সৈকতে নজর দিলে বাঁশখালী হবে দ্বিতীয় কক্সবাজার!

কল্যাণ বড়ুয়া মুক্তা: বাঁশখালীর উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত দিন দিন সাধারণ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তাই প্রতিদিন সকালে বিকেলে অসংখ্য লোকের আনাগোনায় মুখরিত থাকে উপকূলীয় এলাকা। সম্প্রতি শেষ হওয়া ঈদে এত বেশি পর্যটকের আনাগোনা ছিল যা চোখে পড়ার মত ।

বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, গন্ডামারা ও ছনুয়া বঙ্গোপসাগর অংশে সারি সারি ঝাউবাগান যেকারোই নজর কাড়ে। সবচেয়ে বেশী লোকের আনাগোনা হয় বাহারছড়ার রত্নপুর ও কদমরসুল অংশে। বর্তমানে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। এই বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটন স্পটে রূপান্তরিত করলে সরকার রাজস্ব সহ বহুমুখী লাভবান হবে এমনকি কক্সবাজারে যে পর্যটকদের চাপ তা থেকে চট্টগ্রামের পর্যটকরা বাঁশখালী অংশে এসে কক্সবাজারের স্বাদ নিতে পারবে। বাঁশখালীর উপকূলীয় সুদীর্ঘ ৩৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সমুদ্র সৈকত বিস্তৃত। সারি সারি ঝাউবাগান ও বিস্তৃর্ণ সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক হাওয়া উপভোগ করতে এখানে প্রতিনিয়ত পর্যকটদের আনাগোনা দেখা যায়।

বর্তমানে আনন্দ ভ্রমণ কিংবা পিকনিক স্পটের বিকল্প হিসেবেও পর্যটকরা বেছে নিয়েছে এ অঘোষিত পর্যটন ষ্পটকে। বাঁশখালীর পূর্ব দিকে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে পাহাড় এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী উপকূলীয় সুদূর প্রসারী সমুদ্র চর। এখানে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখ যোগ্য পর্যটন স্পট। বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা প্রতিনিয়ত কক্সবাজারের ন্যায় এখানে এসে ভিড় জমান।

সম্প্রতি সময়ে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু, মোরা ও আইলার মত অসংখ্য দুর্যোগের কবলে পড়ে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার বেশ কিছু ঝাউবাগান এবং প্যারাবন নষ্ট হয়ে যায়। সেগুলো পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করলে একদিকে উপকূলীয় বন বিভাগের কর্ম তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে আগত পর্যটকদের প্রশান্তির জায়গা সৃষ্টি হবে। বাঁশখালীর ছনুয়া থেকে শুরু করে গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া ও খানখানাবাদ এলাকার বিশাল সমুদ্র সৈকতে সারি সারি ঝাউবাগান যে কারো নজর কাড়ে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের অথৈ জলরাশি ঢেউয়ের তোড়ে প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে ওই সব ঝাউবাগান (প্যারাবন)। বাঁশখালীর উপকূল জুড়ে বর্তমানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে মহোৎসব চলছে সেটার সাথে যদি উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটন স্পট করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় তাহলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপকূলীয় বনবিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা অলিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তা জানান, উপকূলকে পর্যটন স্পটে রূপান্তর এবং বিচ্ছিন্ন এলাকা জুড়ে ঝাউবাগান ও প্যারাবাগান সৃষ্টির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ের প্রলয়নকরী ঘূর্ণিঝড় সমূহ প্যারাবাগানের নানাবিধ ক্ষতিসাধন করে থাকে।

উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটন স্পট করার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের পৃষ্টপোষকতায় বাঁশখালীর উপকূলজুড়ে পর্যটন স্পটে রূপান্তর করার জন্য বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশারাখি তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। তিনি আরো বলেন বর্তমানে যে হারে পর্যটক প্রতিদিন আনাগোনা করছে তাতে মনে হয় এটা বিকল্প কক্সবাজার। তিনি বনবিভাগ সহ সরকারের পর্যটন মন্ত্রনালয় যদি উদ্যোগ গ্রহন করে তাহলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবেন বলে তিনি জানান ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.