বিকাল ৫টার পর ওষুধ ছাড়া সব দোকান বন্ধ, যান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা

মু. মিজান বিন তাহের: বাঁশখালীতে ওষুধের দোকান ছাড়া সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানচলাচল বিকেল পাঁচ টার পর থেকে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ রোববার (৫ এপ্রিল ) দুপুরে উপেজলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমেনা আক্তারের এমন নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুধুমাত্র সার, ‘বীজ, কীটনাশক, কাঁচাবাজার এবং মুদির দোকান বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। বিকাল ৫ টার পর ঔষধের দোকান, ডাক্তার চেম্বার ব্যতিত অন্য কোন দোকান-পাট কোন অবস্থাতেই খোলা রাখা যাবেনা। বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আক্রমন সংক্রমনের সূচনালগ্ন থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার জনগণ এ ভাইরাসটির ভয়াবহতার গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকারি নির্দেশনা মেনে চললেও বাঁশখালীর চিত্র ভিন্ন। এ উপজেলার জনগণ সরকারি নির্দেশনা রসধমব বরাবরই উপেক্ষা করে আসছে। এমনকি হাট-বাজার ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কোন ধরনের বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে যেখানে সেখানে জটলা ও ভীড় করে গল্প- গুজব ও আড্ডা দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে দিন দিন ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে এ উপজেলাটি। সামনে এ ভাইরাসটির ভয়াবহতার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি সোমবার সকাল থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের পণ্য ক্রয় করে সাধারন জনগণকে বাড়িতে অবস্থান করানোর উদ্দেশ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি সংশ্লিষ্টরা উপজেলার সর্বস্তরের জনগনকে এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে নিজের বাড়িতে অবস্থান করার অনুরোধ জানান। এ দিকে প্রসাশনের র্কমর্কতা,থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক হারে সচেতনতা মূলক প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন বাঁশখালীর অলি গলিতে।

বাঁশখালী থানা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে ভয়াল আতঙ্ক মরণব্যাধী ছোঁয়াচে করোনা ভাইরাস দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাঁশখালী থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট, অলি গলিতে সচেতনমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ওষুধের দোকান ছাড়া সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানচলাচল বিকেল পাঁচ টার পর থেকে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। আইন অমাইন্য করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুশিয়ারি প্রদান করেন।’ বাঁশখালী প্রধানসড়ক সহ অভ্যন্তরের অলি গলিতে কোন অবস্থাতেই জনসমাগম করা যাবে না। নির্দ্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অতীব জরুরী প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে পারবে। জনসমাগম এড়াতে বাঁশখালী থানা পুলিশে প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান থাকবে। এ বিষয়ে সহযোগীতা করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সচেতন ভুমিকা পালন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ফার্মেসী ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ ঘোষনা বলবৎ থাকবে। এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রহণ করা হবে। এ জন্য সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করছি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কোভিড-১৯

ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন। - জনস্বার্থে বাঁশখালী টাইমস