ময়ুখ চৌধুরী: জন্মদিনে কবির জন্য অঞ্জলি || মাঈন উদ্দিন জাহেদ

ময়ুখ চৌধুরী, প্রধানত কবি। জন্ম ১৯৫০সালে ২২ অক্টোবর, চট্টগ্রামের দক্ষিণ নালাপাড়ায়। আমাদের প্রিয় কবি, প্রিয় শিক্ষক, প্রিয় মানুষ। তাঁর প্রকাশিত আটটি কাব্য ও একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ। তিনি লেখালেখির চব্বিশ বছরে প্রকাশ করেন প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কালো বরফের প্রতিবেশী'(১৯৮৯)। আর পঞ্চম গ্রন্থেই জানিয়ে দিয়েছেন ‘ আমার আসতে একটু দেরি হতে পারে(২০০২)। আলস্য কিংবা অনিহা নয়, তিনি এমনই স্থির অথচ চলিষ্ণু, তবে আপন ভাবনায়, কবিতার কালো কালো অক্ষর হৃদয় ক্ষরণ ছুঁয়ে। প্রথম পাঁচটি কাব্য একসাথে বের হলো ২০১৬ তে চট্টগ্রামের সনামধন্য বইবিপণন সংস্থা বাতিঘর থেকে।এর পর ‘পলাতক পেণ্ডুলাম'(২০১৫),’ক্যাঙ্গারুর বুকপকেট (২০১৬),’পিরামিড সংসার'(২০১৭)।
প্রবন্ধ গ্রন্থ : উনিশ শতকের নবচেতনা ও বাংলা কাব্যের গতিপ্রকৃতি’ প্রকাশিত হয় (১৯৯৬) সালে।
সম্পাদনা করেছেন: প্রতীতি (১৯৬৩৮),কবিতা(১৯৭০),অসভ্য শব্দ(১৯৭৩)।
এ মেধাবী মানুষটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৭৪ সালে ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে শামসুর রাহমানের কবিতা বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন। অভিসন্দর্ভ ছিলো: রবীন্দ্রনাথের পোয়েটিক ওরিয়েন্টেশন। গবেষণা- তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগে অধ্যাপনায় তার তত্ত্বাবধানে পিএইচডি পাওয়াও অনেক গৌরবের বিষয় ছিল। এখন তিনি অবসরে কবিতা যাপনে আছেন। বিজ্ঞাপিত হয়েও পাইনি কবির ‘কপিলাবস্তবাদ ও অন্যান্য, চরণেরা হেঁটে যাচ্ছে মুণ্ডুহীন’, ‘জারুল তলায় অন্য রকম ছায়া’।

দিবসের নানা আয়োজনে দৈনিক পত্রিকার নানান পরিবেশনায় অনেকগদ্য পড়েছি কবির, কিন্তু গ্রন্থাকারে আমরা পাইনি। কবিতার পাড়াপ্রতিবেশী
নামে ধারাবাহিক গদ্যটি বেশ আলোড়ন তুলেছিলো সাহিত্যপাড়ায়, তা আজও গ্রন্থের মোড়ক পেলো না।

এ প্রিয় কবির স্বপ্নকল্পনায় মিশে আছে এ জনপদের শিল্পের উতুঙ্গ চুড়া। কবির দ্বিতীয় গ্রন্থের প্রথম কবিতার পংক্তিগুচ্ছ:

কবিতা, দরজা খোলো; আমি অনিদ্র জোনাকী
নিজের আগুনে পুড়ে রয়ে গেছি অবুঝ সবুজ।
তোমাকে রচনা করি এ রকম সাধ্য বলো কই!
দ্বিদল দরজা খোলো, আমাকে রচনা করো, কবিতাকুমারী।
স্বপ্ন ছাড়া সঙ্গে আর কিছুই আনিনি,
কবিতা, তোমার ঘরে জায়গা হবে? বালিশ ছাড়াই
যুগল পঙ্ ক্তির মতো উঁচু-নিচু শুয়ে থাকতে চাই।
( কবিতা, তোমার দরোজায়, অর্ধেক রয়েছি জলে, অর্ধেক জালে)

অষ্টম কাব্য ‘পিরামিড সংসার’ এর একটি ছোট্ট কবিতা :

কেউ ডাকছিল?
– না।
ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছিল?
– না।
তবু কেন ছুটে যাওয়া পলাতক ঝর্ণার মতন!

কেন যেন এসেছে ফেলে জলছবি
প্রবাহিত জলের ওপর।
(জলছবি)

পলাতক ঝরণার মতন সময়ের এমন জলছবির শব্দশিল্প বুনে বুনে যাপনের অনিদ্রায় কবি পাড় করেছেন আজ ৬৭ বছর নগর থেকে দূরে, কবিতার কাছে। কবিকে জন্মদিনে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।
………………….
২২অক্টোবর’১৭

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.