মাস্টার নজির আহমদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক আলহাজ্ব মাস্টার নজির আহমদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকেল ৫টায় পূর্বদেশ কার্যালয়ে ইছালে সওয়াব ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পরে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান দৈনিক পূর্বদেশ এর জিএম ও বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী। স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, মাস্টার নজির আহমদ আলোকিত সমাজ গড়ার কারিগর ছিলেন, তিনি আজীবন একটি শিক্ষিত ও জ্ঞাননির্ভর মানবিক সমাজ গড়তে সংস্কারকের ভূমিকা পালন করেন। নিজের ভেতর লালিত মানবিকতাকে শিল্পে রূপ দিয়ে সমাজকে আলোকিত করে গেছেন। বক্তারা বলেন, এক সময় বাঁশখালীতে শিক্ষার হার ছিল কম। ছিল না আধুনিকতার ছোঁয়া। যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অনুন্নত। ঠিক তখনই তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন, বাঁশখালীসহ দেশের মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে। জীবনের শেষ অধ্যায়ে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন স্কুল-মাদ্রাসা, এতিমখানা ও কলেজ। যেখানে যুগ যুগ ধরে আলোকিত মানুষ তৈরি হবে। এ ধারা অব্যাহত এবং তা আরও প্রসারিত করছেন তাঁর সুযোগ্য সন্তানরা। যতদিন বাঁশখালী থাকবে, যতদিন চট্টগ্রাম থাকবে, ততদিন মাস্টার নজির আহমদের অবদানের কথা মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবেন। তাঁর কর্ম ও সৃষ্টির কারণে তিনি সবার মাঝে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক বলেন, পূর্বদেশ পত্রিকা দ্রুত সময়ের মধ্যে গণমানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে। এটা মাস্টার নজির আহমদের সার্থকতা। তাঁকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তিনি শুধু আলোকিত সমাজ গড়ার কারিগর নন, ছিলেন শিল্পী। তিনি নিজে সমাজকে আলোকিত করে গেছেন। বর্তমানে মাস্টার নজির আহমদের মত কাজ করে যাচ্ছেন তাঁর রেখে যাওয়া সুসন্তানরা। তারা পিতাকে এমন সম্মান দিয়েছেন, যার কারণে তারা এখনও পিতার পরিচয়ে পরিচিত। তার পরিবারের মত সুসন্তান যদি প্রতিটি পিতার ঘরে থাকত, তাহলে দেশে কোনো বৃদ্ধাশ্রমের প্রয়োজন হত না। মাস্টার নজির আহমদের মত শিক্ষকের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। আমাদের উচিত হবে তাঁর আদর্শ ও কর্মকান্ড মানুষের মাঝে তুলে ধরা এবং ছড়িয়ে দেওয়া।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু জাফর চৌধুরী বলেন, মাস্টার নজির আহমদ সম্পর্কে অনেক কথা বলার আছে। এত কম সময়ে তার কর্মযজ্ঞ বর্ণনা করা অসম্ভব। তিনি এত সুন্দর মনের মানুষ ছিলেন, যা না দেখলে বলা যাবে না। তিনি সাধারণ হয়ে জন্মেছিলেন ঠিকই কিন্তু অসাধারণ হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন কর্মগুণে। তাঁর মধ্যে লালিত আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এ প্রত্যাশা করছি। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল বলেন, মাস্টার নজির আহমদের হাতে গড়া পূর্বদেশ পাঠকের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আজ হয়ত মানুষটি নেই। কিন্তু তার কর্ম সবার মাঝে আলো ছড়াচ্ছে। তিনি শিক্ষক ছিলেন আর শিক্ষকরা অন্ধকার সমাজের সূর্য। তিনি সত্যিকার অর্থে সূর্যের মত আলো ছড়িয়ে গেছেন। তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এটাই তাঁর জীবনের সার্থকতা।

বিএফইউজে’র সাবেক সহ সভাপতি শহীদ উল আলম বলেন, শিক্ষক হয়ে তিনি সবার মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার সন্তানরা সারা দেশে সুনামের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। মরহুমের জন্য আমরা দোয়া কামনা করছি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন, মাস্টার নজির আহমদ নিজের সন্তানদের সুশিক্ষিত করেছেন। সেই সাথে আলোকিত করেছেন বাঁশখালীকেও। গড়ে তুলেছেন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেগুলো বাঁশখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলোকিত মানুষ তৈরি করছে। শেষ জীবনে পূর্বদেশ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে মানুষের সেবার দরজা আরও উন্মুক্ত করেন তিনি। যেখানে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হচ্ছে। যতদিন বাঁশখালী থাকবে, যতদিন চট্টগ্রাম থাকবে, ততদিন মানুষ শ্রদ্ধার সাথে মাস্টার নজির আহমদকে স্মরণ করবেন। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের আশা-ভরসা মাস্টার নজির আহমদের হাতে গড়া পূর্বদেশ। তিনি শেষ জীবনে গণমানুষের জন্য বড় একটি কর্ম রেখে গেছেন, সেটি হল দৈনিক পূর্বদেশ। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা মাস্টার নজির আহমদের জীবনাদর্শ আমাদের ধারণ করা উচিত। তার হাতে গড়া পত্রিকা সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিষয় তুলে ধরে জাতির সেবা করছে। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। তাই ভালো মানুষ দিয়ে তাঁর পত্রিকা পরিচালিত হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান তিনি।

পূর্বদেশের জিএম কামরুল ইসলাম হোসাইনী অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের অন্যায় অবিচার ও অনাচার তুলে ধরা গণমাধ্যমের কাজ। সে লক্ষ্যে মাস্টার নজির আহমদের হাতে গড়া পূর্বদেশ পত্রিকা গণমানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ফলে পাঠক সমাজে পূর্বদেশ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আগামী দিনে পূর্বদেশ আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে। তাই সবার সহযোগিতা কামনা করছি। পূর্বদেশ এর সহকারী সম্পাদক আবু তালেব বেলালের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যক্ষ কেএম মাহমুদুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পূর্বদেশ এর যুগ্ম সম্পাদক কবি আবু তাহের মুহাম্মদ, লেখক ও প্রকাশক জামাল উদ্দিন, পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আবু মোশাররফ রাসেল। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, পূর্বদেশ এর সিনিয়র রিপোর্টার রতন কান্তি দেবাশীষ, সিনিয়র সহ সম্পাদক মো. ইউসুফ সবুর, লেখক মনসুর নাদিম, লেখক আবু তৈয়ব, ছড়াকার ইমরান চৌধুরী প্রমুখ। এদিকে পূর্বদেশের প্রতিষ্ঠাতা মাস্টার নজির আহমদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বাঁশখালীতে মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল এর আয়োজন করা হয়েছে।

কার্টেসী- দৈনিক পূর্বদেশ

Prottasha-Coaching

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.