BanshkhaliTimes

‘বায়তুশ শরফ জাতিভিত্তিক একটি আধ্যাত্মিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান’

BanshkhaliTimes

২৩ জুলাই শনিবার সকাল ১১টায় বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর দ্বি বার্ষিক সম্মেলন ২০২২ চট্টগ্রাম মহানগরীর ধনিয়ালাপাড়া কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বি বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে বিকেল তিনটায় আয়োজন করা হয় গুণীজন ও দাতা সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, ধর্ম ও কর্মের সমন্বয়ে একজন মানুষকে খাঁটি মুমিন মুসলমান রূপে গড়ে তোলা, ত্বরীকতের অনুসৃত পন্থায় মানবীয় গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বলে বলিয়ান করা-ই বায়তুশ শরফের মূল লক্ষ্য। বায়তুশ শরফের গ্রহণযোগ্যতা আজ সার্বজনীন। বায়তুশ শরফের নাম উচ্চারিত হবার সাথে সাথে যাঁর পবিত্র চেহারা আমাদের মানসচক্ষে ভেসে উঠে তিনি হলেন শাহ্ সুফী হযরত মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতর (রাহঃ) এলম-আমল, আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা, অতুলনীয় কর্মশক্তি, ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক মাধুর্যতা দ্বারা সমসাময়িক আলেম ওলামাসহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁরই স্থলাভিষিক্ত আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার (রাহঃ) বায়তুশ শরফকে দাঁড় করেছেন জাতিভিত্তিক একটি আধ্যাত্মিক ও সেবামূলক বিশাল প্রতিষ্ঠান রূপে। আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার (রাহঃ) এর চিন্তায় ছিল প্রখরতা, জ্ঞান গ‌রিমায় ছিল বৈ‌চিত্র্য। তাঁর গোটা জীবনটাই কেটেছে ইলম অর্জন-বিতরণ, আধ্যাত্মিক সাধনা, মানবসেবা ও গ‌বেষণায়। ‘মেজা‌যে শরীয়াহ্’ অটুট রে‌খে তি‌নি মানবকল্যাণে নতুন কোন উপকারী আ‌বিস্কা‌রের নেশায় মত্ত থাক‌তেন সর্বদা। তিনি ছিলেন শিরক- বিদআতের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। আর দশজন পীর এবং ওলামা-মাশায়েখ চিরাচ‌রিত কায়দায় যে জি‌নিস‌টি‌কে দে‌খতেন এবং ভা‌বতেন, সেই দেখা ও ভাবনায় তিনি তুলনাহীন মেধা ও সৃজনশীল মন‌নের পরিচয় দি‌য়ে‌ছেন তাঁর কর্মমুখর জীব‌নের পর‌তে পর‌তে। ১৯৯৮ সালে ইন্তেকালের পর তাঁর দীর্ঘদিনের ছায়াসাথী বাহরুল উলুম আল্লামা শাহ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (রাহঃ) বায়তুশ শরফের হাল ধরেন। তরিকতের পীর ছাড়াও তিনি ছিলেন একাধারে স্বনামধন্য শায়খুল হাদীস, মুফাসসির, মুফতি এবং আরবি, ফার্সি, উর্দু ও বাংলা ভাষার কবি ও সাহিত্যিক। উর্দু কবিতা রচনায় তাঁর বিশেষ পারঙ্গমতা ছিল। ড. আবু রেজা নদভী এমপি বায়তুশ শরফের বর্তমান পীর আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীর নেতৃত্বে বায়তুশ শরফ তাঁর পূর্বসূরীদের অনুসৃত পথধরে সম্মুখপানে এগিয়ে যাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদের উদ্যোগে গুণীজন ও দাতা সদস্যদের সংবর্ধনা উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যে সমাজ গুণীদের কদর দিতে জানেনা সেই সমাজে গুণী জন্মায় না। দেশে জ্ঞানীর সংখ্যা বাড়লেও গুণীর সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে, যা দেশ ও জাতির জন্য অশনি সংকেত। অনুরূপ দাতা ও দানশীলদের ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদের এ ধরনের উদ্যোগ গুণী ও দাতা ব্যক্তিরা উৎসাহ পাবেন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে চেতনাবোধ জাগ্রত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী বলেন, গুনীজন সংবর্ধনা এ দরবারের একটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম। বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদিয়ে যামান শাহ্সূফী হযরত শাহ আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) ১৯৯৪ সাল থেকে এ সংবর্ধনার প্রবর্তন করেন। তিনি সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীদের খুঁজে বের করে সংবর্ধিত করার এই মহতী উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন। আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী বলেন, চলতি বছর থেকে যারা আর্থিক, বুদ্ধিবৃত্তিকসহ বিভিন্নভাবে বায়তুশ শরফে অবদান রেখেছেন তাদের সংবর্ধনা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গুণীজন ও দাতা সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইদ্রিছ মিয়া। আনজুমনে ইত্তেহাদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও কাজী মাওলানা শিহাব উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাবেদ। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন বায়তুশ শরফের প্রবীণ মুরব্বি আলহাজ্ব মুহাম্মদ আমান উল্লাহ খান, আলহাজ্ব মীর মুহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।

সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আনজুমনে ইত্তেহাদের সভাপতি রাহবারে বায়তুশ শরফ শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী’র সভাপতিত্বে দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন আনজুমনে ইত্তেহাদের সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইদ্রিছ মিয়া। উপস্থিত সদস্যদের কাছ থেকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুমোদন নেন আনজুমনে ইত্তেহাদের নির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব হাফেজ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top