বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নানের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

BanshkhaliTimes

বাঁশখালী টাইমস: আজ ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখ বাঁশখালী থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, চট্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, যুদ্ধকালীন বিএলএফ (মুজিব বাহিনী)র অন্যতম কমান্ডার, বাঁশখালীর কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল মান্নান এর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে মরহুমের গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার বৈলগাঁও গ্রামে খতমে কোরআন , দোয়া মাহফিল, কবর জেয়ারত ও এতিম গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণ সহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক সালাউদ্দিন সাকিব এর পিতা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান ২০১৩ সালের এইদিনে ইহকাল ত্যাগ করেন।

প্রসঙ্গত, দেশে যুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিযোদ্ধা যুবকদের একটি গ্রুপ উচ্চ প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভারতে পাড়ি জমান। মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আবু ইউসুফ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আবু সোলায়মান চৌধুরী (সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব), যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ছরোয়ার হোসাইন, মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ , কিবরিয়া চৌধুরী, এম ওয়াই এন জাকারিয়া ( সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা), সৈয়দ দিদারুল আলম চৌধুরী ( রাঙামাটি মোটরস’র স্বত্বাধিকারী), মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম সহ গ্রুপটি ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে উত্তর প্রদেশের (বর্তমান উত্তরখন্ড) দেরাদুন জেলায় অবস্থিত কেন্দুয়ায় ইন্ডিয়া আর্মি ট্রেনিং একাডেমী থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ট্রেনিং শেষ করে দেশে প্রবেশকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে বেশ ক’টি সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয় গ্রুপটির। পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে রাঙ্গুনিয়ার যুদ্ধ স্মরণ কালের। এই যুদ্ধে অর্ধশতাধিক পাকিস্তানী আর্মি নিহত হয়েছিল।

কাউখালী , যোগ্যাছোলা, মওরখীল, রাণীরহাট ও বোয়ালখালীতে হানাদার বাহিনী এবং রাজাকার দের সাথে যুদ্ধ করতে করতে মুক্তিযোদ্ধা মান্নান সহ দলটি বাঁশখালী আসেন। বাঁশখালীতে রাজাকারদের অন্যতম প্রধান ঘাটি গুনাগরী ওয়াপদাহ অফিসে স্থাপিত রাজাকার ক্যাম্পে এই গ্রুপটি অপারেশন চালিয়ে রাজাকারদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে। ট্রেনিং নেওয়ার পুর্বেও এই মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা বাঁশখালী সিও অফিস এবং সাধনপুর বোর্ডে অফিসে অপারেশনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।

দেশ স্বাধীন হলে জনাব মান্নান তার কর্মস্থল সার্ভে অব পাকিস্তানে অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের জরিপ বিভাগে ফিরে যান। জীবনে তিনি রাজনৈতিক সামাজিক কর্মকান্ড সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে যুক্ত ছিলেন । মৃত্যুকালে বীর মুক্তিযোদ্ধার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

এই মহান বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অতল শ্রদ্ধা জানাই।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.