বাঁশখালীতে এমন ‘মরণসড়ক’ আমরা চাই না

BanshkhaliTimesবাঁশখালীতে এমন ‘মরণসড়ক’ আমরা চাই না
আরকানুল ইসলাম

বাঁশখালীতে এমন ‘মরণসড়ক’ আমরা চাই না। সড়ক প্রশস্ত হওয়ার পরও এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে তা আমরা ভাবিনি! আজ সন্ধ্যার পর থেকে দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি রামদাস হাটের পর নুরজাহান ক্লাবের সামনে, যাতে বাবুল নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরেকটি হয়েছে চাঁনপুর বাজারে! এভাবে প্রতিদিন কোনো না কোনো মায়ের বুক খালি হচ্ছে।

কেন সড়কে প্রাণ দেবে আমার কোনো ভাই, বোন, বাবা কিংবা মা?

অভিযোগ উঠেছে, মাছ ও লবণবাহী ড্যাম্পার বা কাভার্ডভ্যানের বেপরোয়া চলাচলের কারণে আনোয়ারা-বাঁশখালী-পেকুয়া-বদরখালী রুটে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। কেউ আহত হচ্ছে আবার কেউ ঘটনাস্থলেই পাড়ি দিচ্ছে পরপারে! অদক্ষ সিএনজি চালক, বেপরোয়া ট্রাক-ড্যাম্পার-কাভার্ডভ্যান চালকের ভাবলেশহীন চালনায় সড়ক হয়ে উঠেছে এক মৃত্যুফাঁদ!

এছাড়া সড়কের উপরে কাঁচাবাজার বসা, সড়কের দুইপাশে অবৈধ হকার বসা, দোকানের সামনের অতিরিক্ত অংশ বৃদ্ধি করে সড়কে নিয়ে আসা থেকে শুরু লোকজনের অসচেতনতার কারণেও এই দুর্ঘটনা হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতনমহল। সম্প্রতি চেচুরিয়াসংলগ্ন সড়কে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত হয়েছে তানভীর সিকদার নামের এক টগবগে তরুণ! তার মৃত্যুতে যেন পুরো বাঁশখালীবাসী কেঁদেছে! তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৈচৈ পড়ে গেলে প্রশাসন তাৎক্ষণিক সড়কের দুইপাশে অবৈধ হকার ও দোকানের বর্ধিত অবৈধ অংশ উচ্ছেদে অভিযান চালায়। সেই অভিযান কয়দিন স্থায়ী ছিল সঠিক না জানলেও অভিযান পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার হকাররা সেই স্থানে এসে আগের মতোই ‘গেড়ে’ বসে এবং দোকানের অবৈধ অংশে আবার জিনিসপত্র রাখা শুরু করে দোকানিরা।

বাঁশখালীতে প্রবেশের মুখে চাঁনপুর বাজার, গুনাগরি খাসমহল, রামদাশ মুন্সির হাট, বৈলছড়ি বাজার, জলদী মিয়ার বাজার, শীলকূপ টাইমবাজার, চাম্বল বাজার, নাপোড়া বাজার, পুইঁছড়ি-প্রেমবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়ক আর সড়ক থাকে না। এ যেন মানুষের সমাবেশ! এসব স্থানে অযাচিত পার্কিংয়ের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম লেগে থাকে, নষ্ট হয় কর্মজীবী মানুষের কর্মঘণ্টা! রাস্তায় গাড়ি চলাচলের মতো অবস্থা তখন আর থাকে না।

এইসব অযাচিত, বিবেকবর্জিত কাজ থেকে রেহাই পেতে একমাত্র প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া বিকল্প নেই। এই জ্যামের উৎস বের করে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তাৎক্ষণিক ‘জরিমানা’র ব্যবস্থা করলে দ্রুত একটা কার্যকরী পন্থা বের হয়ে আসবে। একমাত্র জরিমানাই বাঙালিকে অনর্থক-অহেতুক-অযাচিত কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যেটা চিহ্নিত হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে সড়ক হতে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করা, অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গাড়ি চালনা, অবৈধভাবে টাকা নিয়ে লাইসেন্স প্রদান, সড়কের উপরে কাঁচাবাজার-মাছবাজার বসা। সড়কে মানুষের ভীড়ের কারণেও নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি বাঁশখালীতে নতুন করে একটি কোম্পানির বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। সড়কের প্রশস্থতার তুলনায় এই বাসগুলো তুলনামূলক বড়। দুদিক থেকে আসার সময় এরা নিজেরাই নিজেদেরকে জায়গা দিতে পারে না! পুরনো বাস সার্ভিসগুলো তো আছেই। অনেক দূর থেকে ব্রেক কষে অপেক্ষা করতে হয়। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সড়ককে আরো প্রশস্থ করা জরুরি।

আমরা বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে ‘মরণসড়ক’ হিসেবে চাই না। লবণবাহী গাড়ির পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হচ্ছে বলে যে ‘রব’ উঠেছে তার সত্যতা কতটুকু আমার জানা নেই। কারণ, লবণ হচ্ছে ক্ষারযুক্ত, এতে রাস্তা কিভাবে পিচ্ছিল হয়? আমার ধারণ, বেপরোয়া গাড়ি চালনাই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

প্রশাসন যেন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার জন্য আমরা তাদেরকে বিষয়টা জানাতে পারি। এক্ষেত্রে শুধু পত্রিকা-নিউজপোর্টাল, সামাজিক সংগঠন শুধু নয়, যেন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলো এগিয়ে আসে। নয়তো তাদের কাজ কী? মিছিল-মিটিং তো দলের নেতার জন্য অনেক করেছেন। এবার অন্তত সমগ্র বাঁশখালীবাসীর জন্য মন থেকে একটা মানববন্ধন করুন, একটা মিছিল করুন, একটা স্মারকলিপি প্রদান করুন, একটা জোরালো আওয়াজ তুলুন- বাঁশখালীতে এমন ‘মরণসড়ক’ চাই না।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.