চট্টগ্রামের ইংরেজি বানান পরিবর্তন কি খুব জরুরি?

চট্টগ্রামের ইংরেজি বানান পরিবর্তন কি খুব জরুরি?

আরকানুল ইসলাম

চট্টগ্রামসহ পাঁচটি জেলার নাম পরিবর্তিত রূপে যাচ্ছে। এটা না-করলেও চলত। এই শব্দগুলোর সাথে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বলায়, লেখায়, কথায় একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। তাই পরিবর্তিত রূপে যাওয়াতে কষ্ট লাগছে। এই এতদিন কি আমরা বা আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই শব্দ উচ্চারণ দিয়ে চলিনি? হঠাৎ কার পরামর্শে বা কী উদ্দেশ্য এই বানান পরিবর্তন হচ্ছে বুঝে আসছেন না। মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে ডেকে আসা মাকে এবার অন্য নামে ডাকতে হবে!

যেমন চট্টগ্রামের কথাই ধরি। আমরা বাংলায় চট্টগ্রাম ব্যবহার করলেও ইংরেজিতে Chittagong ব্যবহার করতাম। কারও কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু পরিবর্তিত রূপে এখন থেকে লেখা হবে Chattagram! উচ্চারণটা ‘চাট্টাগ্রাম’ বা ‘ ছাট্টাগ্রাম’ হয়ে যায় না?

এই পরিবর্তিত রূপ কি তবে আমরা ভুল উচ্চারণের জন্যই করছি?

‘চিটাগাং’, ‘চিটাং’ এই শব্দগুলো তো বলতে গেলে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রূপ পেয়ে গেছে!

সেটা তো গেল। এখন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে কি ইংরেজিতে University Of Chattagram লেখা বা বলা হবে? বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নথি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও কি একই পরিবর্তন আনতে হবে না? সেই পরিবর্তন করতে গেলে কত টাকা যে খরচ হবে তার হিসাব হয়তো এখনও কেউ করেনি! শুধু-শুধু সামান্য একটা পরিবর্তনে কেন এত এত টাকা খরচ করার রাস্তার বের করা হয় বুঝে আসে না, বোধেও আসে না!

এ-তো গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। এরকম ইংরেজিতে ‘চিটাগাং’ শব্দ লাগানো শত-শত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা পরিবর্তন করতে গেলে কোটি কোটি টাকা অযথা ব্যয় হবে।

এই শব্দগুলোতে একটা মায়া জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে। আবার অন্যদের চেয়ে বানানভিন্নতার কারণে আলাদা বিশেষত্ব ছিল। তেমনিভাবে কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, বগুড়া বানানেও ভিন্নতা ছিল। ব্যাপারটা খারাপ দেখাত না। এখন সে-সব এলাকার সবার আবেগে অযথা হাত দেওয়া হচ্ছে। কেন জানি না বারবার আমাদের আবেগগুলোতে হাত দিয়ে বেহাত করতে চায়!

ঝিনাইদহ, সিলেট, লক্ষীপুর, নাইক্ষ্যাংছড়ি, পদ্মাসহ এধরনের আরও আরও নামের বানান ঠিক আগের মতো থাকতে পারলে চট্টগ্রামসহ বাকি চার জেলার বানান পরিবর্তনের কী প্রয়োজন ছিল?

সুন্দরবনে বিদ্যুৎকেন্দ্র না-করার জন্য পুরো দেশবাসী এক ছিল। কিন্তু তা আমলেই নেওয়া হয়নি। আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর করা থেকে পিছু হটেছে এলাকাবাসীর তুমুল বিক্ষোভ ও প্রতিরোধের কারণে।

ইংরেজি ‘চিটাগাং’ বানান বাংলায়ও ‘চিটাগাং’ হিসেবে রাখতে আশা করি তেমন বিক্ষোভ করা লাগবে না। সবার লেখালেখিতেই যেন সেটা বানান পরিবর্তনকারীদের বোধে আসে।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাঁশখালী টাইমস

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.