৫ বছরে ১৫৮৩ বাংলাদেশির নাগরিকত্ব ত্যাগ!

গত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৫৮৩ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে ২০১২-১৩ অর্থবছরেই ত্যাগ করেছেন ২৯৯ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মেধাবী, উচ্চশিক্ষিত, বিশেষ করে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও আইটি দক্ষতাসম্পন্ন বাংলাদেশিরা দেশ ত্যাগ করছেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের হার দিন দিন বাড়ছে। [বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৭ জুন]

দেশ কিন্তু এখন মহা উন্নত, মহাপরাক্রমশালী। এর মধ্যেই গত বছরের মে মাসের খবর হলো, নৌকাযোগে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসী হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশিরা মহাপরাক্রমে সবার সামনেই আছে। এদিকে সকল ক্ষেত্রেই নিকৃষ্টরা ভেসে উঠছে। তলিয়ে যাচ্ছে সৎ, সাহসী, ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান মানুষেরা।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, দেশ ছাড়ার হারও তত বাড়ছে। উচ্চবিত্তদের বড় অংশই এক পা শুধু নয়, বাড়িঘর, ব্যাংক-ব্যালান্স, পরিবারের অর্ধেক বাইরেই রাখছেন। অদৃষ্টপূর্বভাবে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। বড় বড় রাজধানীতে বাংলাদেশিদের ‘সাহেবপাড়া’ ‘বেগমপাড়া’ গড়ে উঠেছে। অবস্থা দেখে মনে হয়, দেশটার উচ্চবিত্ত ও ক্ষমতাবানদের বড় অংশই মনে করে, বাংলাদেশ বোধ হয় বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, যত দ্রুত পারেন টাকা কামিয়ে সটকে পড়াই ভালো।

সুবিধাপ্রাপ্তদেরই যখন দেশের ব্যাপারে আস্থা তলানিতে, সেখানে আমজনতার ভরসা আসবে কোত্থেকে? গত বছরে প্রথম আলো পরিচালিত তারুণ্য জরিপ বলছে, ৮২ শতাংশের বেশি তরুণ ভবিষ্যতে দেশের ভেতরে কর্মক্ষেত্র নিয়ে ভরসা রাখতে পারছেন না। ভালো জীবনযাপন ও পেশার উন্নতির জন্য বাংলাদেশের ৮২ শতাংশ তরুণ দেশ ছাড়তে চান। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ‘একবার যেতে দে না, আমার ছোট্ট সোনারগাঁয়’ গানের কথা কাউকে আর আটকাতে পারছে না।

এই হতাশারই বিস্ফোরণ তরুণদের কোটা সংস্কার আন্দোলন। চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটার বাধা ডিঙিয়ে ভাগ্যের শিকা ছেঁড়ার আশা তাঁরা করেন না বলেই মরিয়া হয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। সেই আন্দোলনের দাবি পূরণে অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও। মাদকে ধ্বংস হচ্ছে অনেকে, অনেক পরিবার থেকে মানুষের নাম চলে যাচ্ছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা গুমের তালিকায়।

জীবনের জন্য, পড়ালেখার জন্য, চাকরির জন্য এবং একটা সম্মানজনক নিরাপদ জীবনের জন্য বাংলাদেশ আর প্রথম পছন্দ নয় এর অনেক নাগরিকের। এমনকি বিনিয়োগের দিক থেকেও আমরা মিয়ানমার থেকেও পিছিয়ে পড়েছি। এসবের আলোকে আমাদের রাষ্ট্র, জাতীয়তাবাদ, আইন, রাজনীতি, উন্নয়নের মিথসহ সবকিছু যাচাই করার সৎ সাহস যদিবা আমাদের হয়, একে বদলানোর আত্মবিশ্বাস কেন জাগে না?

– ফারুক ওয়াসিফ

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.