আরমানউজ্জামানের মুক্তগদ্য || সারাবিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার

সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার

আরমানউজ্জামান

আজ আমরা যে সুন্দর দেশটিতে বসবাস করছি অর্থাৎ পৃথিবীর মানচিত্রে লাল সবুজের যে পতাকাটি আমাদের বাংলাদেশী বলে পরিচয় করিয়ে দেয়, ধানে ধন্যে পুষ্পে ভরা এই সুন্দর দেশটির স্বাধীনতায় রয়েছে অনেক গৌরবন্বিত ইতিহাস। যে ভাষায় সুন্দর করে মনের মাধুরী মিশিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করছি তাতেও রয়েছে রক্ত ঝরা সংগ্রাম আর ত্যাগ। আজ দেখতে দেখতে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার করেছি। এরই মাঝে আমরা হয়ত খুব ভালো কোন অবস্থানে পৌঁছাতে পারিনি অর্থনীতিতে এবং রাজনীতিতে। কখনো কখনো সাধারণভাবে বেঁচে থাকার কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ।

স্বাধীনতার পর থেকে সামরিক সরকারসহ সকল বড় রাজনৈতিক দলগুলোই কম বেশি ক্ষমতায় এসেছে বা থেকেছে। সবাই নিজেদের নিয়ে ভাবতে ভাবতে দেশ মাতার কথা ভুলে গেছেন। যত সামান্য যে সুবিধা পেয়েছি- তথ্য, প্রযুক্তি, চিকিৎসা এবং শিক্ষায় তাতে কম বেশি অবদান হয়তো তাদেরই! যা অস্বীকার করাটা অনুচিত হবে! তারা কী করেছেন আপনার আমার মনে না থাকলেও উনারা অক্ষরে অক্ষরে বলে দিতে পারবেন।

সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি, সচেতন নাগরিক, শিক্ষিত তরুণ সমাজ পেয়েছি সুতরাং ম্যান যদি ম্যান পওয়ার হয় আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে প্রয়োজন হবে না, ‘বদলে দাও’ স্লোগানের। যার যার অবস্থান থেকে সুন্দর কাজটি করলেই হবে, যে কোন স্বার্থবাদী দলের ডাকে এমন কিছু না করি যাতে আমার দেশের জাতীয় স্বার্থ ব্যহত হয়।

আমার মনে হয় এখনকার শিক্ষিত ও সচেতন তরুণ তরুণীরা একটা চমৎকার ক্যারিয়ার চায়, তাদের এসব নোংরা রাজনীতি নিয়ে ভাববার সময় নেই। ভাবতে খুবই ভালো লাগে তরুণ তরুণীরা সমাজ, জীবনবোধ ও ক্যারিয়ার নিয়ে কতো সচেতন! কিভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করলে স্মার্ট লাগবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়তি কোন কোর্সটি করলে ক্যারিয়ারে যোগ হবে বাড়তি মাত্রা, কিভাবে ইন্টারনেট থেকে আয় করা সম্ভব, ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব এসব প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে নারী, পুরুষ কেউ পিছিয়ে নেই। আমরা এমন ও দেখেছি একটু সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে প্রতিবন্ধীরা অনেক সফলতা এনে দিচ্ছে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি আমরা খুব চমৎকার একটি সময়ে বসবাস করছি। কিছু খারাপ বিষয়কে বাদ দিলে ইনশাআল্লাহ সকল সমস্যা থেকেই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

বলতে পারেন শিক্ষিত তরুণেরা জাতির হাল না ধরলে দেশ কিভাবে এগিয়ে যাবে! হয়তো এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় এখনও আসেনি! তা না হলে এ দেশ ও জাতি যাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আজ স্বাধীন, সে দেশে শহীদ ও মুক্তি-যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা শুধু বক্তব্যেই স্মরণ করার প্রবণতা-ই বেশি লক্ষণীয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মুক্তিযুদ্ধের মতো এমন পবিত্র কাজের কোন প্রকার সহযোগীতায়ই লিপ্ত না থেকেও যারা এই মহান দায়িত্বের দাবিদার বলে সার্টিফিকেট হাতিয়ে অনেক সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ প্রায় টিভি চ্যানেল ও পত্রিকার পাতাতে দেখা যায় মহান মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের অসহায় করুণ পরিণতি। যারা আমাদেরকে অন্তত একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন তাদের উপহার থেকে তাদের জন্য একটু বরাদ্দ করলে আমাদের কারোরই কোন কষ্ট থাকা উচিৎ না।

আপনারা যারা বিভিন্নভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন ভালো কিছু করুন। আমাদের মতো অনেকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেনি, জন্মের পরেই যারা স্বাধীন দেশ দেখতে পেয়েছে তাদের কাছে এসব সংবেদনশীল বিষয়গুলো সম্মানিত করে তোলাই হবে আপনাদের জন্য বিচক্ষনতার পরিচয়। সুতরাং আপনারা যারা যখনই এ দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাজে প্রমাণ করে দিন যে আর কারো দরকার নেই। দেশের জাতীয় স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দলগুলো যদি এক হয় কাজ করতে পারেন এবং সকলকে শ্রদ্ধা করে কথা বলতে পারেন! তবে প্রিয় গানটির মতোই হয়ে উঠবে দেশমাতা, “সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার “।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.