বাঁশখালীতে শহীদ ফ্লাইট সার্জেন্ট মহিআলমের শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

BanshkhaliTimes

মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী টাইমস: মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফ্লাইট সার্জেন্ট শহীদ মহিআলম চৌধুরীর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাঁশখালী সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বুধবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ১২ টায় এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

সাধনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাদু রশিদের সঞ্চালনায় ও সাধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন চৌধুরী খোকার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মাজাহারুল ইসলাম।

স্মরণ সভায় পরিবারের পক্ষে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শহীদ মহিআলম চৌধুরীর ভ্রাতুষ্পুত্রী মারজান বেগম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন এসময় উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইসমাইল, ইউপি সদস্য ফেরদৌস উল হক, বাঁশখালী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রয়ান জান্নাত, ইউপি সদস্য করুনাময় ভট্টাচার্য্য, ফেরদৌসউল হক, উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস হোসেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, ছাত্রনেতা কাইচার আলম মুন্না, সাইফুল আজম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট সার্জেন্ট এ, এইচ এম, মহিআলম চৌধুরীর ভাগিনা মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী ,কবিতা, সুশীল দে টুটুলসহ ইউনিয়নের সকল ইউপি সদস্যবৃন্দ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্মরণ সভা বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সার্জেন্ট মহি আলম (এফ এফ গ্রুপ কমান্ডার ও অপারেশন নেতা) একটি বিশ্বাস, একটি ভয়ংকর ও মহৎ অভিজ্ঞতা, একটি দূর্মর স্মৃতি, চেতনার জলসানো বিভাজনরেখা। একাত্তরের ন’টি মাসে পুরো জাতির সাথে ঘটনা প্রবাহে জড়িয়ে আছে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষন, বিভীষিকা, মুক্তিসেনাদের অভিযান, ব্যর্থতা, সাফল্য, আত্মত্যাগ, গোষ্ঠী বিশেষের বিশ্বাসঘাতকতা। এ সবই আমাদের জীবনকে কতটুকু পুড়িয়েছে, কতটুকু খাঁটি সোনা করেছে, আজ এই প্রশ্ন উঠেছে। আজও এর কোন উত্তর মেলে না। যে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি তারই একটি নাম সার্জেন্ট মহি আলম। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানটির জন্ম বরিশালের মেহেদিগঞ্জ থানার উলুনিয়া গ্রামে।
সেই ৭১ এ উত্তাল দিনগুলোতে বাঁশখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেতৃত্বদান করে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেওয়া অকুতোভয় এক যোদ্ধা শহীদ সার্জেন্ট মহি আলম। স্বাধীনতার মাত্র ২৮ দিন আগে বাঁশখালীর সাধনপুর সাহেবের হাটের পূর্বে বোর্ড অফিসে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকারের বুলেটের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানটি। তখন সহযোগী মুক্তিযোদ্ধারা তার লাশ কাঁধে করে প্রায় ৫ কিঃমিঃ দুর্গম পাহাড় লাম্বাকাডা নামক স্থানে সমাধি করেন। তার স্বজন’রা অনেকদিন জানতোও না তাদের প্রিয় মানুষটি বাঁশখালীর দূর্গম পাহাড়ে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.