‘হাজার বছর ধরে মরুভূমিতে ছুটে চলছি’

BanshkhaliTimes

হাজার বছর ধরে মরুভূমিতে ছুটে চলছি

[ কে এম ইশফাকুল হক রচিত ‘অনন্তকাল ধরে কাবার পথে’ বই থেকে বাঁশখালী টাইমসের পাঠকদের জন্য ধারাবাহিক প্রয়াস ]

🟢 এটিই সেই জায়গা, যেটিকে ঘিরে রয়েছে পৃথিবীর কতো কথা, উপকথা। এর মধ্যে কিছু সুখময়, মধুর,আর কিছু সবচাইতে কষ্টের,নিদারুণ যন্ত্রণার। কবি ঠিকই বলেছেন, ‘আমাদের সুমধুর গান সেগুলি,যে গুলো আমাদের সবচেয়ে দু:খের কথা বলে।’

‘ মা ‘আমিনা’। নামটি যে কারও মুখে শুনলেই মানসপটে ভেসে উঠে মায়াময়ী কোন মুখ; একেবারেই সারল্যভরা নিষ্পাপ কোন মুখের ছবি। দেড় হাজার বছর পূর্বের মা আমিনার কুটিরটি যদি আজ এখানে দাঁড়িয়ে থাকত, আর বিশ্বের দেড়শ’ কোটি মুসলিমকে অপশন দেয়া হতো- ‘তুমি কি এই কুটিরটি নিতে চাও,নাকি নানারূপ ঐশ্বর্যে ভরা বাকি চকচকে দুনিয়াটি? ‘ প্রতিটি মুসলিমই দ্বিধাহীন চিত্তে উত্তর দিত, ‘শুধু গোটা দুনিয়া কেন, এর সাথে আমার নিজ জীবনের বিনিময়ে হলেও আমি  মা আমিনার খেজুর পাতার চাওনি দেয়া এই শীর্ণ কুটিরটিই চাই।’
দু:খিনী মা আমিনাও সেদিন তাঁর জীবদ্দশায় বুঝতে পারেননি, মরুপ্রান্তরের তাঁর  শীর্ণ এই কুটিরটির একদিন এতো মূল্য হবে।

একজন টগবগে যুবক, শুধু একটি রজনী, দু’জনের  না বলা কতো কথা, একে অপরের একটু নিবিড়ে আসতে না আসতেই প্রত্যূষে সিরিয়াগামী ব্যবসায়িক কাফেলায় আব্দুল্লাহকে আনত মুখে বিদায় জানানোর মুহূর্তে বেদনায় নীল হয়ে যাওয়া দু’চোখের সকরুণ চাহনী,  মরূভূমির দূর দিগন্তে উটগুলোর পায়ের ধূলো মিলিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত চেয়ে চেয়ে দেখা,—-না,আর কখনও স্বামীকে দু’নয়নে দেখার সৌভাগ্য হয়নি দু:খিনী  মা আমিনার ।   এ-ই ছিলো স্বামীকে শেষবারের মতো দেখা ও এরপর চিরতরে  বিদায়—।

তিমির জাহিলিয়াত ও বর্বর পাশবিকতায় পুরো পৃথিবী যখন মত্ত হয়ে আছে, ঠিক সে সময়ে সবকিছুর আড়ালে একখণ্ড আলোকপিণ্ড কিন্তু মা আমিনার সিঁদুকে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছিল, যে পিণ্ডটি একদিন সিরাজুমমুনিরা বা আলোকময় বাতি হয়ে পুরো পৃথিবীকে আলোয় আলোয় ভরিয়ে তুলবে।স্বামীর মৃত্যু শোকে কাতর মা আমিনার আশার দিগন্তে শুধু একটিই দ্বীপ্তি, যাকে অবলম্বন করে তিনি দিন ক্ষণ মাস গণনা করে যাচছিলেন। অবশেষে কোন এক গভীর রজনী শেষে দূরে মরুদিগন্তে সুবহে সাদিকের ফর্সা আলোরেখা যখন ফুটে উঠলো, আমিনার কোল জুড়ে নেমে আসলো এক স্বর্গীয় শিশু। কোরাইশের ঘরে ঘরেই বয়ে গেলো আনন্দের বাঁধ ভাঙগা জোয়ার। এদিকে দাদা আব্দুল মুত্তালিবের খুশি কে দেখে?  সপ্তম দিনেই তিনি দু’ শত উট জবাই করে এক মহাভোজের আয়োজন করে বসলেন। আরবের নাম করা কবিরা অনেক নাম প্রস্তাব করলেও  আব্দুলমোত্তালিবের কিছুতেই পছন্দ হয় না। হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন,’মুহাম্মদ’। নামটি শুনেই সবাইতো অবাক। এতো সুন্দর নাম, কেউ আর কখনও শোনেনি।শুধু তারা কেন,পুরো  পৃথিবীটাই এই প্রথমবারের মতো শুনলো-‘ মুহাম্মদ’। স্বর্গ ও মর্ত্যে যিনি প্রশংসিত।আর মা আমিনা এই নামের অর্থের সাথে মিলিয়ে ঊষার আকাশের লালাভ লেগে থাকা ফুট ফুটে সুন্দর এই শিশুটির আরেকটি নাম রাখলেন,’আহমদ।’

মরুভূমির দূরে বেদুইন পল্লীতে দুধমা হালিমার ঘরে দুগ্ধপান শেষে ছয় বছরের শিশু মুহাম্মদ স: যখন আবার ফিরে আসলেন মা আমিনার কোলে,আমিনার মনে তখন একটিই দু:খ, নয়ন জুড়ানো শিশুটিকে যদি আব্দুল্লাহ দেখতে পেতো ! তাই,আব্দুলমুত্তালিব থেকে যথারীতি অনুমতি নিলো,  শিশুটিকে মদিনার কুবার কাছে কোন খেজুর গাছের ছায়ায় পিতার কবর দেখাতে নিয়ে যাবে।

সবসময়ই মনে হতো, কবরটি যদি এখানে কাছে কোথাও হতো,  আব্দুল্লাহকে এতো দূরে মনে হতোনা, অন্তত দিনে একবার হলেও গিয়ে হৃদয়ের পোড়া যন্ত্রণাগুলোকে চোখের পানিতে নিরবে ভাসিয়ে দিয়ে আসতে পারতো।

সুদূর ইয়াসরিবের পথে যাত্রা। মরুভূমির দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এসে কুবার কাছে আব্দুল্লাহর কবর এর পাশে নিরবে শান্ত হয়ে বসে থাকা—। এতোদিনের জমে থাকা কষ্টগুলো বুক ফেটে বেরিয়ে আসলো দু’চোখের অবিরাম  জলধারায়। শিশু মুহাম্মদ স: তখন পাশেই খেলছিলেন। মাকে কাঁদতে দেখে মায়ের চোখের পানি বার বার মুছে দিয়ে জানতে চাচ্ছিলেন, মা, কাঁদছো কেন? উত্তরে আমিনা শুধু  বললো, ‘এখানেই তোমার পিতা শায়িত আছেন।’

এদিকে আব্দুল মোত্তালিব সংবাদ পাঠালো মক্কায় ফিরে আসতে। মক্কায় ফেরার পথে বার বার ইয়াসরিবের দিকে পেছনে ফিরে তাকাচ্ছিলেন মা আমিনা, যেখানে মরুভূমিতে পড়ে আছে আব্দুল্লাহর কবর। এতদূরের মরুভূমি পাড়ি দিয়ে আমিনার জন্য আব্দুল্লাহর কবর দেখতে আসা কখনও কি আর সম্ভব? দূরে দিগন্তে ধীরে ধীরে ইয়াসরিবের খেজুর বাগান অস্পষ্ট হয়ে মিলে যাচ্চছিলো,  আব্দুল্লাহর কবরও দৃষ্টি থেকে হারিয়ে যাচ্ছিলো। চোখের সামনে চারিদিকে যেন আঁধার হয়ে আসলো। কঁকিয়ে উঠে শুধু বলে উঠলেন, থাম–থাম–। না,আর সামনে যাওয়াটা মোটেও সহ্য হলোনা আমিনার।

আব্দুল্লাহর জন্য আমিনার এই শোক দেখে করুণাময় প্রভুও হয়তো চাননি, আব্দুল্লাহ থেকে আমিনা আবার দূরে চলে যাক।তাই, আমিনা অসুস্থ হয়ে গেলো । শিশু মুহাম্মদ স:কে একা রেখে মদিনার কাছে ছোট ছোট মসৃণ অনেক পাথরের ঢেলায় ঢাকা আবওয়া নামক নির্জন মরুদ্যানে আমিনাও শেষে চলে গেলেন, না ফেরার দেশে।

খেজুর গাছের ছায়ায় কিছু পাথরের নিচেই আমিনাকে কবর দেয়া হল।
রাব্বুলআলামীনের কি অদ্ভূত লীলা ! শিশু মুহাম্মদ স: শূণ্য মরুভূমিতে এখন সম্পূর্ণ একা । পুরো পৃথিবীটাই দু’চোখের সামনে এখন যেন শুধুই ঝাপসা—-।
তাইতো এই মরুভূমির টিলার উপর মা আমিনার ঘরের এই জায়গাটি আমাদের মুমিনদের হৃদয়ে দেড়হাজার বছর পূর্বের অশ্রুভেজা অনেক স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়।
এদিকে মরুভূমি জুড়ে যখন সূর্যাস্তের ছায়া নেমে আসলো, দুর দূরান্তের পর্বতগুলোতেও।  হারাম থেকে তখন মাগরিবের আজানের সুমিষ্ট সুর শুনতে পাচ্ছিলাম।

  #প্রাচীনতম ঘরে  হাজার বছরের পুরোনো কথা#
তিন দিকেই মরুভুমির পাহাড়। মাঝখানে নিচু উপত্যকা।মরুভূমির অস্তাচলে সূর্য ডুবে গেলেও উপত্যকায় দিবসের শেষ আলোটুকুর রেশ তখনও একেবারে মিলে যায়নি। তাই দূরের রোদ মাখানো রাঙ্গা রাঙ্গা পর্বতগুলো, মরুভূমির নির্জনতা, আর সেই নির্জনতা ভেঙ্গে যখন দিবসের শেষ কোরান তেলাওয়াত হতো, মনে হতো সারা পৃথিবী জুড়ে আকাশ থেকে যেন এই বুঝি ঝরে পড়ছে অবিরত ধারায় আয়াতের পর আয়াত, যা সিক্ত করে তুলছে অগণিত তৃষিত মরুপথিকের উন্মুখ হয়ে থাকা হৃদয়ের প্রতিটি বালুকণাকে।

যখন অপার্থিব সুর আর ছন্দে যাদুময়ী কণ্ঠে তেলাওয়াত করা হতো,

( ‘রাব্বানা ইন্নি আসকানতু মিন যুররিয়াতি বি ওয়াদিন গাইরি যি যারইন ইনদা বাইতিকাল মুহাররাম_—–শেষ পর্যন্ত।সূরা ইবরাহিম:৩৭)  ‘হাজার হাজার বছর পূর্বে রূুপকথার সেই আদি যুগে, কোথায় সেই বাবেল শহর, আর কোথায় বা শাম, আর সেখান থেকে দিগন্তের পর কতো দিগন্তের ধূ ধূ মরুভূমি পাড়ি দিয়ে আমি এক ক্লান্ত মরুপথিক কোন মরুদ্যানের সবুজের হাতছানি দেখতে পেয়ে মৌমাছির মতো ছুটে আসলাম মাঝখানের এই উপত্যকাটিতে, যেটি নাকি পবিত্র কোরানের ভাষায় উম্মুল কোরা বা পৃথিবীর কেন্দ্রীয় পল্লীঅণ্চল।

আল্লাহর নির্দেশে হাজেরা আ. কে কিছু না জানিয়ে এই জন মানবহীন ঊষর মরুভুমিতে নিয়ে আসা, তাঁদেরকে সামান্য পানি ও খাবার সহ এখানে রেখে ইবরাহিম আ.এর চলে যাওয়া—।হাজেরা আ. চোখের আড়াল হওয়ার আগেই আঁচ করতে পেরে পেছনে ছুটে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,  ‘এই বিরান মরুভুমিতে আমাদেরকে রেখে আপনি কোথায় যাচছেন?’  তিনি নিরুত্তর।পুনরায় জানতে চাইলেন, ‘এটি কি আল্লাহর নির্দেশ?’ ইবরাহিম আ. হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলেন। হাজেরা আ. বললেন, ‘তাহলে ঠিক আছে। নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে তাঁর দয়া থেকে বঞ্চিত করবেন না।’

এই বলে তিনি পূর্বের জায়গাটির কাছে ফিরে আসলেন। ঈমানের কি অগ্নি পরীক্ষা! আর পরীক্ষার্থীনীরও কি দৃঢ়তা ! আল্লাহর নির্দেশ জানতে পেরে জনমানবহীন এই শূণ্য মরুভূমিতে কোলের শিশু ইসমাইলকে নিয়ে নির্বাসনে ফিরে আসা ! তিনি জানতেননা,  সাথে থাকা সামান্য পানি আর খাবার গুলো শেষ হয়ে গেলে কিভাবে এখানে টিকে থাকবেন । ওদিকে ইবরাহিম আ ওখানে বসে দোয়া করলেন,
‘রাব্বানা ইন্নি আসকানতু মিন যুররিয়াতি বি ওয়াদিন গাইরি যি যারইন ইনদা বাইতিকাল মুহাররাম_—–শেষ পর্যন্ত।’ সূরা আয়াত:৩৭। ‘প্রভু আমার,আমার বংশের একটি অংশকে তোমার সম্মানিত ঘরের কাছে চাষাবাদহীন এই উপত্যকায় রেখে যাচ্ছি,, প্রভু আমার,যাতে তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, অতএব মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করে দাও। এবং তাদেরকে ফল ফলাদির দিয়ে রিজিকের ব্যবস্থা করে দাও যাতে করে তারা তোমার শোকরিয়া আদায় করে।’

আর আজ ভাবতে অবাক লাগে, কিভাবে মহামহিম সেই দোয়াটি কবুল করে নিলেন। এমন কোন ঋতু নাই, যখন পৃথিবীর সকল প্রকারের ফল এখানে পাওয়া যায়না। আর এখানে উৎপাদিত সুস্বাদু খেজুর পুরো পৃথিবীর মানুষ যুগ যুগান্তর ধরে খেয়ে পরিতৃপ্ত হচ্ছে।
কোন কোন দিন তেলাওয়াত হতো,

(‘ওয়া ইয জাআলনা বাইতামমাচাবাতাল্লিন্নাসি ওয়া আমনা ওয়াত্তাখিযু মাকামা ইবরাহিমা মুসল্লা—শেষ পর্যন্ত।’ সূরা বাকারা:১২৫।)  ‘যখন আমি কাবা গৃহকে মানুষের জন্য ফিরে আসার ও শান্তির আলয় করলাম,আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের জায়গা বানালে,আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিলাম,তোমরা আমার ঘরকে তওয়াফকারী,অবস্থানকারী এবং রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।’
আর এভাবে যখন পড়া হতো,
(‘ওয়া ইয্ ইয়ারফাউ ইবরাহিমুল কাওয়াইদা মিনাল বাইতি ওয়া ইসমাইল রাব্বানা তাকাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলীম।রাব্বানা ওয়াযআলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়ামিন যুররিয়াতিনা উম্মাতান মুসলিমাতান লাক—-শেষ পর্যন্ত।’ সূরা বাকারা:১২৭,১২৮।)
”আর যখন ইবরাহীম আ: ও ইসমাইল আ : কা’বা ঘরের বুনিয়াদ নির্মাণ করছিল, তারা বলেছিল, ‘প্রভু হে,আমাদের এই প্রচেষ্টা তুমি কবুল করে নাও। তুমিতো সবকিছুই শ্রবণকারী ও সবকিছুই জ্ঞাত। প্রভু হে, আমাদেরকে তোমার মুসলমানদের অন্তর্ভূক্ত করে নাও, আমাদের সন্তান সন্ততিদের মধ্য থেকেও তোমার মুসলমানদের একটি দল সৃষ্টি করে দাও, আমাদের হজ্বের রীতি নীতি শিখিয়ে দাও এবং আমাদের তওবা কবুল করে নাও।নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী।” তখন নিজের অজান্তেই হারিয়ে যেতাম, আজ থেকে হাজার হাজার বছর পূর্বের সেই প্রাচীন মরুভূমির এই বিরান উপত্যকাটিতে। পিতা ইবরামহীম আ: পাথরটির উপরে দাঁড়িয়ে কাবা ঘর নির্মাণ করছেন, আর কিশোর ইসমাইল আ: দূর থেকে পাথর বহন করে নিয়ে এসে তাঁর হাতে তুলে দিচ্ছেন। আর কা’বা ঘর যখন নির্মাণ হয়ে গেলো, আল্লাহর পক্ষ থেকে পুনরায় ওহী আসলো ,

‘তুমি মানুষকে হজ্বের আদেশ কর,তারা পায়ে হেঁটে বা শীর্ণকায় উটের উপর সওয়ার হয়ে দূর দূরান্ত থেকে তোমার কাছে আসবে।” সূরা হজ্ব:২৭।
‘হাজার বছর পূর্বের আরব সাগরের ওপারের সেই ডাক এখনও বেজে চলছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, অগণিত মুমিনের কানে কানে, আদিকাল থেকে অনাদিকালে, — প্রতিটি বনিআদমের প্রাণে প্রাণে। কেয়ামত পর্যন্ত কোটি কোটি বনি আদম সেই ডাকে মৌ মৌ করে এসে প্রতিটি নি:শ্বাসের উঠানামায় সুরে সুরে গেয়ে উঠছে, ‘লাব্বয়ক আল্লাহুম্মা লাব্বয়ক’প্রভু হে আমি হাজির,তোমার দরবারে হাজির।

পাহাড়ি পথ বেয়ে যখন প্রতিদিন কাবার পথ ধরতাম, নিচ থেকে দেখা যেত শুধু সরু সুউচ্চ আলোকিত মিনারগুলো। মনে হতো এ যেন দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন আলাদা কোন দ্বীপ; অন্য কোন রুহানী জগত,; স্বপ্নের শেষ দিগন্তে জান্নাতের কোন প্রতিবিম্ব।

পথের পাশে একটি স্টেশনারিজ দোকানে কম্পিউটারের পর্দায় কোন শিশুর কঁচি কণ্ঠে সচিত্র অন্য রকম হৃদয়স্পর্শী  তেলাওয়াত এই পথচলাকে অন্যরকম আরেক আবহে আচ্ছন্ন করে ফেলতো ।
কোন একদিন কাবা থেকে ফেরার পথে গাইড আমাকে নিয়ে চললেন জাবালে ওমরের পাদদেশের দিকে।

[ চলবে ]

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published.