‘বিসিএস’ই কী স্বপ্নের চাকরি????

বিসিএস ই কী স্বপ্নের চাকরি????

মান্না দে, বিসিএস পুলিশ, ৩৪ তম বিসিএস

এই নিয়ে এখন বেশ তর্ক বিতর্ক হচ্ছে। প্রতিবার ই বিসিএস এর রেজাল্ট দেয়। কিন্তু কোন বার ই এত হৈচৈ হয় না। এবার কেন জানি বেশি হচ্ছে। তাই লিখতে হচ্ছে।

এটা ই সত্য বিসিএস ক্যাডার ই একটি চাকরি মাত্র। আর কয়েকটা চাকরির মতো।

এটা নিয়ে আসলে ই এতো হৈচৈ এর কিছু নেই। আপনি চাকরি পেয়েছেন। সবাই কে জানিয়েছেন। সবাই খুশি হয়েছে। আপনাকে একটু বেশি সম্মান দেয়া শুরু করেছে। কখনো কখনো একটু বেশি ই হয়ে যাচ্ছে।

আমি এমন ও দেখেছি কেউ কেউ কয়েকটা বিসিএস এর রেজাল্টের কথা বলছেন। এতে হয়তো কেউ বিব্রত হচ্ছেন। কিন্তু বুঝতে পারছেন আপনি চাইলেই বিসিএস পরীক্ষায় কোয়ালিফাই করা সম্ভব।

বাংলাদেশে চাকরির বাজারে বিসিএস কে সর্বোচ্ছ সম্মানের চাকরি ধরা হচ্ছে । এ কথাটা কিন্তু সত্য নয়। যারা কথা বলছেন তারা হয়তো অন্যান্য চাকরি গুলোর সম্পর্কে খুব একটা ধারনা রাখেন না। তবে এ ক্ষেত্রে জব সিকিউরিটি এবং একটি মোটামুটি সুন্দর জীবন আপনি পাবেন। কাজের মাত্রা ও এক এক ক্যাডারে এক এক রকম।

যাই হোক আসল কথায় আসা যাক।
কেউ কেউ বলছেন…. বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একজন ছাত্র ছাত্রীর বিসিএস স্বপ্ন হবে কেন??

প্রশ্ন আমার ও তাই। হওয়া উচিত ও নয় বৈকি!!!!

কিন্তু এত অর্নাস মার্স্টাস করা ছেলে মেয়ের জন্য তাদের সাবজেক্ট রিলেটেড জব অফার করতে পারে কি??

বাংলায় , পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি সাবজেক্টে পড়ে ব্যাংকে কাজ করছি আমরা। আমার নিজের কথা ই বলি। অর্থনীতি এর ছাত্র আমি। এ বিষয়টি বিশ্বব্যাপি সমাদৃত। কিন্তু বাংলাদেশে কতটুকু জব সেক্টর গড়ে তুলতে পারছি আমরা???

উত্তর সবার জানা আছে নিশ্চয় ই। পালে হাওয়া দিয়ে কথা বলে গেলে ই হলো না। আমি আমার নিজের ডিপার্টমেন্টে প্রোগ্রামে বলেছি… আপনারা আগে ই আপনার লক্ষ্য নির্ধারন করে ফেলুন। আসলে কী করতে চান। অর্থনীতি পড়ে ই অর্থনীতিবিদ হতে পারবেন এমন কোন কথা নেই!!!
সরকারি চাকরি, বেসরকারি চাকরি… নাকি উচ্চতর পড়াশুনা করে অন্য কিছু। শিক্ষকতা করতে পারেন । কয়জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন????

আপনার অর্জিত জ্ঞাণ কখনো ই বৃথা যাবে না। আপনি অন্য চাকরি করে ও পড়াতে পারেন। এটা সম্পুর্ন আপনার বিষয়। আজ যারা বলছেন বিসিএস নিয়ে এত লাফালাফির কী আছে.. তাদের মধ্যে কয়জন বিসিএস পরীক্ষা এক বার ও দেন নি বলতে পারবেন!!!????

সবকিছু নেগেটিভ চিন্তা করা আমাদের জাতিগত সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। কারো কোন ব্যালেন্স নেই। যিনি চাকরি পাচ্ছেন তাদের কেউ কেউ এমন বিভেব করছেন যেন বাকী চাকরি গুলো যাচ্ছেতাই। অথচ কিছুদিন আগে ও অন্য সব চাকরিতে আপনি নিজে ও আবেদন করেছেন। আজ সন্ধ্যা বেলা বিসিএস ক্যাডার হয়ে যাবার পর আপনার পিঠে দুটা পাখা বের হয়েছে আর উড়া শুরু করেছেন। সত্যি ই দু:খজনক। কিছুদিন পর মানুষ কে মানুষ মনে করবেন না আপনারা। আবার কেউ কেউ নিজে পাচ্ছেন না বলে রাগে বিসিএস কেই গালি গালাজ করছেন। জাতি হিসাবে আমারা আসলে ই হিপোক্রেট । দু:খিত বলার জন্য। বিষয়টি আসলে ই সত্যি ।

যাই হোক । এবার মনে হয় আমি নিজে ই রেগে যাচ্ছি ।

আমি আমার নিজের কথা বলি। বলি তাদের জন্য। যারা এখন স্নাতক শেষ করেন নি।

আপনার বিষয়ের জ্ঞাণ আপনার অবশ্যই প্রয়োজন। নিজের সাবজেক্টটি সম্পর্কে খুব ভাল ধারনা রাখবেন। খুব ভাল না হলে ও মোটামুটি একটা পরিষ্কার ধারনা রাখবেন।

পড়া শেষে আপনাকে চাকরি করতে ই হবে এমন কোন কথা নেই। এখন তো অনেকে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। ভাবছেন নতুন কিছু। এসব নতুন দের সাহায্য করার জন্য ব্যাংকগুলো আছে। আপনি আয় করতে পারনে অনলাইনে । আরো কতো কী!!!!

তাই ভাবুন। নিজের জন্য কোন টা বেটার হবে।

পড়ালেখার পাশাপাশি অন্য কিছু। জবের ও প্রস্তুতি থাকা দরকার । সব মিলিয়ে একটি জীবন হোক ।
সব কিছুই থাকুন জীবনে। সময়কে কাজে লাগান।

ফালতু গলা না ফাটিয়ে আপনার জায়গা থেকে আপনার নিজের জন্য সবকিছু ই ট্রাই করুন। কোথাও না কোথাও আপনার ভাল লাগবে। বুঝবেন আপনি এই কাজটি করতে পারবেন। জাস্ট এনজয় ইউর ওয়ার্ক প্লিজ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.