BanshkhaliTimes

১২ দফা আশ্বাসে নির্বাচনী মাঠে ছনুয়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী এম হারুনুর রশিদ

মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নে মোটর সাইকেল প্রতীকে নির্বাচনী অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশিদ তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। রোববার (২৯ মে) রাতে তার নিজ বাসভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাধারণের জনগণের মাঝে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। ইশতেহার ঘোষণার পূর্বে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এম. হারুনুর রশিদ।

এ সময় তিনি বলেন, ‘হাজার মানুষের শ্রমে এবং ভালোবাসায় গড়া আমার গর্ভ আমার অহংকার আজকের ছনুয়া মডেল ইউনিয়ন। আমি আবারও আমার জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমার ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য আরও নান্দনিক এবং নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন ছনুয়া মডেল ইউনিয়ন উপহার দিতে চাই। আমি এম. হারুনুর রশিদ পুনরায় চেয়ারম্যান হয়ে আমার ইউনিয়নবাসীকে সেবার প্রত্যাশায় আবারও হাজির হয়েছি। আপনার জানেন, আমার এই এলাকায় বেড়ে ওঠা এবং আমার কৈশোর-যৌবন আপনাদের সাথে কেটেছে। আমার স্বপ্ন আপনাদেরকে নিয়ে। আমার ইউনিয়ন প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর কিন্তু প্রায় সময়ই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। আমি এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে ছনুয়াকে মডেল ছনুয়াতে রূপান্তর করব। ইনশাল্লাহ।’

এরপর তিনি ১২টি অঙ্গীকার নিয়ে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। তাঁর ঘোষিত ইশতেহারসমূহ হলো- ১) মানসম্মত শিক্ষা, ২) গণমুখী এবং সেবামুখী প্রতিষ্ঠান, ৩) সামাজিক সুরক্ষা সেবাসমূহ, ৪) অবকাঠামোগত উন্নয়ন- রাস্তাঘাটা নির্মাণ, সংস্কার ও অন্যান্য, ৫) স্বাস্থ্য সেবা, ৬) পেশাজীবী ফোরাম এবং আমার ছনুয়া, ৭) ব্যবসায় সংগঠন, ৮) সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণ, ৯) কৃষিকাজ এবং অন্যান্য কাজে উদ্ব¦ুদ্ধকরণ, ১০) গাড়ীচালক, হেলপার এবং মাঝিদের সেবা, ১১) প্রবাসী কল্যাণ বান্ধব ফোরাম এবং ট্রেনিং সেন্টার, ১২) স্পোটিং কাব এবং মিনি পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করা।

ইশতেহার ঘোষণার পর জনসাধারণের মাঝে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন এম. হারুনুর রশিদ। এতে তিনি বলেন, আপনারা গতবারও আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি ক্ষমতায় ছিলাম ২০১৭-২০২২ অর্থাৎ এই ৫ বছর, তার মধ্যে ২টি বছর চলে গেছে করোনা মহামারীর মধ্য দিয়ে অর্থাৎ আমি আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি মাত্র ৩ বছর। আর এখন এলাকার প্রায় পরিবারে বিদ্যুৎ, ফ্রিজ, টিভি, মোটর দিয়ে গভীর নলকূপ থেকে পানি তোলা আর মোড়ে মোড়ে কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিন, ইন্টারনেট, পোল্ট্রি ফার্ম আরও কত কিছু আছে এবং ভবিষ্যতে হবে।
রাজনৈতিক জীবনের প্রিয় ছোট, বড়, সহযোদ্ধা, সহকর্মী আমার ইউনিয়নের প্রিয় জনগন আপনাদের স্নেহ, ভালবাসার কাছে আমি কৃতজ্ঞ, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি সার্থক ও সফল। আমি সারা জীবন এভাবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই, আপনাদের ভালবাসায়। আমি সৌভাগ্যবান। আমি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমার শ্রদ্ধেয় নেতা আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এমপি মহোদয়কে ও আপনারা গভীরভাবে ভালোবাসেন। আপনাদের অকৃত্রিম ভালবাসা ও আকুণ্ঠ সমর্থন আমাকে শিখিয়েছে ছনুয়া ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামই আমার গ্রাম, আমার অস্তিত্বের শেঁকড়। আমি সর্বাত্বক চেষ্টা করেছি ছনুয়া ইউনিয়নের প্রতিটি প্রান্তে গিয়ে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনার এবং প্রয়োজনে জনগণের পাশে থেকে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর। ছনুয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ যারা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন, আকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে পাশে ছিলেন, আমাকে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে চেয়েছিলেন আপনাদের উদ্দেশে বলছি, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আপনাদের সাথে নিয়ে ছনুয়া ইউনিয়নকে এগিয়ে নেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও করে যাবো।
তাই আসন্ন ১৫ জুন ২০২২, নির্বাচনে আমি আবার ও আমার জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমার ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য আরও নানন্দিক এবং নাগরিক সুবিধাসম্পন্ম মডেল ইউনিয়ন উপহার দিতে চাই। আপনাদের সেই আশ্বাস, সহযোগিতা, আশীর্বাদ কামনা করছি। সকল ইউনিয়নবাসীর আশ্বাস ও ভালোবাসা পেলে আমরা সবাই সম্মিলিত ভাবে আমার ছনুয়া ইউনিয়নকে নানন্দিক এবং নাগরিক সুবিধাসম্পন্ম মডেল ইউনিয়ন উপহার দিব। ইনশাআল্লাহ।
আশা করি আমার প্রিয় এলাকাবাসী সবকিছু বিবেচনা আগামী ১৫ জুন বুধবার ব্যালটের মাধ্যমে সঠিক জবাব দিবেন।’

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top