বাঁশখালীর প্রথম কামিলের মুকুট পরতে যাচ্ছে যে মাদরাসা

আবু ওবাইদা আরাফাতঃ সরকার নতুন করে প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ সাপেক্ষে দেশের বিভিন্ন মাদরাসাগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করে কামিল কোর্স অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বাঁশখালীতে ইতিপূর্বে কোনো কামিল মাদরাসা না থাকায় এবার নতুন করে কামিল কোর্স পাঠদানের অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে উপজেলার দুইটি ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা।
একটি উপজেলার পৌর সদরে অবস্থিত জলদী হোসাইনীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা অপরটি পুঁইছড়ী ইউনিয়নস্থ পুঁইছড়ী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা।

দেশের সরকার নিয়ন্ত্রিত মাদরাসাগুলোর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। সম্প্রতি এ বিশ্ববিদালয়ের অধীনে সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত মানসম্মত মাদরাসাগুলোতে কামিল (মাস্টার্স) কোর্স পাঠদানের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার মান, পরিবেশ, ঐতিহ্য, পাশের হার, অবকাঠামো, নিজস্ব ভূমি, ভৌগলিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় ও শর্তাদির আলোকে যাচাই-বাছাই পূর্বক কামিল মাদরাসা হিসেবে অনুমোদন দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ লক্ষ্যে সারাদেশের আবেদনকৃত মাদরাসাগুলোতে সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ পরিদর্শন টীম। এর ধারাবাহিকতায় গত ৪ জুলাই বাঁশখালীর মাদরাসা পরিদর্শনে আসেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আহসান সাইয়েদ।

এ বিষয়ে বাঁশখালী টাইমসের সাথে আলাপকালে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আহসান সাইয়েদ বলেন- “প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ সাপেক্ষে বাঁশখালী উপজেলায় যেকোনো একটি মাদরাসাকে কামিলের স্বীকৃতি দেয়া হবে”
কবে নাগাদ চুড়ান্ত অনুমোদন আসবে বাঁশখালী টাইমসের এমন প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন- “আগামী একমাসের মধ্যেই চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী যে মাদরাসা শর্ত পূরণে এগিয়ে থাকবে সেটিই অনুমোদন পাবে।”

এ প্রসঙ্গে বাঁশখালী টাইমসের সাথে আলাপকালে পুঁইছড়ী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ মোশাররফ বলেন- “আমাদের মাদরাসা বাঁশখালীর সবচেয়ে প্রাচীন। ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন মরহুম আলহাজ্ব ইজ্জত আলী চৌধুরী। বর্তমান মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন রেজাউল করিম চৌধুরী। কামিল অনুমোদনের সকল শর্ত আমরা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। নিজস্ব ভূমি ২ একর শর্ত থাকলেও আমাদের ৪ একর নিজস্ব ভুমি আছে। গত আলিম পরীক্ষায় আমাদের পাশের হার ৯৭.৮৭%। সারা বাঁশখালীতে আলিমে ৪ জন এ প্লাসের মধ্যে আমাদের মাদরাসা থেকে পেয়েছে ৩ জন। শিক্ষক আছেন ২৮ জন, সর্বমোট শিক্ষার্থী প্রায় ১৫০০ এর মধ্যে ফাজিলের শিক্ষার্থী আছে তিন’শয়ের অধিক। সার্বিক বিবেচনায় আমরা কামিলের অনুমোদনের ব্যাপারে আশাবাদী”

বাঁশখালীর একমাত্র কামিল মাদরাসাটি উপজেলা সদরে না হয়ে অন্য কোনো ইউনিয়নে হওয়ার যৌক্তিকতার প্রশ্নে বাঁশখালী টাইমসকে তিনি বলেন- ‘কামিল মাদরাসার জন্য উপজেলা সদর জরুরী নয়, অনেক উদাহরণ আছে যেমন- চুনতি মাদরাসা, গারাংগিয়া মাদরাসা- এ কামিল মাদ্রাসাগুলোও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তাছাড়া আমাদের পার্শ্ববর্তী পেকুয়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালীতে কোনো কামিল মাদরাসা না থাকায় শিক্ষার্থীরা কামিলের জন্য এ মাদরাসাকে বেছে নেবে।”

জলদী হোসাইনীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবু রাশেদ মোহাম্মদ মোজ্জাম্মেলের সাথে আলাপকালে তিনি বাঁশখালী টাইমসকে বলেন- “উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ মাদরাসা ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আলহাজ্ব মাওলানা আবুল হাসান (রাহঃ)। বর্তমান পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আলহাজ্ব মাওলানা ফাউজুল কবির। কামিলের অনুমোদনে আমরা সবদিক দিয়ে এগিয়ে আছি। বিশেষ করে ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণসহ সারা বাঁশাখালীর শিক্ষার্থীদের জন্য এ মাদরাসা সুবিধাজনক। পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করি আমাদের কামিল পাঠদানের অনুমোদন দেবেন। তাছাড়া গত মাসে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ভিসি মহোদয় পরিদর্শনে এলে আমরা তাঁকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করি এবং মাদরাসার সার্বিক অবস্থা তুলে ধরি।”

মাদরাসার সার্বিক অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বাঁশখালী টাইমসকে বলেন- “এবছর আলিমে ১২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১৬ জন পাশ করে। শিক্ষক-কর্মচারী আছে ২৭ জন, সর্বমোট শিক্ষার্থী প্রায় ১৫০০, এর মধ্যে ৫০০ জন ফাজিলের শিক্ষার্থী।”

সার্বিক পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের এখতিয়ার একমাত্র ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এই দুই মাদরাসার যেকোনো একটি পেতে যাচ্ছে প্রথম কামিল কোর্সের অনুমোদন। এখন শুধু দেখার অপেক্ষা কামিলের মুকুট পরিধান করতে যাচ্ছে- কোন মাদরাসাটি!

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.