BanshkhaliTimes

মিডিয়া ও সোস্যাল মিডিয়া প্রসঙ্গ

BanshkhaliTimes

মিডিয়া ও সোস্যাল মিডিয়া প্রসঙ্গ
-মুহাম্মদ তাফহীমুল ইসলাম

গণমাধ্যম বা মিডিয়া বলতে আমরা সাধারণত পত্রিকা, টিভি, রেডিও জাতীয় প্রচারমাধ্যমগুলোর সাথেই পরিচিত। একটি রাষ্ট্র বা জাতির অগ্রগতি সাধনে এই গণমাধ্যমের ভূমিকা অসামান্য। গণমাধ্যম মানে মানুষের অধিকারের পক্ষে, অন্যায়, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কথা বলা এবং রাষ্ট্রের কল্যাণে সঠিক পরামর্শ প্রদান ইত্যাদি। এখানে যারা কাজ করে তারা সাংবাদিক। যাদেরকে আমরা জাতির বিবেক বলে অভিহিত করে থাকি। এই বিবেক সুষ্ঠুভাবে কাজ করলে একটি জাতির উন্নতি লাভ করা অনেকটা সহজ হয়। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা স্যোসাল মিডিয়া বলতে ফেসবুক, ইমু, টুইটার ইত্যাদিকে বুঝানো হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। ইন্টারনেটের কল্যাণে ফেসবুকের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন খবর মানুষ পেয়ে যাচ্ছে মূহুর্তেই। আমেরিকার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্শাল ম্যাকলুহান যে গ্লোবাল ভিলেজের কথা বলেছেন তার বাস্তব সাক্ষী আজকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ঘিরে পৃথিবীর সকল মানুষ বসবাস করছে একটি গ্রামে। যার নাম গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম। স্যোসাল মিডিয়াকে ঘিরে মানুষের আশা, আকাঙ্খা দ্রুতই বাড়ছে। মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আস্থাশীল হচ্ছে। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমনিভাবে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখছে; ঠিক তেমনি বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হবার পেছনেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেকটা দায়ী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সবাই যে কোন বিষয়ে স্বাধীনভাবে মতামত প্রদান করতে পারছে। কোন ইস্যুতে জনমত সৃষ্টি, বিরোধীতা করার অন্যতম হাতিয়ারও এই স্যোসাল মিডিয়া। সম্প্রতি খাদ্য প্রতিষ্ঠান আড়ংকে জরিমানা করার দায়ে ম্যাজিস্ট্রেট বদলী হবার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচিত হয়। চারদিক থেকে নিন্দার ঝড় ওঠে। যার কারণে বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী খবর পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের বদলী স্থগিত করেন। এভাবে নুসরাত হত্যা, বালিশ কান্ডসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেখেছে ইতিবাচক ভূমিকা। এই যে কোটা সংস্কার আন্দোলন হলো; এই আন্দোলনকারীরা সংগঠিত হবার পেছনে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ফেসবুক। ফেসবুক না হলে এদের আন্দোলন সফল হওয়া অনেকটা কঠিন ছিল। এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্ন সময়ে যেমনি রেখেছে ইতিবাচক ভূমিকা। তেমনি আবার বিভিন্ন সময় অপরাধ, গুজব ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে স্যোসাল মিডিয়া। এমনকি জীবিত বহু মানুষকে স্যোসাল মিডিয়ার দ্বারা মৃতের তালিকায় যুক্ত হতে হয়েছে! অনেক সময় উস্কানি দেয়ার, সময় নষ্টের মাধ্যম হিসেবেও স্যোসাল মিডিয়া ব্যবহৃত হয়েছে গতানুগতিকভাবে।

স্যোসাল মিডিয়ার উৎকর্ষতার ফলে মানুষের মাঝে গনমাধ্যমের গুরুত্ব কিছুটা কমছে। রেডিও, পত্রিকা, টেলিভিশনের মধ্যে বর্তমানে টেলিভিশনের বড় একটা গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও দৈনিক পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা কমছে। রেডিওর গ্রহণযোগ্যতা তো নেইই। গবেষকরা বলছেন- দশ বছর পরে ইলেকট্রনিক পত্রিকা বলে কিছু থাকবে না। মানুষ গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগেই স্যোসাল মিডিয়ায় তা পেয়ে যাচ্ছে। যদিওবা অনেক সময় সে খবর পুরোপুরি সত্য নাও হতে পারে। কেননা, স্যোসাল মিডিয়ায় প্রকাশের জন্য সেভাবে খবরের সত্যতা যাচাই করতে হয় না; যেভাবে গনমাধ্যমে প্রকাশের জন্য করতে হয়। সুতরাং বলা যায়- তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই সময়ে স্যোসাল মিডিয়ার আধিপত্যে মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।

তরুণ লেখক

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top