রমজান: ইসলামী জ্ঞানার্জনের মাস

রায়হান আজাদ: মাহে রমজান ইসলামী জ্ঞানার্জনের মাস। এ মাসে দিনের বেলায় সাধারণত ব্যস্ততা কম থাকে। সবাই আমলে সালেহ তথা ভাল কাজে একটু বেশি মনোযোগ দিতে চান। কুরআন-হাদীস তেলাওয়াত ও তাফসীরসহ অধ্যয়ন করা তো সবচেয়ে উত্তম আমলে সালেহ – শ্রেষ্ঠ মহৎ কাজ। হাদীস শরীফে এসেছে, ‘সবচেয়ে উত্তম ইবাদত হল কুরআন তিলাওয়াত করা’। এ তিলাওয়াত অবশ্যই অর্থ ও শানে নুযুলসহ বুঝে হতে হবে। হাদীস শরীফে আরো আছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে শেখায়। রমজানের মাসের এত গুরুত্বের নেপথ্যে আছে এ মাসে আল্লাহর কালাম আল কুরআন নাযিল হওয়া। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে’ (আল-বাকারাহ : ১৮৫)। সুতরাং এ মাসে আল কুরআন এক খতম তিলাওয়াত করা ও অধ্যয়ন করা প্রত্যেক মুসলমানের মৌলিক দায়িত্ব।
যে কেউ নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবি করলে কিংবা মুসলমানি রসম-রেওয়াজ মত জীবন ধারণে আগ্রহী হলে তার জন্য ইসলামী জ্ঞানার্জন ফরজ-অবশ্য কর্তব্য। যে বিষয় জানাই থাকে না, সে বিষয়ে ভাসা-ভাসা ধারণার ওপর আমল করা সঠিক নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দ্বীনি জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। কুরআনে কারীমের প্রথম আয়াত নাজিল হয় ‘পড়–ন, আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত হতে। পড়–ন, আমার প্রতিপালক মহাদয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না।’( সুরা আল আলাক : ১-০৫)
পড়াশোনার গুরুত্ব সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে, ‘প্রত্যেক মুসলমান নরনারীর উপর কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞানার্জন করা ফরজ।’ যাদের কুরআন তিলাওয়াত ছহীহ নয়, তারা এ মাসকে কাজে লাগিয়ে তিলাওয়াত ছহীহ করে নিতে পারেন আর যারা কুরআন হাদীসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মুখস্থ করার মনস্থির করেছেন তারা একটি রুটিন করে তা প্রতিদিন আবৃত্তি করতে পারেন। দেখা যায়, অধিকাংশ মুসলিম ভাইয়েরা শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন না। অশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা মারাত্মক গুনাহ, এতে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। তিলাওয়াতে ভুল-ভ্রান্তি থাকলে নামাজসহ কোন ইবাদতই আল্লাহ পাকের দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না। কুরআন শরীফে এসেছে, ‘আর কুরআন তিলাওয়াত কর তারতীল (শুদ্ধ, স্পষ্ট ও সুবিন্যস্ততা) সহকারে।’ (সুরা মুয্যাম্মিল-০৪)
যার কাছে কুরআন হাদীসের কোন জ্ঞান নেই, সে বড়ই দুর্ভাগা। তার জীবন ব্যর্থ, অসার। দৈনন্দিন জীবনে আমাদেরকে বহু ধর্মীয় সমস্যায় পড়তে হয়, যদি এ ব্যাপারে নিজেরই ইসলামী দৃষ্টিকোণ জানা থাকে তাহলে মুসলমান হিসেবে আত্মপরিচয় সার্থক হয়। আমরা আশা করছি, রমজানের বাকী দিনগুলোতে আল কুরআনসহ সকল ধরণের ইলমে দ্বীন অর্জনের জন্য কাজে লাগাতে সবাই সচেষ্ট হবেন।
আল্লাহ আমাদের অন্তরকে আল কুরআনের দিকে ঝুঁকে দিন। আমীন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.