ভারী বর্ষণে বাঁশখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

BanshkhaliTimes

তাফহীমুল ইসলাম, বাঁশখালী- বাঁশখালী উপজেলায় রাতভর টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, মৎস্য প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালিপুর, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, বৈলছড়ি, সরল, পৌরসভা, শীলকূপ, চাম্বল, গন্ডামারা, শেখেরখীল, ছনুয়া, পুঁইছড়ি ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে যায়। পানি যাওয়ার পথ সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় এসময় কোথাও কোমর, কোথাও হাটু পরিমাণ পানি জমে যায়। এতে বৈলছড়ি, জলদী, সরল এলাকার বেশ কয়েকটি মাটির ঘর ভেঙ্গে যায়।

বৈলছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইবরাহিম বিন খলিল বলেন, ‘ভারী বর্ষণে আমার দাদার আমলের শতবর্ষী বাংলো ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। আমাদের এলাকায় এতো পানি জীবনে দেখিনি। পানি যাওয়ার পথ সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় পানি জমে গেছে।’

বৈলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ কফিল উদ্দীন বলেন, ‘রাতভর টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভেঙ্গেছে। সবজি ক্ষেত ও মৎস্য প্রজেক্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার নিজের বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে। এবিষয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার ৭০০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৭৫০ হেক্টর সবজি ক্ষেত, ১২০০ হেক্টর আউশ ধানের জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।’

উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম মিয়াজী জানান, ‘ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ভারী বর্ষণে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভেঙ্গে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিদর্শন করে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.