শহীদ মিনারের রূপকার বাঁশখালীর নভেরা আহমেদ!

বাঁশখালী টাইমস: ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত জাতীয় শহীদ মিনারের অন্যতম স্থপতি ও রূপকার হলেন বাঁশখালীর কৃতি সন্তান ভাস্কর নভেরা আহমেদ।

অথচ ইতিহাসের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে এ সত্যটা আজ বিস্মৃত প্রায়। শহীদ মিনার নির্মাণে হামিদুর রহমানের চেয়ে কোন অংশে অবদান কম না থাকলেও নভেরা আহমেদের নাম যথাযোগ্য মর্যাদায় উচ্চারিত হয়নি।

নভেরা আহমেদের পৈত্রিক নিবাস বাঁশখালীর কালীপুরে। একুশে পদকপ্রাপ্ত, বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ এই গুণী ভাস্কর অভিমান করে দেশ ত্যাগ করেন এবং দীর্ঘকাল ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

বাঙালি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটির রূপকার নভেরা আহমেদ এবং হামিদুর রহমান দু’জনে। হামিদুর শহীদ মিনারের দেয়ালে ম্যুরাল করেন এবং মিনারের মূল স্থাপনার পরিকল্পনা নভেরার। যিনি ডিজাইনে ডিপ্লোমা ও ত্রিমাত্রিক শিল্প ভাস্কর্য বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন, তাঁর পক্ষেই সম্ভব মিনারের নকশা তৈরি করা। কারণ হামিদুর ম্যুরাল করলেও কখনো ভাস্কর্য গড়েননি। অথচ কোন এক সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের কারণে হামিদুর রাহমানই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতির কৃতিত্ব লাভ করেন এবং নানা ঘটনা ও প্রতিকূলতায় শিল্পী নভেরা আহমেদ চলে যান আড়ালে।

এখনও সাধারণ জ্ঞানের বইতে আমরা শহীদ মিনারের ডিজাইনারের নামের জায়গায় শুধু হামিদুরের নামটি দেখতে পাই। অথচ আসল সত্য হল, শহীদ মিনারের ডিজাইন নভেরা এবং হামিদুর রহমান দু’জনে মিলেই করেছিলেন। আর এর পরিকল্পনা এসেছিল নভেরার দুটি ভাস্কর্য থেকে। সেখানে মাতৃ প্রতিকৃতি ও আনত সন্তানের সম্পর্ক ছিল, যেটা শহীদ মিনারের মূল উপজীব্য। যদিও শহীদ মিনার পরিকল্পনায় নভেরার অবদানের বিষয়টি বিতর্কিত হয়ে গেছে, তবে তাদের যৌথ কাজের অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং একসময়ে সোচ্চার হয়ে ওঠেন তাঁরা।

প্রয়াত লেখক সৈয়দ শামসুল হক তাঁর ‘হৃৎকলমের টানে’ সংকলনটিতে কয়েক জায়গায় উল্লেখ করেছেন প্রসঙ্গটি। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, “হামিদুর রহমান চিত্রকর, ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পরিকল্পনাকারী শিল্পী দু’জনের একজন, অপরজন ভাস্কর নভেরা আহমেদ”। আরেক জায়গায় লিখছেন, “মনে পড়ে গেল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশা করেছিলেন যে দু’জন তাদের এক জনের কথা আমরা একেবারেই ভুলে গিয়েছি। প্রথমত আমরা একেবারেই জানি না এই মিনারের নকশা কারা করেছিলেন, যদিও বা কেউ জানি তো জানি শুধু শিল্পী হামিদুর রহমানের নাম, খুব কম লোকে চট করে মনে করতে পারে যে হামিদের সঙ্গে আরও একজন ছিলেন । হামিদের সঙ্গে ছিলেন বলাটা ভুল, বলা উচিত দু’জনে একসঙ্গে এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের রূপটি রচনা করেছিলেন। অপর সেই ব্যক্তিটি হচ্ছেন নভেরা আহমেদ।”

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.