BanshkhaliTimes

বাঁশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাড়ছে প্রাণহানি

তাফহীমুল ইসলাম, বাঁশখালী-

৩১ কিলোমিটার আয়তনের বাঁশখালী প্রধান সড়ক হয়ে ওঠেছে মরণফাঁদ! প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। হঠাৎ করে ব্যস্থতম এ সড়কে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে মরণ আতঙ্ক। গত ১৩ দিনে এই সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ছাত্রনেতাসহ দুই জন। একজনের বেরিয়ে গেছে পেটের নাড়িভুড়ি। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। এভাবে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে বাঁশখালী প্রধান সড়ক। সম্প্রতি বাঁশখালী সড়ক নতুন করে সংস্কার ও বড় হওয়ায় যানবাহন চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালানোর ফলে এ দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পুকুরিয়া বাজার, রামদাস হাট, বৈলছড়ি বাজার, মিয়ার বাজার, টাইমবাজার, চাম্বল বাজার, প্রেমবাজারসহ সড়কের সবকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রয়েছে অবৈধ স্থাপনা। কোথাও কোথাও সড়কের উপরেই বসে কাঁচাবাজার। সড়ক বড় হওয়ার ফলে আগের বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো এখন চলে এসেছে সড়কেই। কিন্তু বছর পার হলেও সেই খুঁটি সরানোর কোন উদ্যোগ নেই। খুঁটিগুলো সড়কের মাঝে যেন বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে! এতে যান চলাচলে চরমভাবে বিঘ্ন ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয়দের দাবির মুখে গত ২৯ শে জানুয়ারী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসন অভিযান শুরু করলেও তা একদিনেই শেষ হয়ে যায়! তাছাড়াও অদক্ষ চালক, লাইসেন্স বিহীন গাড়ী, যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং, অতিরিক্ত সিএনজি, যত্রতত্র যাত্রী উঠা নামা, গতিরোধক না থাকাটাও এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হবার অন্যতম কারণ। বাঁশখালী সড়ক নতুন করে সংস্কার হওয়ার পর আগের তুলনায় যান চলাচল বেড়েছে কয়েকগুণ। পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করছেন। ফলে এ সড়কে আগের তুলনায় মানুষ ও পরিবহন দুটোর চাপই বেড়েছে। কিছুদিন আগে নেমেছে এস আলম বাস সার্ভিসও। তাদের পরিবহনের সাইজ এতো বড় যে নিজেদের দুটো গাড়ী ক্রস করতেই হিমশিম খেতে হয়। তারা এই অপ্রশস্থ সড়কে গাড়ী চালায় হাইওয়ে সড়কের মতো। এতে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। প্রতিদিন এভাবে দুর্ঘটনা ঘটতে থাকলেও তা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা না যাওয়াটা হতাশা ও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাঁশখালী যাত্রী অধিকার পরিষদের আহবায়ক এম মনসুর আলী বলেন, ‘সম্প্রতি বাঁশখালীর পরিবহন ব্যবস্থায় আবারও নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অদক্ষ চালক, বোপরোয়া প্রতিযোগিতা, কিশোর গ্যাংগের মোটর সাইকেল দৌরাত্ম্য, অবৈধ স্থাপনা বাঁশখালী সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির কারণ। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ধর্মীয় গুরু, সামাজিক সর্দার, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। উপজেলা প্রশাসন, বাঁশখালী থানা, সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে বসে পরিবহন ব্যবস্থাকে একটা চেইন অব কমান্ডে আনতে হবে। আমাদের সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। বাঁশখালীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমরা শিগগির কর্মসূচী দিবো।’

বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট দিদারুল আলম বলেন, ‘আমি মনে করি- রাস্তার ধারণ ক্ষমতার বেশি যানবাহন সংখ্যা, সড়কের তুলনায় বড় যানবাহন, অতিরিক্ত সিএনজি, অবৈধ স্থাপনা, পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা না থাকা, যথাযথ স্থানে গতিরোধক না থাকা, লবণের পানিতে রাস্তা পিচ্ছিল হওয়া বাঁশখালী সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ। এই দুর্ঘটনা রোধে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, সিএনজির সংখ্যা কমাতে হবে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে, সড়ক বড় করতে হবে, অদক্ষ ড্রাইভারদের রোধ করতে হবে। এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাঁশখালী সড়কের দায়িত্বে কেউ নেই! এরকম কোন পদক্ষেপ এখনও দেখা যাচ্ছে না।’

দৈনিক আজাদী পত্রিকার বাঁশখালী প্রতিনিধি সাংবাদিক কল্যান বড়ুয়া মুক্তা বলেন, ‘বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলার কারণে বাঁশখালী সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব থাকলেও বাঁশখালীতে পুলিশের ট্রাফিক ব্যবস্থা নেই। সড়কে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। যার ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।’

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published.