BanshkhaliTimes

হজ কীভাবে আদায় করবেন

BanshkhaliTimes

হজ কীভাবে আদায় করবেন

বর্তমানে এ বছরের হজ কার্যক্রম চলছে। যারা আগামী বছর হজে যাবেন, তাদের জন্য এ লেখাটি কিছুটা হলেও কাজে আসতে পারে। আমরা জানি, জিলহজ মাসের ১ থেকে ১৩ তারিখ উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য অত্যন্ত ফযিলতের।

এই সময়ের মধ্যে ৮ থেকে ১৩ তারিখ পবিত্র মক্কায় হজ পালিত হয়। ১০ জিলহজ ঈদুল আজহা। এর সঙ্গে সঙ্গে ১০, ১১, ১২ এ তিন দিনের মধ্যে কোরবানি করা। এক থেকে ১০ জিলহজ কোরবানি পর্যন্ত রয়েছে চুল নখ ইত্যাদি কর্তন না করা। এ সময়ের মধ্যে নফল রোজা রাখা। অন্য আহকাম ওয়াজিব, সুন্নত কিন্তু পবিত্র মক্কায় হজ হলো ফরজ।

জিলহজের ৮ থেকে ১৩ তারিখ ছয় দিনব্যাপী চলে হজ কার্যক্রম। কিন্তু ১৩ জিলহজকে অধিকাংশ হাজি পরিহার করে ১২ জিলহজ হজ কার্যক্রমে ইতি টানার প্রবণতা বহু বছর আগে থেকে চালু হয়ে গেছে। পবিত্র মক্কা নগরীর সঙ্গে মিনা—আরাফাত-মুজদ্দালেফাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৬ বর্গ কি.মি এরিয়া নিয়ে পাঁচদিন ব্যাপী হজ।

যারা হজের নিয়ত করে পবিত্র মক্কা নগরীতে গমন করছেন তাদের কেউবা দুই-এক দিন আগে, কেউবা আরো আগে পবিত্র মক্কা নগরীতে এসে অবস্থান নেন। যারা হজের আগে পবিত্র মদিনা জেয়ারতে গেছেন, তারাও ৭ জিলহজ বা তার আগে পবিত্র মক্কায় পৌঁছে যান।

আমাদের মাজহাব মতে হজ্বের তিন ফরজ, ছয় ওয়াজিব। আবার হজ তিন প্রকার। যারা কেরান বা এফরাদ হজ করছেন তারা এহরাম অবস্থায় আছেন, যদিওবা তাদের সংখ্যা নগণ্য। এহরামবিহীন অবস্থায় থাকা তামত্তো হাজিগণ ৭ জিলহজ সুবিধা মতো সময়ে হজের নিয়তে এহরাম করে নিবেন। যা হজের তিন ফরজের প্রথম ফরজ।

এজেন্সির দিকনিদের্শনা মতে , তাদের নিয়ন্ত্রিত হজযাত্রীগণ মোয়াল্লেম বাসে মিনার তাবুতে পৌঁছবে। মিনায় অবস্থান করা, ওয়াক্ত ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবাদতে থাকা বাদে আর কোনো করণীয় নেই। ৯ জিলহজ সকালে মিনা থেকে আরাফাত রওনা হওয়া সুন্নত। এ ক্ষেত্রেও সৌদি মোয়াল্লেমের নিয়ন্ত্রণে ৮ জিলহজ দিবাগত রাত হজযাত্রীগণকে মিনা থেকে আরাফাতের তাঁবুতে নিতে শুরু করে। মিনার তাঁবুতে প্রতি হজযাত্রীকে একটি করে বেড, বালিশ, কম্বল দেওয়া হয়। কিন্তু আরাফাতে ঐ রকম ব্যবস্থা নেই। যেহেতু আরাফাতে অবস্থানের সময় কম।

আরাফাতে সকালে গোসল করতে পারাটা সুন্নত। এখানে মসজিদে নমেরাতে ইমামের সঙ্গে নামাজ পড়তে চাইলে ঐ নিয়মে পড়তে হবে। যথা— সূর্য দুপুরে পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইমাম সাহেব দীর্ঘ খুত্বা দিবেন। এখানে ঈদে বা জুমার মতো ২য় খুত্বা নেই। অতঃপর মোয়াজ্জেন সাহেব আজান দিবেন। সঙ্গে সঙ্গে একামত দিবেন। ইমাম সাহেব জোহরের দুই রাকাত ফরজ কছর নামাজ পড়াবেন। সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে মুয়াজ্জিন আজানবিহীন শুধু একামত দিবেন। ইমাম সাহেব দুই রাকাত আছরের কছর ফরজ নামাজ পড়াবেন।

হজের তিন ফরজের মধ্যে অন্যতম ফরজ আরাফাতে অবস্থান। শুধু তাই নয়, আরাফাতে অবস্থানকে হজ বলা হয়। এহরাম অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে আরাফাতে পৌঁছতে না পারলে তার হজ হলো না। যাদেরকে এহরামবিহীন স্বাভাবিক পোশাকে দেখবেন, বুঝতে হবে তিনি হজ করছেন না, হজের সেবায় নিয়োজিত।

হজের সময় আরাফাত দোয়া কবুলের অন্যতম স্থান| দাঁড়িয়ে দুহাত ওপরে তুলে আল্লাহ পাকের কাছে কান্নাকাটি করা চায়। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে আরাফাত ত্যাগ করা যাবে না। সূযা‌র্স্তের পর আরাফাতের সীমা থেকে প্রায় পাঁচ কি.মি উত্তরে কিছুটা পশ্চিমে মুজদালেফার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে।

পবিত্র মক্কা মোকাররমা থেকে মিনা পৌঁছতে এবং মিনা থেকে আরাফাত পৌঁছতে মোয়াল্লেম বাস একাধিক ট্রিপ দিয়ে থাকে। ফলে হজযাত্রীগণের তেমন অসুবিধা হয় না। কিন্তু আরাফাত থেকে মুজদালেফা আসতে ২য় ট্রিপ অনিশ্চিত বিধায় প্রথম ট্রিপের মোয়াল্লেম বাসে হাজিরা মুজদালেফায় চলে আসতে তৎপর থাকে।

যা হজের আহকামে খুবই কষ্টসাধ্য। আরাফাত থেকে মুজদালেফায় পৌঁছে এশারের ওয়াক্তে এক আজান দুই একামতে মাগরিব ও এশা পর পর পড়বেন। অতঃপর সুন্নত পড়বেন। এরপর মিনায় শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য ৪৯টি পাথর সংগ্রহ করবেন, যা কনিষ্ঠ আঙুলের অগ্রভাগের সমান ধরে নেওয়া যেতে পারে। মুজদালেফায় অবস্থান হজ্বের প্রথম ওয়াজিব। এখানে ফজরের নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করতে হবে।

মুজদালেফা থেকে কি মিনায় মোয়াল্লেমের তাঁবুতে যাবেন, নাকি সরাসরি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে এজেন্সির পরামর্শই উত্তম হবে। এরপর কর্তব্য হলো—১০ জিলহজ প্রথমে বড় শয়তানের প্রতি সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা; তারপর তামত্তো বা কেরাণ হাজি দমে শুকরিয়া করা, অতঃপর মাথার চুল মুন্ডানো বা কাটা। এরপর পবিত্র মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। অতঃপর সাফা-মারওয়া সায়ী করা। সন্ধ্যায় বা রাতে পুনঃ মিনায় ফিরে এসে রাত্রিযাপন করা। এখানে রয়েছে তরতিব, যা শিখে নেওয়া দরকার।

আহমদুল ইসলাম চৌধুরী
সভাপতি, হজযাত্রী কল্যাণ পরিষদ, চট্টগ্রাম

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top