লিটন আওয়ামী লীগের কেউ নন: এমপি মোস্তাফিজুর

বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুল্লাহ কবির লিটনকে হত্যাচেষ্টায় মদদের অভিযোগের জবাব এসেছে। সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, লিটন আওয়ামী লীগের কেউ নন। দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার উপর হামলা করেছে।

রোববার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলানিউজের পক্ষ থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের জবাব দেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।

একইদিন সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিটন অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের মদদে তার চাচা রশিদ আহমেদ ও পিএস তাজুল ইসলাম লিটনকে হত্যাচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এই বক্তব্যের জবাবে সংসদ সদস্য বলেন, আবদুল্লাহ কবির লিটন আওয়ামী লীগের কেউ নন। তার কোন পদ-পদবি নেই। লিটন বাবু মিয়ার (আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু) ভাগ্নে, এটাই তার সাইনবোর্ড।

এমপির দাবি, লিটন অতীতে সংসদ নির্বাচনে প্রয়াত নেতা সুলতানুল কবির চৌধুরীর বিরোধিতা করেছেন। ২০১৪ সালে আমাকে যখন মনোনয়ন দেওয়া হয়, তখন জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর (বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য) স্ত্রীর বড় ভাই হায়দার আলী সাইকেল মার্কা নিয়ে আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। লিটন তখন হায়দার আলীর পক্ষ নিয়েছিলেন। জীবনে কোনদিন লিটন নৌকায় ভোট দেননি।

এমপি বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লিটন প্রত্যেক ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়েছেন। এরপরও আমরা ১০টি সিটে পাস করেছি।

প্রয়াত নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার (০৯ নভেম্বর) বিকেলে বাঁশখালী পৌর সদরের অদূরে সরল ইউনিয়নের পাইরাং এলাকায় আওয়ামী লীগের দুপক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ২৩ জন আহত হয়।

ঘটনার জন্য সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে দায়ী করার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। সিপিইউ সম্মেলনে আমার কিছু দায়িত্ব ছিল। আমি সেগুলো পালন করছিলাম।

‘কয়েকদিন আগে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হয়েছে। লিটন কারসাজি করে ৬ জনকে কমিটিতে নিয়ে এসেছে। আমাদের থেকে নিয়েছে মাত্র ২ জন। এতে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। ’

এমপি বলেন, লিটন ঘোষণা দিয়েছেন তিনি আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় যাচ্ছেন। আসলে তিনি পদ পাওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের সংবর্ধনায় যাচ্ছিলেন। এটা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার গাড়িতে হামলা করেছে।

‘আমার পক্ষের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য গিয়েছিল। এএসপি আমাকে ফোন করে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর আমি ফোন করে আমার লোকজন যারা ছিল তাদের সরিয়ে এনেছি। অথচ মামলায় আমার চাচা রশিদ আহমেদ চৌধুরী এবং আমার পিএস তাজুলকে আসামি করা হয়েছে। অথচ আমার চাচা সেদিন শহরে ছিলেন। তাজুলও ঘটনাস্থলে ছিল না। ’ বলেন মোস্তাফিজুর

তিনি আরো বলেন, আমি পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে ফোন করে বাঁশখালীর ওসির সঙ্গে কথা বলেছেন।

সংঘাতের ঘটনায় লিটনের অনুসারী আনিসুল হক বাদি হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সংসদ সদস্যের চাচা ও ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়। দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে সংসদ সদস্যের পিএস ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তাজুল ইসলামকে।

: বাংলানিউজ২৪

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.