দেশের প্রধান কবি আল মাহমুদের ৮৩তম জন্মদিন আজ

আজ কবি আল মাহমুদ এর ৮৩তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি
_________________________________
জন্ম ও বাল্যকালঃ
আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলের পড়াশোনা করেন। মূলত এই সময় থেকেই তার লেখালেখির শুরু। আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আজীবন আত্মপ্রত্যয়ী কবি ঢাকায় আসার পর কাব্য সাধনা করে একের পর এক সাফল্য লাভ করেন।

কর্মজীবনঃ
সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে কবি ঢাকা আসেন ১৯৫৪ সালে। সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। তিনি পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। ১৯৫৫ সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস (১৯৬৬), সোনালি কাবিন (১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৬৯) কাব্যগ্রন্থগুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন।
১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোটগল্প গ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল। আল মাহমুদ সাংবাদিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং যুদ্ধের পরে দৈনিক গণকণ্ঠ নামক পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এই পত্রিকায় সামসুদ্দিন পেয়ারা, মরহুম আসফউদ দৌলা, ফজলুল বারী প্রমুখ রিপোর্টার হিসাবে কাজ করেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক বছরের জন্য একবার জেল খাটেন। পরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু তাকে শিল্পকলা একাডেমীর গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

সাহিত্যজীবনঃ
১৯৫৪ সাল অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স থেকে তার কবিতা প্রকাশ পেতে থাকে। এ সময় তিনি ঢাকা আসেন এবং পত্রিকায় কাজ নেন ও সাহিত্যে পুরোদমে মনযোগী হন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকা এবং কলকাতার নতুন সাহিত্য, চতুষ্কোণ, ময়ূখ ও কৃত্তিবাস ও বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত বিখ্যাত ‘কবিতা’ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা-কলকাতার পাঠকদের কাছে তার নাম সুপরিচিত হয়ে ওঠে এবং তাকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার শহরমুখী প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তার কবিতায় অবলম্বন করেন। আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।

১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র দুটি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর সবচেয়ে সাড়া জাগানো সাহিত্যকর্ম সোনালি কাবিন।

১৯৯০-এর দশক থেকে তাঁর কবিতায় বিশ্বস্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস উৎকীর্ণ হতে থাকে; এর জন্য তিনি প্রগতিশীলদের সমালোচনার মুখোমুখি হন। তবে ঈশ্বরানুগত্যের কারণে তার কবিতার কাব্যগুণ আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি আদৌ।

প্রকাশিত গ্রন্থঃ
টেমপ্লেট: কাব্যগ্রন্থ
লোক লোকান্তর (১৯৬৩) কালের কলস (১৯৬৬) সোনালী কাবিন (১৯৬৬) মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৭৬) আরব্য রজনীর রাজহাঁস; বখতিয়ারের ঘোড়া; অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না, Al Mahmud In English, দিনযাপন, দ্বিতীয় ভাঙ্গন, একটি পাখি লেজ ঝোলা, পাখির কাছে ফুলের কাছে, আল মাহমুদের গল্পসমগ্র, প্রেমের গল্প; যেভাবে বেড়ে উঠি, কিশোর সমগ্র; কবির আত্নবিশ্বাস, কবিতাসমগ্র, কবিতাসমগ্র-২, পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধ বণিক, ময়ূরীর মুখ, না কোন শূন্যতা মানি না, নদীর ভেতরের নদী, পাখির কাছে, ফুলের কাছে, প্রেম ও ভালোবাসার কবিতা, প্রেম প্রকৃতির দ্রোহ আর প্রার্থনা কবিতা, প্রেমের কবিতা সমগ্র, উপমহাদেশ, বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ, উপন্যাস সমগ্র-১, উপন্যাস সমগ্র-২, উপন্যাস সমগ্র-৩, তোমার গন্ধে ফুল ফুটেছে, ছায়ায় ঢাকা মায়ার পাহাড় (রূপকথা), ত্রিশেরা, উড়াল কাব্য।
__________________________________
কবির বর্তমানে স্বদেশেই জীবন-যাপন করছেন এবং অধিকাংশ সমই কবি অসুস্থতার সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন।

আজ আমরা কবিকে ফুলের সৌরভে ভরিয়ে দিবো আর আল্লাহ পাকের দরবারে সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করবো।
________ আমীন।

দ্যা ডেইলি স্টার পত্রিকায় ২০১৭ সালে জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি সাক্ষাৎকারে-

কবিতার জন্য এক জীবন কাজ করতে হয়: আল মাহমুদ

আল মাহমুদ পুরো একটি জীবন কবিতার পথে কাটিয়ে এখন প্রায় গোধূলিলগ্নে। কবিজীবনের সঙ্গে দারুণভাবে মিশে আছে বাংলাদেশের বাঁক-বদলের ইতিহাস। স্বদেশের শক্তি বুকে নিয়ে, চোখে জাতির স্বপ্ন দিয়ে এখনো তিনি লিখে চলছেন সমান তালে। কবি হয়েও পাঠকের কাছে চমৎকার ভাষায় পৌঁছে দিয়েছেন গল্প, উপন্যাস। তাঁর গল্প থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে কলকাতায়। ১৯৩৬ সালে জন্ম নেওয়া এই মানুষটির লেখালেখি এখনো চলছে। লিখছেন কবিতা ও উপন্যাস।ইমরান মাহফুজ-এর নেওয়া একটি সাক্ষাৎকার আজ ১১ জুলাই কবির জন্মদিন উপলক্ষে দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো। এতে “সোনালী কাবিন”-এর কবির চিন্তা, বিশ্বাস আর রাজনীতির মতো প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

দ্য ডেইলি স্টার: কবি হতে এসেছিলেন গ্রাম থেকে ঢাকায়। ঘুরেছেন অনেক পথ। খেয়েছেন অনেক ঘাটের পানি। পিছনের কথা যদি বলতেন।

আল মাহমুদ: আমি ঢাকায় এসেছিলাম খদ্দরের পিরহান গায়ে, পরনে খদ্দরের পাজামা, পায়ে রাবারের স্যান্ডেল এবং বগলের নিচে গোলাপফুল আঁকা ভাঙা সুটকেস নিয়ে। এসেছিলাম অবশ্যই কবি হতে। আজ অনেক বছর শহরে আছি। আমার সুটকেসের ভেতর আমি নিয়ে এসেছিলাম বাংলাদেশের সবগুলো নদী, পাখি, পতঙ্গ, নৌকা, নর-নারীসহ বহমান আস্ত এক বাংলাদেশ। যেমন, যাদুকররা তাঁদের দ্রষ্টব্য দেখান। আমার ভাঙা সুটকেস থেকে জাতিকে দেখিয়েছি। আমার দ্রষ্টব্য দেখে বাংলার মানুষ কখনো কখনো হাততালি দিয়েছেন, আবার কখনো অশ্রুসিক্ত হয়েছেন। আমি এখনো এই শহরই আছি। আমি যখন এসেছিলাম তখন আমার বন্ধুদের বগলের নিচে থাকতো সিলেক্টেড পয়েমস জাতীয় ইউরোপের নানা ভাষার নানা কাব্যগ্রন্থ। আমি যেমন আমার ভাঙা সুটকেস থেকে আমার জিনিস বের করে দেখিয়েছি তারাও তাঁদের বগলের নিচের পুঁজি থেকে নানা ভেলকি দেখিয়েছেন। এখনো আমি এই শহরেই আছি। আমার সেসব বন্ধুদের সৌভাগ্য হয়নি। এই মহানগরীতে তাঁদের নাম তরুণরা উচ্চারণ করেন না। একটি কথা মনে রাখবে – সাহিত্য কোন প্রতিযোগিতার ব্যাপার ছিলো না, এখনো নেই। এটা ছিলো আনন্দের বিষয়, ভষ্যিতেও তাই থাকবে।

দ্য ডেইলি স্টার: মাহমুদ ভাই,আপনি একবার একটি প্রবন্ধে বলেছিলেন স্বপ্নই কবিতা, তাহলে কবিতা কি বাস্তব বর্জিত?

আল মাহমুদ: স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মিশেলেই কবিতা হয়। আমি কবিতার যে ভাষার কথা বলছি সেটি তো বাস্তবতাকে নিয়েই। কিন্তু বাস্তব জীবনের একটু ঊর্ধ্বে মানুষ যে কল্পনা করে আমি তার কথা বলছি। বাস্তব জীবন খুবই কষ্টকর। মানুষ এর বাইরে একটি স্বপ্ন দেখে, এজন্য ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে মানুষ আকাশের তারা দেখে। দেখে না? ওই ভাষারূপটাই কবিতা হয়ে বেরিয়ে আসে। আমি এটাই বলতে চাচ্ছি। কিন্তু, এটি বাস্তবতার বাইরে না, বাস্তবতার মধ্যে থেকেই কবিতা। মানুষ যা স্বপ্ন দেখে যা বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে যায়, আমি তার কথা বলছি। আর এটা হলেই সেই স্বপ্ন কবিতার রূপ লাভ করে। এটি হলো মানুষের একটি পরিশ্রুত জীবনের কল্পনা। পরিশ্রুত মানে জীবনের ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে যে জীবন-রস বের হয় সেটিই কবিতা।

দ্য ডেইলি স্টার: আপনি কি নিজেকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একজন প্রধান কবি বলে মনে করেন?

আল মাহমুদ: এই প্রশ্ন এর আগেও অনেকে আমাকে করেছেন। এখন আমার ধারণা “সোনালী কাবিন” কমবেশি সার্থক কবিতা। এই ধরনের কবিতা টিকে থাকে। কিন্তু, এই কবিতার জন্যে আমি এই দাবি কি করে করি যে আমি সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি। আমি অবশ্য এটি দাবি করি না। কেউ তা ভাবতে পারেন। আমি জানি, পাঠক মহলের অনেকে এরকম ভাবেন। অনেকে বলেন। অনেকে লিখিতভাবেও বলেন। কিন্তু, এতে স্বভাবতই আমি আনন্দবোধ করি। আমাকে যখন শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয় তখন পুলক জাগে। ভালোই লাগে আমার। কিন্তু, ঠিক এর যথার্থতা নিরূপণের ক্ষমতা আমার নেই। এটি সময় বিচার করবে। সময় বিচার করবে কে সবচেয়ে বড় কবি। অবশ্য কে বড় কবি, সাহিত্যে এমন প্রশ্ন নেই। আমি অবশ্য একথা বলতে রাজি আছি, এটুকু পর্যন্ত যেতে রাজি, এদেশের অনেক বড় কবিকেই আমার বড় কবি বলে মনে হয় না। অনেক বড় কবিকেও আমার খুব বড় কবি, খুব প্রতিভাবান কবি বলে মনে হয় না। কিন্তু, এটা তো আমি বলতে পারবো না যে আমি আমার দেশের শ্রেষ্ঠতম কবি। এটা বলা যেমন নিজের জন্য সম্ভব নয় তেমনি এটির কোনো যৌক্তিকতাও নেই। সাহিত্যে এ ধরনের প্রশ্নের সমাধানও কেউ করতে পারে না। সময় এসে এটি করে দেয়।

দ্য ডেইলি স্টার: আপনার অনেক লেখায় দেহ আর কাম এসেছে নানাভাবে। এ নিয়ে বলতে গেলে কি বলবেন একজন কবির জায়গা থেকে?

আল মাহমুদ: আমি নিত্য নারীসত্বার আদান-প্রদানের মধ্যে মূলত জ্বলে উঠি। আর আমি আমার কবিতায় যেসব নারীর শরীরের সৌন্দর্য চিত্র আঁকার চেষ্টা করেছি তা বিশেষ কোন একজন মানবীর পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা নয়। একজনের দেহে বহু বৈচিত্র্য তথা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যোগ করে তাঁকে পূর্ণ করে তুলতে চেয়েছি মাত্র। কবিতায় আমি নর-নারীর জীবনের বহু রহস্যময় অন্তরালকে উন্মোচন করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া আর কিছুই নয়।

দ্য ডেইলি স্টার: আমরা দেখছি কবিতা জনপ্রিয়তার দিক থেকে এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে, অন্যদিকে কথাশিল্পের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে দিনদিন। এক্ষেত্রে আপনার অভিমত কি?

আল মাহমুদ: আসলে বিষয়টি হচ্ছে – বাংলাদেশে কথাসাহিত্যের চেয়ে কবিতাকেই মৌলিক সাহিত্য হিসেবে ধরা হয়েছে। আজকের এ অবস্থায় এসে কবিতা পরিপূর্ণতাও লাভ করেছে। আর কথাশিল্প প্রথম থেকেই অগ্রসর সাহিত্য ও জনপ্রিয়।

দ্য ডেইলি স্টার: সম্প্রতি কবি লেখকরা কথিত রাজনীতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে। এতে কবি বা রাজনীতি কতটা সুফল ভোগ করছে বলে মনে করেন?

আল মাহমুদ: আমাদের দেশের কবি-লেখকদের প্রধান সমস্যা হলো রাজনীতি – রাজনীতিবিদদের দ্বারা তাঁদের দলীয় শিবিরে টেনে আনা। রাষ্ট্র কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা করুক এটি কবি মাত্রই আশা করেন। কিন্তু দলীয় রাজনীতি কবিকে বৃত্তবদ্ধ রাখুক এটি কবিতার জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। রাজনৈতিক বৃত্তে আবদ্ধ কবি মাত্রই আক্ষেপের রোগে আক্রান্ত। এ রোগ যক্ষ্মার চেয়েও ক্ষয়কারী এবং কর্কটের চেয়ে উৎকট।

দ্য ডেইলি স্টার: জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আপনার একটি যোগাযোগ ছিলো। সেই স্মৃতি মনে পড়ে?

আল মাহমুদ: কিছুটা মনে পড়ে। সে সময় গণকণ্ঠের সম্পাদক ছিলাম। আমাকে তিনি খুব ভালোবাসতেন। আমাদের পরিবারকে চিনতেন। উনি আমাকে বলতেন যে, উনি যখন ছাত্র ছিলেন, কোলকাতায়, তখন আমার চাচাতো ভাই, চাচা তাঁদের সঙ্গে তাঁর ভালো পরিচয় ছিল। আমি অবশ্যই জানতাম না অতো কিছু। আমি একটু উদাসীন ধরনের মানুষ ছিলাম তো।

দ্য ডেইলি স্টার: কবি আজ ৮২-তে পা দিলেন। দীর্ঘ অতীত পেরিয়ে তিনি কি পেলেন আর কি হারালেন অথবা সময়ের বুকে কোন ভাবনায় দোল খাচ্ছেন?

আল মাহমুদ: কাব্য লেখায় নব্য আমি আর কিছুকাল/ আমার গেল ছেলেখেলায় সন্ধ্যা-সকাল/ এখন হাতের মুঠো খুলে দেখছি রে ভাই/ কেবল আছে আয়ুরেখা আর কিছু নাই।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.