মে দিবস, বাঁশখালী টাইমস এবং কিছুকথা

মে দিবস, বাঁশখালী টাইমস এবং কিছুকথা
আরকানুল ইসলাম

গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের মজুরি দিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে হাদিসে।

বাঁশখালী টাইমস বর্ষপূর্তি ম্যাগাজিন প্রকাশ হয়েছিল গত জানুয়ারি মাসে। পাঠকদের ভালোবাসায় আমরা পুরোপুরি আপ্লুত। আমরা চেয়েছিলাম আরও একটি সংখ্যা প্রকাশ করার, কিন্তু সাহসে কুলায়নি। একটা পত্রিকা প্রকাশের পেছনে কত দৌড়াদৌড়ি, কত খাটাখাটনি, কতজনের কত রকম কথা শুনতে হয় সেটা কেবল তারাই জানবে, যারা নিজেরা এমন ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে। তবুও পাঠকদের ভালোবাসা, অনুপ্রেরণায় আবার ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে ইচ্ছে হয়।

কিন্তু তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। কারণ আমরা ম্যাগাজিনে যে পরিমাণ বিজ্ঞাপন পেয়েছিলাম তার টাকা দিয়ে আরও একটা সংখ্যা নির্দ্বিধায় করা যেত। কিন্তু কত টাকা পেয়েছি? যারা বিজ্ঞাপন দিয়েছে তাদের অনেকেই বিজ্ঞাপন-খরচ দেয়নি। ইনবক্সে বারবার বলার পরও ‘সিন’ করে রেখে দিয়েছে, জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনি।

এরাই নাকি আমাদের উপজেলায় নেতৃত্ব দিতে চায়! সামান্য ক’টা টাকা যাদের হাত থেকে গলতে চায় না, তারা ক্ষমতা পেলে কী করতে পারে তা সহজেই অনুমেয়! আমাদের শ্রমের টাকা খেয়ে আপনারা কি খুব বেশি বড়লোক হয়ে যাবেন? এপারে বেঁচে গেলেও ওপারে বাঁচবেন কী করে? তিনি তো আর দলপ্রীতি-স্বজনপ্রীতি দেখান না।

সামনে সুযোগ এলে আবার বাঁশখালী টাইমস ম্যাগাজিন নিয়ে হাজির হবো, বলব বাঁশখালীর কথা, শোনাব বাঁশখালীর কথা।

আরেকটা ব্যাপারে একটু বলতে চাই, বাঁশখালী টাইমসকে অনেকে নানা ধরনের আজগুবি ট্যাগ দিয়ে দমিয়ে রাখতে চায়। শুনুন ভাইসব, বাঁশখালী টাইমস কারও এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার নয়। সে নিজস্ব গতিতে চলবে। চলতে না-পারলে বন্ধ হয়ে যাবে।

যারা বিভিন্ন ট্যাগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাদের বলছি, বাঁশখালী টাইমস শুধু বাঁশখালী ও বাঁশখালীবাসীর কথা বলার জন্য এসেছে, এখানে কারও পক্ষে বা কোনও দলের পক্ষে সাফাই গাইতে আসেনি। একজন ব্যক্তির নিজস্ব পছন্দ থাকতেই পারে। সেটা ঐ ব্যক্তির স্বাধীনতা। সেটার প্রভাব নিউজে না-থাকলেই হলো। সবাইকে আপনার দল করতে হবে কেন? এই স্বৈরাচারী মনোভাব যতদিন পরিবর্তন হবে না ততদিন নিজেকে মানুষের মনে স্থান দিতে পারবেন না।

একটা পত্রিকা বা নিউজ পোর্টালে সবদলের নিউজ কাভার করা হবে এটাই নিয়ম। জাতীয় দৈনিক থেকে শুরু করে স্থানীয় সব পত্রিকা বা নিউজ পোর্টালে এটা মানা হয়। তাহলে বাঁশখালী টাইমসের বেলায় এসে কেন আপনারা (কতিপয়) মিথ্যা ট্যাগ দিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন? এসব কি আপনারা জানেন না? নাকি জেনেও না-জানার ভান করছেন?

দুদিন আগে দেখলাম, একটা ছবিকে নিয়ে বাঁশখালী টাইমসকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিতে! নিজে কিছু রাখতে পারেন না সেটা আপনার ব্যর্থতা, দায়টা আরেকজনের ওপর চাপান কেন? যে ছবিটা বাঁশখালী টাইমসের প্রোফাইলে দেখেছেন বললেন সেটা তো মূলত বাঁশখালী সাহিত্য পরিষদের প্রোফাইলে ছিল! কেন মিথ্যা বলেন হাজার হাজার মানুষের সামনে?

আজ মহান মে দিবস। যারা বিজ্ঞাপন খরচ দেননি, তারা দ্রুত পাঠিয়ে দিন। আমরা নিজেরাই একেকজন শ্রমিক। আমাদের শ্রম, সময়ের মূল্য আছে। আমাদের পারিশ্রমিক নিয়ে কেন অবহেলা করবেন?

সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। মে দিবস সফল হোক।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.