সাতকানিয়ায় করোটিহীন শিশুর জন্ম!

ডা. মো. আজিজুল হাকিম > বাঁশখালী উপজেলার পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোটিহীন শিশুটি মৃতাবস্থায় জন্ম নেয়। খবরটি সামাজিক মাধ্যমে ছবিসহ ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে দর্শনার্থীরা ভীড় করে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। কেউ লিখছেন অদ্ভুত!!! কেউ বলছেন কেয়ামতের আলামত। আসুন প্রকৃত ব্যাপারটি জেনে নিই।

সাধারণ মানুষের কাছে কিম্ভুতকিমাকার মনে হলেও একজন ডাক্তার বা মেডিকেল শিক্ষার্থী প্রথম দিন থেকেই এই বিষয়ের সাথে পরিচিত। ১ম বর্ষের এমব্রায়োলজি ‘Langmann’ বইটি খুললেই এই ধরণের ছবি প্রথমেই চোখে পড়ে। এরপর ৫ম বর্ষে অবস্টেট্রিকসএ (প্রসূতি বিদ্যা) অবশ্য পাঠ্য এটি। তাহলে বোঝা গেল বাচ্চা মায়ের পেটে ভ্রূণ অবস্থায় বিভিন্ন পর্যায়ে এ সমস্যাটি হতে পারে। এটি মোটেও নতুন, অদ্ভুত, অভিশাপের কারণ বা কেয়ামতের আলামত নয়।

14877686_815985858505065_744998538_n                                                    14872443_815985928505058_1516585220_n

এবার আসুন মূল আলোচনায়। করোটিহীন এ অবস্থাকে Anencephaly বলে। এটি গর্ভাবস্থায় শিশুমৃত্যু বা গর্ভপাতের অন্যতম কারণ। প্রতি ১০০০০ (দশ হাজার) নবজাতকের একজন এরকম হতে পারে। সাধারণত ভ্রুণাবস্থায় ২৩-২৬ দিনের মধ্যে এ ত্রুটি ঘটে যেতে পারে। কোন উল্লেখযোগ্য কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলেও গর্ভবতী মায়ের ফলিক এসিড স্বল্পতায় এরকম ত্রুটি হতে পারে ধারণা করা হয়। তাই একদম কনসিভের পরিকল্পনার শুরু থেকেই ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট নিলে নিশ্চয় তা রোধ করা সম্ভব।

Anencephaly’র বাচ্চা মৃতাবস্থায় জন্ম নিতে পারে বা জন্মের সাথে সাথেই মারা যেতে পারে। যদিও অল্প কিছুদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও রয়ে যায়। সেক্ষেত্রে বাচ্চা অন্ধ, বধির এবং অনুভূতিহীন অবস্থায় থাকবে। আর এ সমস্যা গর্ভাবস্থায় জেনে নেয়া কোন ব্যাপারই না। নিয়মিত চেক আপের অংশ হিসেবে আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG of pregnancy profile) করলেই করোটিহীন ভ্রুণ টের পাওয়া যাবে। এছাড়া মায়ের রক্তে আল্ফা ফিটো প্রোটিন ( Serum Alpha- Fetoprotein) এনজাইমের মাত্রা থেকেও জানা যেতে পারে। Anencephaly প্রতিকারের সুযোগ নেই তাই আপনার সচেতনতা পারে প্রতিরোধ করতে। কোন দম্পতির একটি বাচ্চা Anencephaly বা অন্যকোন জন্মগত ত্রুটিযুক্ত হলে পরের ইস্যুর ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

লেখক : লেকচারার, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ,

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।

Save

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.