সরলে পূর্বনির্ধারিত মোনাজেরা থেকে পিছুহটেছে সুন্নিরা

নিজস্ব প্রতিবেক: মিনজিরিতলার পর এবার সরলের কথিত মুনাজেরা (বাহাস) থেকেও পিছু হটলেন আহলে সুন্নত দাবীদারেরা। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পযর্ন্ত স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এবং বাজারের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ বৈঠক করেও শেষ পযর্ন্ত উল্টা পাল্টা শর্ত জুড়ে দিয়ে আহলে সুন্নত দাবীদারেরা পিছু হটেন। আহলে সুন্নত দাবীদারেরা মুনাজেরা আয়োজনে অন্যান্য শর্তের সাথে ডিসির উপস্থিতি, কোরআন হাদিস বাদ দিয়ে কেয়াস ফেকাহ দিয়ে দলিল দেয়ার সুযোগ দাবী এবং বায়তুল মোকাররমের খতীবকে বিচারক হিসেবে রাখার শর্ত জুড়ে দেয়। এর ফলে মিনজিরিতলার পর সরলের নতুন বাজারের এলাকায় ওলামায়ে দেওবন্দ তথা কওমী আলেমদের সাথে আহলে সুন্নত দাবীদার অনুসারীদের কোন মুনাজেরা (বাহাস) হচ্ছেনা। বাহাস ভন্ডুল হয়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা উভয় পক্ষকে উস্কানীমুলক আলোচনা, মাহফিলে গালাগালি ও আপত্তিজনক কথা বার্তা পরিহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলায়ও এভাবে বাহাসের কথা বলে তারা পিছু হটেন। বর্তমানে বাহারছড়ায় উভয় পক্ষের একাধিক বৈঠক হলেও মুনাজেরা বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে পৌছানো যায়নি।
জানা গেছে, বাঁশখালীর সরল নতুন বাজারে প্রতি বছরের ন্যয় কওমীদের মাহফিল শেষ হওয়ার পর আহলে সুন্নত দাবীদাররা একটি মাহফিল আয়োজন করে। উক্ত মাহফিল থেকে গভীর রাত পযর্ন্ত আল্লামা আহমদ শফিসহ কওমী মাদরাসার মুরুব্বীদের অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়ার পর আবার মাইকে কওমীদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য মাইকে আহবান জানালে বাজারের ব্যবসায়ীরা কওমীদের পক্ষে তাদের মাহফিলে উপস্থিত হয়ে ওই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নগদ ১০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৪ লাখ টাকা করে জামানত দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী শনিবার উভয় পক্ষ ওই জামানতের টাকা পরিশোধ, স্টাম্পে স্বাক্ষর এবং উভয় পক্ষে লিখিত প্রশ্ন জমা দেয়ার কথা ছিল।
শেষ পযর্ন্ত শনিবার দু’পক্ষ বৈঠকে এলেও আহলে সুন্নত অনুসারীরা নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে জামানত দিতে গড়িমসি করে। এমনকি কওমীদের কাফের ফতোয়া দিয়ে নানা উচ্ছৃংখল আচরণও করে তারা। ফলে মুনাজেরা আয়োজনে গঠিত কমিটির সদস্যরা ক্ষীপ্ত হয়ে দায় দায়িত্ব থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। এসময় তারা কোন পক্ষ যাতে এলাকায় উস্কানিমুলক কিংবা আপত্তিজনক কোন বক্তব্য না রাখে এবং আগামীতে এলাকার শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে উস্কানী মুলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন। কোন অবস্থাতেই শান্ত সরলের মাটিকে অশান্ত করতে দেবে না বলেও তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
এসময় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইদ্রীস,মেম্বার সেলিম ,মেম্বার মনসুর , শমসুল আলম, আবদুল মালেক, কওমীদের পক্ষে মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, মাওলানা মুজিবুর রহমান, সাংবাদিক শফকত চাটগামী, মাওলানা মোস্তাক আহমদ, মাওলানা হোসাইন, মাওলানা মনসুর,দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ ও দৈনিক সাঙ্গু প্রতিনিধি সাংবাদিক মুহাম্মদ মিজান বিন তাহেরসহ এলাকার উভয় পক্ষের শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এখানে হিন্দু বৌদ্ধ, মগ মুরুমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন যেভাবে শান্তিতে বসবাস করে ঠিক তেমনি কওমী, তাবলীগ, আহলে সুন্নিরাও এদেশে থাকবে। এটাই দেশের সৌন্দর্য্য। কিন্তু এক পক্ষ আরেক পক্ষকে আক্রমণ করার, উস্কানী মুলক আচরণ কারা, কটুক্তি করা, হুমকি দেয়া এমনকি তাদের আকিদাহ বিশ্বাসের ওপর আঘাত করার অধিকার কারো নেই।
সবাই যে যার মত করে এলাকার শান্তি শৃংঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সাধারন জনগনের প্রতি বিনীত অনুরোধ করেন বৈঠক অায়োজক কমিটি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.