বাঁশখালীতে মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাঁশখালীতে মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনঃ জড়িতদের বিচার দাবি

মাসুক মিনার, বিশেষ প্রতিবেদক, বাঁশখালী টাইমসঃ  ক্ষমতাসীন দলের নেতার হস্তক্ষেপে বাঁশখালীতে শতোর্ধ্ব বছরের মসজিদ ভাঙার খবরটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে সর্বমহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দা অব্যাহত রয়েছে। কাল রাত থেকে খবরটি প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া ও ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। সচেতনমহল এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক, ইতিহাস-ঐতিহ্যদ্রোহী ও দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করছেন।

প্রাচীন এই মসজিদটি ধ্বংসের প্রতিবাদে শেখ মোহাম্মদ বদল মুন্সি স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ১৫ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় মোমিন রোডস্থ রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ইতিহাস হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সাথে ইতিহাসের প্রাচীন এই স্বাক্ষী মুসলিম স্থাপনা ওয়াকফ প্রশাসন ও সরকারী করে অমান্য করে ধ্বংসের সাথে জড়িত ঘাতক ইতিহাসদ্রোহীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবী করেছেন। শেখ মোহাম্মদ বদল মুন্সি স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন আজমল হোসেন চৌধুরী, শেখ নুর মোহাম্মদ চৌধুরী, শরীফুল ইসলাম চৌধুরী, তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যক্ষ ইউনুচ কুতুবী, ভাস্কর ডি.কে দাশ মামুন, মোঃ নুরুল আলম, মোঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মোঃ ফরমান, খায়ের আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জামাল উদ্দিন, রেজাউল করিম তালুকদার, এ.কে.এম আবু ইউসুফ, সোহেল মুহাম্মদ ফখরুদ-দীন প্রমূখ।

Prottasha Coaching

১৬০ বছরের পুরাতন বাঁশখালী থানার সাধনপুর গ্রামে ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রখ্যাত জমিদার শেখ মোহাম্মদ বদল মুন্সির স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক শেখ মোহাম্মদ বদল মুন্সি জামে মসজিদটি আর রক্ষা করা গেল না। ১৬০ বছরের প্রাচীন এই ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকলেও ঘাতক ইতিহাসদ্রোহী কিছু কতিপয় স্বার্থান্বেষী মানুষের শাবল ও হাতুড়ির আঘাতে গত ১২ জানুয়ারি ২০১৭ বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে এই প্রাচীন মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ভারতীয় উপমাহাদেশের ইতিহাসের লেখক, সংরক্ষক, সংগ্রাহক প্রফেসর ড. আবদুল করিম, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও লেখক অধ্যাপক আসহাব উদ্দিন আহমদ, ভারতীয় উপমহাদেশের কালজয়ী সাংবাদিক ডিপুটি শাহ মোহাম্মদ বদিউল আলমকসহ বাঁশখালীর অনেক কৃর্তিমান পুরুষরা ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষনায় অবদান রেখে কালজয়ী হয়েছেন।

আজ স্মৃতিময় সেই তিন কালজয়ী মনীষীর জন্মভূমির স্মৃতিবিজড়িত এলাকার ১৬০ বছরের প্রাচীন দৃষ্টিনন্দন একটি ইসলামি স্থাপনাকে ইতিহাস অসচেতনার কারণে কতিপয় ইতিহাসদ্রোহীরা সম্প্রসারণের নামে এই প্রাচীন স্থাপনাকে ধ্বংস করে ফেলল। ভেঙ্গে ফেলা দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদে ১২টি ছোট গম্বুজ ও বিশাল আকারের এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রসিদ্ধ। মসজিদের মোতোয়াল্লী শেখ মোহাম্মদ শফিউল কাদের চৌধুরী মসজিদ ভাঙ্গার সংবাদ পাওয়া মাত্র ঐদিন রাতে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঁশখালীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত ও মৌখিক অবহিত করলেও এই ঘাতকদের হাত থেকে মসজিদটি শেষ রক্ষা গেল না। এই বিষয়ে থানার ওসিকে এজাহার দাখিল করতে চাইলে তিনি মোতোয়াল্লীর কাছ থেকে এজাহার গ্রহণ করেননি এবং অদ্যবদি এই এজাহার গ্রহণ করেননি। মসজিদটি রক্ষার জন্য দীর্ঘ এক বছর ধরে শেখ মোহাম্মদ বদল মুন্সি জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট, শেখ মোহাম্মদ বদল মুন্সি স্মৃতি পরিষদ ও চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সাংস্কৃতিক মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৃথক পৃথক ভাবে ঐ মসজিদটি প্রত্ন আইনে সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য একাধিকবার স্মারকলিপি প্রদান করেও শেষ পর্যন্ত এই প্রাচীন মসজিদটি আর রক্ষা করা গেল না। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, এলাকার কতিপয় ইতিহাস অসচেতন ব্যক্তি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ওয়াকফ প্রশাসকের সরকারি অন্তর্ভুক্ত সম্পত্তিকে আইন অমান্য করে রাজনৈতিক বলীয়ানে শক্তি প্রদর্শন পূর্বক মসজিদটিকে রাতের অন্ধকারে শতাদিক ভাড়াটি লোক দিয়ে ভেঙে ফেলে। এই জঘন্যতম কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ইতিহাস হত্যাকারী চিহ্নিতপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। উল্লেখ্য যে, মসজিদটি রক্ষার জন্য চট্টগ্রামের ইতিহাস সচেতন জনগণ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সম্মুখে মানববন্ধন, প্রেসক্লাবে সেমিনার ও গণসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের পরও অসচেতন মূর্খ জ্ঞানপাপীদের রাজনীতির বল প্রদর্শনে সৎ মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও ইতিহাসের সমুজ্জ্বল আলোকচ্ছটাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল। অথচ পৃথিবীর সভ্যতার ইতিহাস প্রাচীন প্রত্ন সম্পদ দিয়েই প্রদর্শন হয়। আর আমাদের বাংলাদেশে একটি প্রাচীন প্রত্ন সম্পদকে রক্ষার চাইতে ধ্বংস করার মানসের লোকদের কারণে শত বছরের প্রাচীন একটি ইতিহাসের যবনিকা ঘটল। এর চাইতে দুঃখ ও লজ্জাজনক বিষয় চট্টগ্রাম তথা বাঁশখালীর জন্য আর কি হতে পারে? ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.