সরল উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণিল হীরক জয়ন্তী উৎসব

মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁঁশখালী টাইমস: ‘এসো মিলি প্রাণের টানে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরল আমিরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে হীরক জয়ন্তী ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পূর্ণমিলনী উৎসব শুক্রবার (২০ এপ্রিল) সকালে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে জমকালো ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও হীরক জয়ন্তী উদ্যাপন পরিষদের আহবায়ক মোঃ হাবিবুল কবির চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি বাঁশখালীর কৃত্বি সন্তান বোরহান উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম ইউএসটিসি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, বাঁশখালী যুগ্ম জেলা জজ মোশারফ হোসেন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মাইনুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী জজ সৈয়দ মাহাবুল ইসলাম, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ সিরাজুদৌল্লাহ চৌধুরী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রশিদ, হীরক জয়ন্তী উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন, বাঁশখালী প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোলতান আহমদ আশরাফী, এডভোকেট নুরুল আবছার, ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক আনন্দ র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন এবং বর্তমান সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি বোরহান উদ্দীন বলেন, শিক্ষায় জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষার গুনগত মান ভাল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভাবে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে সু- পরিচিত। আগের যুগে গরীব মানুষেরাই মুড়ি চাউল তোলে এই সমস্ত বিদ্যালয় গুলো প্রতিষ্টা করেছেন।সমাজে অনেক বিত্তশালী মানুষ থাকা সত্তেও ওরা এ সমস্ত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি। যে যত বড় মানুষ হউক না কেন যদি তার জিবনে এই রকম কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না করে তাহলে ১০০ বছর পরও তাদের কে মানুষ মনে রাখবে না। যারা এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে তাদের কে মানুষ সারা জীবন মনে রাখবে। তাই আজ দাতা এবং প্রতিষ্ঠাতাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।

তিনি আরো বলেন, মানুষ পারেনা এমন কোন কাজ নেই, কেবল সুচিন্তা ও অটুট মনোবল যার আছে সেই অসাধ্য সাধন করতে পারে আর এক্ষেত্রে শিক্ষাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। সফলতার জন্য মেধার সমন্বয় ও পরিশ্রমই সব এবং এর ফলে নিজেকে জাতির কল্যাণকর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষার চেয়ে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর নেই।”

শিক্ষার্থীরা সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সেজন্য তাদের প্রচুর অধ্যয়ন করতে হবে। যারা সুষ্ঠ মনমানসিকতা নিয়ে অধ্যয়ন করবে তাদের জীবন কখনও পিছিয়ে থাকবে না। বাঁশখালীর প্রত্যন্ত অ লের সরল আমিরিয়া বিদ্যালয়ে অনেক গুণী শিক্ষার্থী জন্ম দিয়েছে। যারা আজকে সারা বাংলাদেশে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিকালে আলোচনা সভা ও প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও হীরক জয়ন্তী উদ্যাপন পরিষদের আহবায়ক মোঃ হাবিবুল কবির চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াছ হোসেন, বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মোল্লা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল হক মৃদুল, বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সালাহউদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ, সরল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রশিদ আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিকালে আলোচনা সভা সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, আজ থেকে ৬০ বছর আগে শিক্ষাদীক্ষায় অনগ্রসর সরল আমিরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় যারা ভূমিকা রেখেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা এই এলাকা থেকে অংশ নিয়েছেন তাঁদেরকে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। সাথে সাথে স্মরণ করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার জন্ম না হলে আজ আমরা বাংলাদেশ পেতাম না। সমাজের মানবসম্পদ কে উন্নয়ন করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঁশখালী এসে সব কিছু পরিবর্তন করতে পারবে না।আগে আপনারা নিজেরাই নিজের মনকে পরিবর্তন করুন দেখবেন আপনার সমাজ ও দেশ দিন দিন পরিবর্তন হয়ে যাবে।সমাজকে পরিবর্তন করার জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। সরকার আপনাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে।আজকের দিনে আমরা যে বা যারা লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি তারা স্কুল ও শিক্ষকদের অবদানের কথা ভুলবো না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকার শিক্ষাবিস্তারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যদি এগিয়ে না আসি, নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা দায়বদ্ধ থাকব। আসুন, আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আলোকিত প্রতিষ্ঠান গঠনে কাজ করি। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা- ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গঠনের যে ভিশন- ২০২১ তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হই এবং নিরক্ষরমুক্ত বাঁশখালী গঠনে সবাই এগিয়ে আসি।

রাতে বাঁশখালীর কৃতি সন্তান এশিয়া মহাদেশের সাড়া জাগানো কন্ঠ শিল্পী ফকির সাহাবুদ্দিনের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.