বাঁশখালীতে ‘গার্ড অব অনার’ ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দাফন সম্পন্ন, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

BanshkhaliTimes

বাঁশখালীর দক্ষিণ শেখেরখীলের লালজীবন এলাকার মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মৌলভী ছৈয়দ এর বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ (৮৫)’কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।

গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ।

মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফের ছোট ছেলে জহির উদ্দীন মুহাম্মদ বাবর বলেন, মারা যাওয়ার পর আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফের মৃত্যুর সংবাদ এবং জানাযার সময় আমরা উপজেলা প্রসাশনকে অবহিত করি। কিন্তু প্রসাশনের পক্ষ থেকে আমার বাবাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়নি। জানাযার প্রায় ৩০ মিনিট পর উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর জানাযাস্থলে পাঠান। জানাজার নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও কিছু সময় উপজেলা প্রশাসনের জন্য অপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন কার্য সম্পন্ন করি। আমি মনে করি এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে অসম্মান জানাবে কখনও ভাবিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানান, আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে বাঁশখালীর দক্ষিণ শেখেরখীলর লালজীবন এলাকার হাছনি বাপের জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযোদ্ধার লাশ জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দাফনের সময় হয়ে গেলেও আসেনি উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে কেউই। দাফনকার্য শেষ হওয়ার পরই সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানাজা স্থলে উপস্থিত হন।

এনিয়ে এলাকাবাসী ও মৃতের স্বজনদের মধ্যে দেখা দেয় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ। এসময় কিছুসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারপূর্বক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মৌলভী ছৈয়দ এর বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র ও ৫ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে যান। তিনি বাঁশখালী উপজলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

এদিকে তার নামাযে জানাযা শেষে দুপুর ২টার দিকে মরহুমের খবর জেয়ারত করে কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলাম, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার, (ওসি) তদন্ত মু. কামাল হোসেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান মু. ইয়াছিন সহ প্রসাশনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে শেখেরখীল ইউপি চেয়ারম্যান মু. ইয়াছিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফের মৃত্যু এবং জানাযার সময় তাৎক্ষনিকভাবে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে রাখি। সকাল ১১টায় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করার জন্য কিছু সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়। তাই আমরা লাশ দাফন করি। পরে সহকারী কমিশনার ভূমি জানাযা স্থলে আসলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কবর জেয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলী জানানো হয়।

খবর সিভয়েসের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published.