সফর মাসের ফজিলত

সফর মাসের ফজিলত

ইসলামী ডেস্ক: আরবি বছরের দ্বিতীয় মাস। সফর। ইসলামের প্রতিটি দিন, মাসই ফজিলতপূর্ণ; তাই সফর মাসও ফজিলতময় এতে কোনো সন্দেহ নেই। মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত, বরকত পেতে হলে বেশি-বেশি আমল করতে হবে। ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নতকে যথাযথভাবে আদায় করার পাশাপাশি নফল ইবাদতে ডুবে থাকতে হবে।

নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে রাতের আঁধারে প্রভুর দরবারে খালেছ নিয়তে কোনো কিছু প্রার্থনা করলে তিনি ফিরিয়ে দেন না। সফর নামও তার ব্যতিক্রম নয়। অনেকে এই মাদকে একটি দুঃখের মাস মনে করেন। তারা দলিল দেন রাসূল (সা.) এর একটি হাদিস – রাসূল (সা.)বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে সফর মাস শেষ হওয়ার সুসংবাদ দেবে, আমি তাকে জান্নাতের খোশখবর দেবো।’ ওপরের হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সফর মাসটি সত্যিই অশুভ। কেননা রাসূল (সা.) স্বয়ং সফর মাসের শিগগিরই অবসান কামনা করেছেন। এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে ফুকাহায়ে কেরাম দু’টি মত পোষণ করেছেন। প্রথমত, হাদিসটি সম্পূর্ণ জাল, মিথ্যা যা আদৌ রাসূল (সা.)এর হাদিস নয়; বরং যারা এর বর্ণনাকারী তারা কেউ হাদিস সংরক্ষণকারী নয়। দ্বিতীয় পক্ষের মত হলো, হাদিসটি সহি, তবে এ হাদিসের প্রেক্ষাপট কী তা জানতে হবে। মূলত হাদিসটি একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাসূল (সা.) বলেছেন, তা হলো একবার হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দূরের এক জনপদে সফরে গেলেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় চলে গেলেও তিনি ফিরে এলেন না। এ দিকে তার কোনো চিঠি বা সংবাদও আসছে না, তখন প্রিয় সাহাবির জন্য রাসূল (সা.) চিন্তিত হয়ে পড়লেন। কোনো কিছুই তার ভালো লাগছিল না। এমতাবস্থায় একটি চিঠি এলো, তাতে লেখা ‘হে আল্লাহর রাসূল (সা.)আমি সফর মাস শেষে মদিনায় ফিরব। কিন্তু তখনো সফর মাসের বেশ সময় বাকি, তাই রাসূল (সা.) আবু বকরের জন্য অস্থির হয়ে গেলেন। আর অপেক্ষা করলেন কখন সফর মাস শেষ হবে। তখন তিনি ওই হাদিসটি বলেছিলেন।

এ মাসে কুসংস্কার বা ভ্রান্ত আকিদা : এ মাসকে দুঃখের মাস মনে করা। সফর মাসকে অশুভ মনে করে চাঁদ না দেখা। এ মাসের ১৩ তারিখে ফিরনি, মিষ্টি, হালুয়া, রুটি বিতরণ করা এবং এ কথা মনে করা যে এর ফলে অপকারিতা বা অনিষ্টতা দূর হবে। এসবই জঘন্য রকম বিদয়াত। এ ছাড়া এ মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার শোম্বা বলা হয়। এই দিনটিকে আমরা একটি খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করি। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আমরা অনেকে জানি না যে আখেরি চাহার শোম্বা কী, কেন। মূলত আখেরি চাহার শোম্বা হলো রাসূল (সা.)সফর মাসের শেষে অসুস্থ ছিলেন এবং শেষ বুধবার তিনি অনেকটাই সুস’ হন তাই রাসূল (সা.)এর সুস্থতার খুশিতে অনেক সাহাবি বিভিন্নভাবে দান-সদকা করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ। কিন্তু এমন কোনো হাদিস নেই বা সাহাবা কেরামদের আমল নেই যে তারা প্রতি বছর এই খুশির দিন উদযাপন করেছেন বা প্রতি বছর দান-সদকা করেছেন। তাহলে আমরা তা কেন করছি? একবারও কি চিন্তা করেছি যে অতি ভক্তির নামে যা করছি তা বিদয়াত।

সব ওলামায়ে কেরাম একমত যে আখেরি চাহার শোম্বা ভিত্তিহীন বিদয়াত। সাহাবা কেরামের চেয়ে আমরা বেশি রাসূলপ্রেমিক নই। আর রাসূল (সা.)এর জমানায় বা তার ইন্তেকালের পর কোনো সাহাবি আখেরি চাহার শোম্বা বিশেষ দিন হিসেবে আমল করেছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই। আইয়ামে বিজের রোজা : এ মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। তাই আসুন সব ধরনের কুসংস্কার ও বিদয়াত মুক্তভাবে আমল করি, যদিও তা সামান্য হয়।

Spread the love

1 thought on “সফর মাসের ফজিলত”

  1. Raiyan Abdullah

    সফর মাসের ফজিলত নিয়ে অনেক চমৎকার বর্ণনা প্রদান করেছেন। ধন্যবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *