। যারফলে মানুষ অপরাধী চেয়েও মিথ্যা কথা বলতে পারেনা।

মিথ্যা কথা বলার জন্য মানুষকে চিন্তা করতে হয়। আমাদিকে কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগাতে হয়। কথা অনেক ভেবে বলতে হয়। মিথ্যা বলার জন্য মনগড়া কাহিনী গড়তে হয়।

কিন্তু Truth Drugs নেওয়ার ফলে অপরাধীর চিন্তা করার শক্তি লোপ পেয়ে যায়। অপরাধী অর্ধ চৈতন্যে অবস্থায় চলে যায়। কল্পনা করার স্বাভাবিক ক্ষমতা অপরাধী হারিয়ে ফেলে।

কারণ সত্যকে গোপন করে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার জন্য অনেক কথা বানিয়ে বানিয়ে বলতে হয়। যার জন্য দিমাগ লাগাতে হয়। অপরাধীর সামনে তার মিথ্যা ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় কাজ করে।

অপরদিকে সত্য কথা বলার জন্য কনরকম দিমাগ খাটাতে হয় না। সত্য ঘটনা মানুষের দিমাগে ফিড থাকে। তার জনে আলাদা করে ভাবনা চিন্তার প্রয়োজন হয়না।

নার্কো টেস্ট ১৯৯২ সালে প্রথম বার রবার্ড নামের একজন চিকিৎসক। টেক্সফোর্সে দোষী সাবস্ত হওয়া দুই জন আসামির উপর করেন।

বর্তমানে এই নার্কো টেস্ট বাংলাদেশ সহ ভারত, পাকিস্থান, নেপাল, মায়ানমার প্রভৃতি দেশের পুলিস এবং সেই দেশের উচ্চ কোন ক্রাইম অনুসন্ধান কারি সংস্থা গুলো দ্বারা করা হয়ে থাকে। অপরাধীর কাছ থেকে সত্য যাচায় করার জন্য।

নার্কো টেস্টের জন্য অপরাধীর শরীরে ইন্টার উঈনার বারবীউটারেটস নামের একটা ওষুধ কে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে অপরাধীর শরীরে পুশ করা হয়। পুলিস এবং ডাক্তারের তত্বাবোধনে এই ড্রাগস আসামির শরীরে প্রয়োগ করা হয়। অপরাধীর কাছ থেকে সত্য উদ্ঘাটনের জন্য।

Truth Test / NARCO Test কি ভাবে করা হয়ঃ-

নার্কো টেস্ট করার জন্য প্রথমে আসামির বয়স এবং স্বাস্থ ক্ষমতার অধ্যায়ন করা হয়। তারপর আসামির স্বাস্থ এবং বয়সের অনুপাতে তার শরীরের কার্য করণ খমতা অনুযায়ী পরিমান মত ড্রাগ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হয়।

সাবধানতা অনুসরণ না করলে মানব শরীরে এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই ডাক্তার বাবুরা, আসামির বয়স এবং স্বাস্থ ক্ষমতা অধ্যায়ন করার পর। পরিমান মত ড্রাগ আসামীকে দেন।

এই ড্রাগসের বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় মানুষ, পাগল পর্যন্ত হতে পারে। তার ডাক্তার সাবধানতার সাথে পরিমান মত ড্রাগস অপরাধীর শরীরে প্রয়োগ করে। এই পক্রিয়া করার আগে আদালতে অনুমতি নিতে হয়। এবং বিশেষ অপরাধ এবং অপরাধীর ক্ষেত্রেই আদালত নার্কো টেস্টের অনুমতি দেয়। সব অপরাধের জন্য আদালত নার্কো টেস্টের অনুমতি দেয়না।

Related Post

Truth Test / NARCO Test দুই প্রকারে করা হয়ে থাকে—১) পলিগ্রাফ টেস্ট এবং ২) ব্রেন ম্যাপিং টেস্ট।

১) পলিগ্রাফ টেস্টঃ-

যখন কোন অপ্রাধীর নার্কো টেস্ট করা হয়। তখন মেশিন দ্বারা পার্লস রেট, হার্ট রেট, ব্রীথ স্পীড এবং শরীরের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন পক্রিয়া গুলোকে রেকর্ড করা হয়। যা সরাসরি মনিটরের মাধ্যমে স্কিনে দেখানো হয়।

এরপর আসামীকে সামান্য কীছু প্রশ্ন করা হয়। যেমন- অপরাধীর নিজের নাম, ঠিকানা, বাবা এবং মায়ের নাম এছাড়া তার জীবিকা কি এই সমস্ত প্রশ্ন।

এইভাবে ধীরে ধীরে আসামীকে কেস ইনভেস্টিগেশন অফিসার অপরাধীকে ঐ কেসের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সেই রকমের প্রশ্ন করতে থাকে।

অপরাধী অর্ধ চৈতন্য এবং ঘোরের মধ্যে থাকায় চিন্তা ভাবনা করে মিথ্যা কথা আর বলতে পারেনা। আসামী তখন পুলিসের সামনে সত্য কথা বলে ফেলে।

২) ব্রেন ম্যাপিং টেস্টঃ-

ব্রেন ম্যাপিং টেস্টের প্রয়োগ সর্ব প্রথম লরেন্স-এ-ফরবেল নামের এক আমারিকান ডাক্তার করেছিলেন। আজকের দিনে এই টেস্ট বহু জায়গায় ক্রাইম অভিযানের জন্য পুলিস করে থাকে। এই টেস্টের মাধ্যমে সন্দেহ প্রবন যে ব্যক্তিকে পুলিস গ্রেফতার করেছে তার উপর করে থাকে।

Truth Test / NARCO Test এর ক্ষেত্রে ব্রেন ম্যাপিং টেস্ট অনেক বেশী ইফেক্টিভ বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।

সবার প্রথমে সন্ধিগ্ধ ব্যক্তির মাথার উপর একটা কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত বিশেষ সেন্সর লাগানো একটা হেলমেট ঐ ব্যক্তির মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয়।

এই সেন্সর লাগানো হেলমেট আসামির মস্তিস্কের মধ্যে হওয়া সমস্ত রকম প্রতিক্রিয়া কে রেকর্ড করে এবং মনিটরের মাধ্যমে স্কিনে সামনে নিয়ে আসে।

ব্রেন ম্যাপিং করার সময়, অপরাধীকে নানা রকম অদিও, ভিডিও এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ছবি দেখানো হয় টেলিভিশন স্কিনে দেখানো হয়। আর এই সব দেখার সময় তার মস্তিস্কে হওয়া সমস্ত প্রতিক্রিয়াকে মেশিন রেকর্ড করে স্কিনে দেখায়।

তারপর অপরাধীকে যে অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই সমস্ত ধরনের অডিও, ভিডিও ক্লিপস এবং সাউন্ড শোনানো এবং দেখানো হয়।

এই সমস্ত দৃশ্য দেখে অপরাধীর মস্তিস্কে হওয়া বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। আপরাধী যদি সত্যি সত্যি সেই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে তার মস্তিস্কে হওয়া প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে ৩৭৬ গ্রাফ্রের তরঙ্গ মনিটরে দেখানো হয়। যা একজন নিরিহ মানুষের থেকে একেবারে আলাদা।

একজন নিরিহ মানুষের মধ্যে এরকম প্রতিক্রিয়া সচরাচর দেখা যায় না। কারণ সে ঐ ঘটনার অপরাধী নয়। কিন্ত একজন আসামী যখন সেই ধরনের অপরাধ করে থাকে। তখন যদি সেরকম কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে তার ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

আরো পড়ুন – গুগল সম্পর্কে ১০ টি বিস্ময়কর সত্য যা অনেকেই জানেন না

View Comments

Recent Posts

  • সারা বাঁশখালী
  • দুর্ঘটনা
  • শীর্ষসংবাদ

ভাইকে এয়ারপোর্টে দিয়ে বাঁশখালী ফেরার পথে সড়কেই প্রাণ গেলো মহিউদ্দীনের

আবু ওবাইদা আরাফাত || বাঁশখালী টাইমস: গত পরশু চাচাতো ভাইকে দুবাই ও গতকাল আপন ভাই…

5 hours ago
  • শীর্ষসংবাদ
  • সারা বাঁশখালী

লকডাউনে বাঁশখালী সরকারী হাসপাতালের এম্বুলেন্সে যাত্রী পরিবহন!

তাফহীমুল ইসলাম, বাঁশখালী টাইমস: সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য…

6 hours ago
  • সংগঠন সংবাদ
  • শীর্ষসংবাদ

সাধনপুর ইসলামী পাঠাগারের ইফতার বিতরণ

করোনা মহামারীর এই কঠিন সময়েও প্রতিবছরের মতো এইবারো পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে পশ্চিম সাধনপুরে শতাধিক…

8 hours ago
  • সারা বাঁশখালী
  • শীর্ষসংবাদ

কয়লা বিদ্যুৎ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ আরও ২ শ্রমিকের মৃত্যু

বাঁশখালী টাইমস: বাঁশখালীর গন্ডমারায় নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশ- শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনায় আরও ২ গুলিবিদ্ধ…

15 hours ago
  • শীর্ষসংবাদ
  • জনদুর্ভোগ
  • সারা বাঁশখালী

বাঁশখালীতে রমজানেও থামছে না পল্লী বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং

জসীম উদ্দীন: বাঁশখালীতে রমজান মাসেও থেমে নেই পল্লী বিদ্যুতের হয়রানি। গ্রীষ্ম কাল শুরু হতে না…

2 days ago
  • প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  • শীর্ষসংবাদ
  • সারা বাঁশখালী

বাঁশখালীতে কোরআনের তাফসীর বিতরণ ও ফ্রি কোরআন শিক্ষা কোর্স চালু

বাঁশখালী স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এক মাস ব্যাপী…

2 days ago