শ্রেষ্ঠ সমাজসেবী সম্মাননা পেলেন ‘ব্রাদার বাহার’

Prottasha Coaching

শ্রেষ্ঠ সমাজসেবী হিসেবে সম্মাননা লাভ করেছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক আহমদ রশিদ বাহাদুর। তিনি সমাজসেবার অঙ্গনে ব্রাদার বাহার নামে সুপরিচিত।

আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত সরকারী নিবন্ধিত
সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের প্রথম বর্ষপূর্তি ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবস্থ বঙ্গবন্ধু হলে অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সেক্টরে অবদানের জন্য ৪ জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা দেয়া হয়।
এতে শ্রেষ্ঠ সমাজসেবী হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন ব্রাদার বাহার।

অনু্ষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চান্দগাঁও ৪নং ওয়ার্ডের কমিশনার সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এডিসি জাহাঙ্গির চৌধুরী, সমাজসেবক নুরুল আবচার, রোটারিয়ান গোলাম আকবরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ একটি সমস্যা সংকুল উন্নয়নশীল দেশ। এদেশের বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন নানান সংগঠন। ব্রাদার বাহার তেমনি একজন মানুষ যিনি নিজেই একটি সংগঠন। উত্তরবঙ্গের সুদূর কুড়িগ্রাম থেকে শুরু করে, বাঁশখালী, চকরিয়া, লোহাগাড়াসহ দেশের নানা প্রত্যন্ত অঞ্চলে তার সমাজসেবার হাত প্রসারিত। তিনি একজন লেখকও বটে। তাঁর লেখা “ঝরে পড়া মেধা খুঁজে কলম ধরিয়ে দিন” শিরোনামের আর্টিকেলটি অনেক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উক্ত আর্টিকেল এ উল্লেখিত সূত্র বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিত্তবান লোকেরা প্রয়োগ করছেন বলে জানা গেছে। এতে জাকাতের একটি নির্দিষ্ট অংশ অস্বচ্ছল পরিবারের মনোনিত শিক্ষার্থীদেরকে ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়ালেখার সম্পূর্ণ খরচ চালাবার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। ব্রাদার বাহার মনে করেন এদেশের মানুষ যতদিন শতভাগ সুশিক্ষিত হবে না ততদিন দেশের মানুষ সচেতন হবে না। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে তারা দেশের উন্নয়নের জন্য আর্থ-সামাজিকভাবে বলিষ্ট ভূমিকা রাখতে পারবে না।

তাঁর সাথে কথা বলে জানা গেছে- ২০১৭ সালের আগষ্টে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার শুরু আর সেই থেকে ব্রাদার বাহার তাদের পাশে দাঁড়ায়। কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে একটি সংস্থার ব্যানারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ শুরু করলেও কয়েকমাস পর নিজের নামে কাজ করার অনুমতি চেয়ে কক্সবাজার Refugee Relief and Repatriation Commissioner (RRRC) বরাবর আবেদন করেন। নিয়ম মোতাবেক তদন্ত করে আরআরআরসি অফিস থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে কাজ করার লিখিত অনুমতি পেলে সেই থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ইতিমধ্যে ‘মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ও “অবসর প্রাপ্ত সেনা ও মুক্তিযুদ্ধা কল্যাণ সমিতি, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম” থেকে সম্মাননা লাভ করেন। ২০১৮ সালে ডিসেম্বরে কক্সবাজার হোটেল সী-প্যালেস এ Camp Coordination and Camp Management (CCCM) ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন।

ব্রাদার বাহার একজন সাহিত্যানুরাগী লেখক ও সমাজকর্মী শুধু নন, তিনি একজন সাংস্কৃতিক কর্মীও। তিনি সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার প্রতি বিশ্বাসী। ইতিমধ্যে নিজেও দুটি শর্টফিল্মের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে কোমল দিল ও সাদা মনের মানুষ ব্রাদার বাহার। দানশীলতা তাঁর ছোটকালের স্বভাব। মানুষের দুঃখ দেখলে তার অন্তর ছটফট করতে থাকে।
একজন ব্যবসায়ী হলেও অপরের দুঃখকষ্ট গোছাতেই তিনি বেশী সময় দেন।

চট্টগ্রামে ‘ব্রাদার বাহার’ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রিয় ঠিকানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.