সাহিত্যে এবছর নোবেল বিজয়ী কাজুও ইশিগুরো

(সাহিত্যে নোবেল,২০১৭।)
===================
Kazuo Ishiguro
উপন্যাসিক,চিত্রনাট্যকার,ছোটগল্পকার।
জন্মঃ ৮ই নবেম্বর ১৯৫৪,নাগাসাকি,জাপান। ছয় বছর বয়সে পরিবারসহ বৃটেনে আগমন ও বর্তমানে বৃটিশ নাগরিক।

”As a writer, I’m more interested in what people tell themselves happened rather than what actually happened.“

“যা আসলে ঘটছে আমার কাছে বিবেচ্য নয়,আমার সত্যিকারের মনোযোগ,মানুষ কি ভাবছে বা কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে ব্যাপারটা।”

নোবেল কমিটি‘র বিশ্লেষণ ’কাজুও ইশিগুরো সম্পর্কে,যাঁর উপন্যাস ‘তীব্র আবেগমন্ডিত l বস্তুতান্ত্রিক দুনিয়ার মায়ার আঁধারে ‘গভীর শূন্যতাবোধ’ উন্মোচন করেছে বলে মনে করছে নোবেল কমিটি, তাই বর্ননা করেছে উপসংহারে।
জাপানী চলচিত্রকার কুয়াসাকো,তাঁর নানান চলচ্চিত্রে ঘটনার ’গভীরের নির্লিপ্তে ঢাকা’ ঘটনা কে যেমন দেখেন, ইশিগুরোর উপন্যাস তেমনি,অনউন্মোচিত জীবন ভাবনার ধীর উন্মোচন। “
ইশিগুরোসহ অন্য যে কয়েকটি নাম এবার মনোনয়োনের তালিকায় ছিলো,
Margaret Atwood,
Ngugi Wa Thiong’o এবং
Haruki Murakami,
ইশিগুরোর নামটা হঠাৎ এসেছে।

গত কিছুদিন ধরে,এঁদের সম্পর্কে অল্পসল্প জানার চেষ্টা করি,সব বছরে সাহিত্য নোবেল ঘোষণার সময় আমার এই আগ্রহ আসে। গতবছর যেমন চমকে গিয়েছিলাম,গীতিকার-সঙ্গীতজ্ঞ বব ডিলানের মনোনয়নে।

ইশিগুরো’র তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া —
“Part of me feels like an imposter and part of me feels bad that I’ve got this before other living writers,” said Ishiguro. “Haruki Murakami, Salman Rushdie, Margaret Atwood,–

সাহিত্যে ১১৪ তম নোবেল জয়ী’র
’তীব্র আবেগময় উপন্যাস,বস্তুবাদের মায়ার আড়ালের গভীর শূন্যতাকে প্রকাশ করে ।”
কাজুও ইশিগুরোর আটটি বই প্রকাশিত হয়েছে, তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস
‘দি রিমেইনস অব দি ডে’,‘নেভার লেট মি গো’।
কাজুও ইশিগুরো সম্মানিত হবার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, পৃথিবী আজ অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে অতিক্রম করছে। এই পরিস্থিতিতে সকল নোবেল পুরস্কার পৃথিবীতে মঙ্গলের আলোক আনবে।
লক্ষনীয় “সকল নোবেল“। নোবেল এর আভিজাত্য নিয়ে সংশয়ের কালে,এই আশাবাদ আমার ও মনে।

নাগাসাকিতে জন্ম,ওই শহরে আণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞের ইতিহাস জেনেছেন যুক্তরাজ্যে পাঠ্যবইয়ে। নিজের শিখড়ের প্রতি প্রতি টান সবসময় আছে। তার পা পড়েছিল নাগাসাকিতে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর। ইংরেজিতে লেখেন,তার লেখার সম্পর্কে জাপানি পাঠক অনেকে জানে না। এশিয়ার লেখক,ইংরেজি মাধ্যম, নোবেল জয়,প্রমান করে কোন উচ্চতায় তিনি পৌঁছে গেছেন।

আরেক বিখ্যত জাপানী লেখক ”হারুকি মুরাকামি” পাননি,জাপানি বংশোদ্ভূত ”ইশিগুরোর” নোবেল জয় তাদের জন্য ও আনন্দের বার্তা নিয়েএসেছে।
যেমন কেনিয়ার কথাসাহিত্যিক ”নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো‘র জন্য আফ্রিকানরা অপেক্ষায় ছিলো।
জানলাম, ইশিগুরো ‘অনেকটা জেন অস্টিন আর ফ্রানৎস কাফকার মিশেল’ যেখানে বার বার এসেছে স্মৃতিময়তা, বহমান দিন আর মোহমগ্নতা। জেনেছি তারঁ ভাষা নির্বিকার, অসাধারণ বর্ণনা রীতি,প্রকাশভঙ্গি খুবই পরিমিত- এটাই ইশিগুরোকে চিনিয়ে দেয়,সাহিত্যবোদ্ধাদের অভিমত।
আগে না জানলে এবার তারঁ আগের ও আগামীর চরিত্রদের সঙ্গে দেখা হবে। ভবিষ্যতে ইশিগুরোর চরিত্ররা অমীমাংসিত গভীর বিষণ্নতায় নুতন পথে চলবে।

নোবেল কমিটি সেই কথাই জানিয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.