দাঁত ব্যথা বা মাড়ি ফুলে গেলে করণীয়

দাঁত ব্যথা বা মাড়ি ফুলে গেলে করণীয়

দাঁত ব্যথা একটি আতংকের নাম। দাঁতের ব্যথায় যে ভোগে বা ভুগছে, এমন ব্যক্তি
জানে কষ্টটা কতটা মারাত্মক। এই ব্যথা মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তা এক মিনিটও সহ্য
করে থাকা সম্ভব নয়। আজ আমরা দাঁতের ব্যথার কারণ ও কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা
সম্পর্কে জানবো।

দাঁতের ব্যথা কী?

সাধারণত ডেন্টাল ক্যাভিটি (Dental cavities) বা দাঁতের ক্ষয়, ইনফেকশনের কারণে দাঁতের ব্যথা হয়ে থাকে। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করলে বা পরিষ্কার না রাখলে দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। কখনও কখনও এই সমস্যা বংশগত কারণেও হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত হঠাৎ করে শুরু হয় যার কারণে কখনও কখনও হালকা অস্বস্তিবোধ বা দাঁতে তীব্র ব্যথা হতে পারে। ব্যথার তীব্রতা রাতের বেলা বেশি হয়ে থাকে। ইনফেকশন দ্বারা আক্রান্ত দাঁতের চারপাশের চোয়ালে ঘা হতে পারে এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করার ফলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই সমস্যা পুরোপুরিভাবে ভালো হয় না এবং এক সময় তা স্থায়ীরূপ ধারণ করতে পারে। ঠাণ্ডা বা গরম কোন কিছু খাওয়ার ফলে এর তীব্রতা বাড়তে
পারে।

দাঁতের ব্যথার কারণগুলো কী?

বিভিন্ন কারণে দাঁতের ব্যথা হতে পারে। যেমনঃ নানা রকম দাঁতের রোগ, দন্ত ক্ষয়,
দাঁতে ফোঁড়া হওয়া, মাড়ির রোগ, ভাঙ্গা দাঁত, চোয়ালের অস্বাভাবিকতা, অপারেশন
পরবর্তী দাঁতের ব্যথা, দাঁতের স্তরের ক্ষত ইত্যাদি।

দাঁতের ব্যথা কোন কোন বিষয়গুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে?

ডায়াবেটিস, দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ যেমন- ক্যান্সারের
কেমোথেরাপির জন্য ব্যবহৃত ঔষধ বা কোনো রোগ যেমন- এইচ-আই-ভি/এইডস
এর কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া), ধূমপান, জেরোস্টোমিয়া (নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ ব্যবহার, মাথায় বা ঘাড়ে আঘাত পেলে, রেডিয়েশন থেরাপির পরে বা শোগ্রেন্স সিন্ড্রোমের কারণে মুখ গহ্বর শুষ্ক হয়ে যাওয়া), অস্বাভাবিক খাদ্যাভাসের কারণে দাঁতের ব্যথা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। কিশোর-কিশোরী ও বয়স্কদের এই
সমস্যা বেশি হয়।

কিভাবে দাঁত ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়?

দাঁতের ব্যথা হলে যত দ্রুত সম্ভব ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হবে।

কী ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে?

বাজারে বিভিন্ন ধরনের টুথপেস্ট পাওয়া যায়, তাই দাঁতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হয়ে তার পরামর্শ অনুযায়ী টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিৎ।

দাঁত ব্যথার সমাধানে করণীয় কী?

দাঁতের ব্যথা হলে তা থেকে স্থায়ীভাবে সেরে উঠার জন্য যত দ্রুত সম্ভব ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে, তৎক্ষণাৎ ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া সম্ভব না হলে নিম্নলিখিত উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড মাউথয়াশ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তবে এর স্বাদ তেতো হলে পানির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ওরেগানোর তেল অলিভ অয়েল বা হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে মিশ্রণটি তুলা দিয়ে যে দাঁতে ব্যথা সেখানে লাগাতে হবে।

রসুনের কোয়া বা রসুন পিষে লবণের সাথে মিশিয়ে মিশ্রণটি লাগাতে হবে।

পেঁয়াজ কেটে বা পেঁয়াজের রস তুলা দিয়ে ব্যথার স্থানে দিতে হবে।

শসা কেটে বা বেটে যে দাঁতে ব্যথা ঐ স্থানে লাগাতে হবে।

দাঁতের ব্যথা রোধে লবঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি যেমন উপকারী তেমনি সহজলভ্য। দুইটি লবঙ্গ গুঁড়া করে তার সাথে কিছু পরিমাণে অলিভ অয়েল বা যেকোনো ভোজ্য তেল মিশিয়ে নিন। যে দাঁতে ব্যথা অনুভব করছেন সেখানে লাগিয়ে রাখুন। দিনে কয়েক বার এভাবে ব্যবহার করলে দাঁতের ব্যথা কমে যাবে।

দাঁতের ব্যথা বা মাড়ি ফোলা কমানোর জন্য বরফ ব্যবহার করতে পারেন। এরা
আপনার দাঁতের আশেপাশের স্নায়ুকোষগুলোকে অবশ করে আপনার ব্যথার অনুভুতি কমিয়ে দেয়। এক টুকরা বরফ নিয়ে ব্যথার জায়গায় ত্বকের উপরে ১৫ মিনিট রাখুন। এভাবে দিনে ৩ থেকে ৪ বার করুন।

দাঁতের ব্যথা কমানোর খুবই সহজ উপায়গুলোর মধ্যে একটি হল একটু গরম পানিতে লবন মিশিয়ে কুলি করা। এটি দাঁত এবং মাড়ির ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ গড়গড়া করে কুলি করে নিন। এভাবে দিনে কয়েকবার ব্যবহার করুন।

বেকিং সোডার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে যা আমাদের দাঁতের ব্যথা প্রশমনে সাহায্য করে। আধা কাপ পানির মধ্যে এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। সাথে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিতে পারেন। এই মিশ্রণটি দাঁতের পাশে ব্যথার জায়গায় লাগিয়ে রাখুন। এরা মুখের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।

 

আরও পড়ুন :

পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে ৭ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.