BanshkhaliTimes

দেশী পণ্যের প্রসার ও নিজের ‘ব্র‍্যান্ড’ প্রতিষ্ঠা করতে চাই: তাসনিম লোপা

BanshkhaliTimes

বাঁশখালী টাইমস, নভেরা ডেস্ক: ‘অনলাইন ব্যবসায় লাখপতি’ কথাটি কয়েকবছর আগেও আষাঢ়ে গল্পের মতো শুনাতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেটাই হচ্ছে। একজন নারী, একজন মা, একজন স্ত্রী কীভাবে সবকিছু সামলে নিয়ে শুধুমাত্র ই-কমার্সের সহায়তায় একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন – আমরা আজ সে গল্প-ই শুনবো। এই গল্প হতে পারে অনেকের অনুপ্রেরণার কারণ কিংবা যারা শুরু করবেন কিনা সে ভয় ও দ্বিধা নিয়ে আছেন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

বাঁশখালী টাইমস তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস সৃষ্টির লক্ষে প্রায় ১ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয়েছে বাঁশখালীবাসীর প্রিয় সাপ্তাহিক অনলাইন হাট ‘বাঁশখালী টাইমস ফ্রাইডে মার্কেট’।

এবার সফল তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে আমাদের নতুন আয়োজন ‘নারী উদ্যোক্তার মুখোমুখি’। এ পর্বের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন নভেরা বিভাগের সহ সম্পাদক দিলুয়ারা আক্তার ভাবনা।

এ পর্ব সাজানো হয়েছে বাঁশখালীর মেয়ে সফল নারী উদ্যোক্তা তাসনিম লোপাকে নিয়ে। তাঁর সম্পর্কে জানা যাক তাঁর নিজের ভাষায়…

ছোটকাল থেকেই আব্বু আম্মু খুব করে চাইতো আমাকে ডাক্তার বানাবে। কিন্তু তাঁদের সেই ইচ্ছা আমি পূর্ণ করতে পারিনি। সবসময় অনুশোচনা কাজ করতো আমার মধ্যে।যখন থেকে বুদ্ধি হয়েছে আব্বু আম্মুর কাছ থেকে টাকা নিতে ইচ্ছা করতো না। তাই টিউশন করতাম।
এরপর বিয়ে হলো কুমিল্লায়। হাজব্যান্ডের চাকরির সুবাদে বর্তমানে ঢাকায় আছি।
নিজেকে সবসময় চেয়েছি একটা পর্যায়ে দাঁড় করাতে। যতই আমার পরিবার বা আমার হাজব্যান্ড এর থাকুক নিজের উপার্জন মানে একান্তই নিজের। যেটা দিয়ে কারো জন্য কিছু করতে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করবে।
চাকরি করতেও ইচ্ছা হয় সে জন্য। টুকটাক চাকরির জন্য স্টাডিও করি।
কিন্তু বর্তমান সময়ে মনে হয়না এত প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে মামা, চাচা, ঘুষ ছাড়া কিছু হবে।

তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি উদ্যোক্তা হওয়ার। মা বাবার ইচ্ছাটাকে কোন না কোন ভাবে রূপ দেওয়ার।

বাঁশখালী টাইমস: উদ্যোগের শুরু ও কী কী পণ্য নিয়ে কাজ করেন?

তাসনিম লোপা: আমি মাত্র ৫০০০ টাকা দিয়ে আমার উদ্যোগ শুরু করি। সাধারণত টাংগাইলের বিভিন্ন ক্যাটাগরির শাড়ি, থ্রিপিস, খাদি পাঞ্জাবী, জামদানি পাঞ্জাবী, শার্ট, গিফট প্যাকেজ, কাঠের গহনা, সুন্দরবনের খাঁটি মধু, হানি নাটস ইত্যাদি নিয়েই আমি কাজ করি।

বাঁশখালী টাইমস: এ পর্যন্ত আসতে বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন?

তাসনিম লোপা: তবে এখনো পর্যন্ত তেমন কোন বাঁধার সম্মুখীন হইনি আলহামদুলিল্লাহ। শুরু থেকেই আমার হাজব্যান্ড আমার সাথে ছিল। কোন রিলেটিভের পক্ষ থেকেও খারাপ কোন বিহেভ পাইনি। সবাই অনুপ্রেরণা দিয়েছে আজ অবধি।

বাঁশখালী টাইমস: আপনি কি নিজেকে সফল মনে করেন? কী রকম আয় হয় আপনার?

তাসনিম লোপা: আলহামদুলিল্লাহ বলতে গেলে সফল হওয়ার পথে আছি। কতটুক সফল জানিনা। আমি তো আর হোলসেল করিনা। যারা হোলসেল দেন তাদের বিক্রির পরিমাণ একটু বেশি হয়৷ প্রফিট কম হয়।
আমার উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে সেল প্রায় ৮-৯ লাখের কাছাকাছি। মাসিক সেল গড়ে ৭০-৮০ হাজারের মত।

বাঁশখালী টাইমস: আপনার প্রচারণা কৌশল যদি শেয়ার করতেন; কোন তিক্ততা অভিজ্ঞতা আছে?

তাসনিম লোপা: সব অনলাইন কেন্দ্রিক। মূলত প্রচারণা নিজের পেইজ, টাইমলাইনেই চালাই। চেষ্টা করি মজার কন্টেন্ট লিখে কাস্টমার আকৃষ্ট করার। নাহ কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা নেই।

বাঁশখালী টাইমস: আপনার উদ্যোগ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

তাসনিম লোপা: আমার ফিউচারে দেশীয় ঐতিহ্যগত যেসব প্রোডাক্ট আছে যেমন বিভিন্ন অঞ্চলের শাড়ি, আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন বাঁশ-বেতের পণ্য সব এক জায়গায় এনে কাজ করার ইচ্ছা। মূলত দেশের ঐতিহ্যকে রক্ষা ও দেশের প্রতি ভালবাসার টানে আমার এসব পরিকল্পনা।
আর এসব নিয়ে একটা ব্র‍্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় সবার সামনে তুলে ধরতে চাই। অনলাইন, অফলাইন দুই জায়গাতে কাজ করতে চাই।

বাঁশখালী টাইমস: বাঁশখালী টাইমস ফ্রাইডে মার্কেট নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা ও মতামত শেয়ার করুন।

তাসনিম লোপা: বাঁশখালী টাইমস নিয়ে যাই লিখি কম হবে।এই যে তরুণ উদ্যোক্তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে সে জন্য আমি বাঁশখালী টাইমসের এডমিন, মডারেটর সবার নিকট কৃতজ্ঞ। বাঁশখালী টাইমসে যখন উদ্যোগ নেওয়া হয় আমাদের বাঁশখালীর উদ্যোক্তাদের সুযোগ দেওয়া হবে তখন থেকেই আমি সাথে ছিলাম। আর প্রচুর সাড়া পেয়েছি বাঁশখালীর মানুষের। আমি চাই বাঁশখালী টাইমস ফ্রাইডে মার্কেট প্রতি সপ্তাহে জমজমাট থাকুক।

বাঁশখালী টাইমস আরো এমন ভালো ভালো পদক্ষেপ নিক।সব সময় সাথে আছি।

বাঁশখালী টাইমস: আপনাকে ধন্যবাদ, সময় দেয়ার জন্য।

তাসনিম লোপা: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ, বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে সাক্ষাৎকারমূলক আয়োজনের জন্য।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published.