প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ

Prottasha-Coaching

বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণ ও অভাব উপলব্দি করতে পারবে অন্তত আরও কয়েক যুগ পর, যখন তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না। জাতির পিতার পর বাংলাদেশ নিয়ে এভাবে আর কেউ কল্পনা করেনি বা নেতৃত্বের সাহসিকতা দেখাতে পারেনি। যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা নিজেকে ও বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তা রীতিমতো অকল্পনীয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে শেখ হাসিনার অবদান অম্লান থাকবে যুগ-যুগান্তর।

শেখ হাসিনা একজন মানবতাবাদী, দেশপ্রেমিক, সৎ, কর্তব্যনিষ্ঠ, ন্যায়পরায়ণ, মননশীল রাজনীতিবিদ ও সুলেখক। অন্যায়, অবিচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ বার বার উচ্চারিত হয়েছে। শেখ হাসিনার রাষ্ট্রচিন্তা ও পরিচালনা যুগোপযোগী, বাস্তবসম্মত। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন সকলক্ষেত্রে বাঙালি জাতিকে বিকাশমান ধারায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি যা ভেবেছেন, মানুষকে সঙ্গে নিয়েই ভেবেছেন। তিনি যা স্বপ্ন দেখেছেন, মানুষকেও তা দেখাতে উদ্বোদ্ধ করেছেন। সৃষ্টিশীল চিন্তা আর ভবিষ্যৎকে দেখার বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি এমন সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হচ্ছেন, যা আমাদের দেশের মানুষ কখনোই ভাবতে পারেনি। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আজ। দেশে ও দেশের বাইরে ভিশনারী লিডার হিসেবে শেখ হাসিনার যে ঈর্ষনীয় সাফল্য এক কথায় অনন্য ও অসাধারণ।

শেখ হাসিনার জীবন কর্মবহুল ও সাহসিকতায় পূর্ণ। তিনি নিজেকে ক্রমশ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। তাঁর কর্মের গুণে তিনি বিশ্বে ব্যাপক সম্মানিত ও প্রতিনিয়ত আলোকদীপ্ত হচ্ছেন। তাঁর দেশী ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা’র সংখ্যা অর্ধশতাধিক। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। মূলত শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা, সৃষ্টিশীল চেতনা, দেশকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা, পাশাপাশি বিশ্বশান্তি নিয়ে উদ্যোগ পুরো বিশ্ব অবাক তাকিয়ে দেখেছে। যা সম্ভব হয়েছে দেশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কারণে। উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের কাছে বাংলাদেশের এ সাফল্য বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বিস্ময়কর এ সাফল্যের মূল কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এর সবই সম্ভব হয়েছে জাতির পিতার মতোই রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকার জন্য।

বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন-অগ্রগতিতে আগের সেই দেশ নেই। নানা উত্থান-পতন সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকন্যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ আজ যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব সূচকই তার সাক্ষ্য বহন করছে। খাদ্যে স্বনিভর্রতা অর্জনের পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সাফল্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে তিনি আজ মডেল হিসেবে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ করে তোলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসন করে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন শাসক হিসেবে তিনি যেমন দক্ষ, কর্মঠ, দেশনন্দিত তেমনি গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। শেখ হাসিনা তার যে দক্ষতা, পরিশ্রম, সততা, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের পরাকাষ্টা দেখিয়ে যাচ্ছেন তা অনন্য ও উজ্জ্বল।

শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর উদ্ভাবনী ভাবনা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে বাংলাদেশ এখন অপ্রতিহত গতিতে অগ্রসরমান। সবক্ষেত্রে সুশাসন, সব কার্যক্রমের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও বৈষম্য মুক্ত, ক্ষুধামুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যেই তাঁর সরকার তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেয়। বলা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী এক দর্শন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুখী-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে সব জনগণকে সম্পৃক্তকরণ জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবউন্নয়ন, বহুরৈখিক অর্থনৈতিক সুযোগের বৈচিত্রায়ণ, অতিদ্রুততার সাথে সরকারি সেবা জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেয়া। মূলত একবিংশ শতাব্দির প্রযুক্তি-নির্ভর বেগবান বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজেদের দারিদ্র্য ঝেড়ে ফেলতে সক্রিয় হন শেখ হাসিনা। দূরদর্শী সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে সকল কার্যক্রম। তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে যেকোনো প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে তিনি অনড়। সে জন্যেই সম্ভব হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো একটি বিশাল পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন। তাঁর দৃঢ়তার ফলেই সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন মূলত এক ও অভিন্ন। তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে তিনি রাষ্ট্রের জন্য একটি ভিশন ঠিক করে দিতে পেরেছেন। একটি রাষ্ট্রদশর্ন দিতে পেরেছেন। বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে তাঁর সামনে রয়েছে এখন ভিশন ২০২১। ঘোষণা করা হয়েছে ‘রূপকল্প-২০৪১’। এর মধ্যেই নিহিত আছে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত ধাপে এগিয়ে নেয়ার দর্শন। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের পর্যায় পেরিয়ে শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ, সুখী ও উন্নত জনপদ। সুশাসন ও জনগণের ক্ষমতায়ন হবে এ অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র। সততা, নিষ্ঠা, সরলতা, শিক্ষা-দীক্ষা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জনসেবা ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি উন্নয়নবিশ্বের রোল মডেল, শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত, দেশরত্ন, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, বিশ্বনেত্রী ইত্যাদি খেতাব পেয়েছেন। দেশ পরিচালনায় বাংলাদেশে বিভিন্ন দপ্তরের কিছু শ্লোগান ‘শেখ হাসিনার দর্শন, সেবক হয়ে কর্মসম্পাদন’, ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’, ‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’, ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র’ ইত্যাদি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জনমনে সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রেষণামূলক বিষয়।

শেখ হাসিনার রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। ফলে একসময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে। সবই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী এবং সাহসী নেতৃত্বের জন্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার, পদক, ডক্টরেট ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে জাতিসংঘের বেশক’টি পুরস্কার রয়েছে। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টির অধিক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন।

শেখ হাসিনার মূল শক্তি হয়তো শূন্যতা থেকেই। তিনি শোককে শক্তিতে পরিণত করেছেন সেই পঁচাত্তরেই। তাঁর হারানোর আর কিছু নেই বলইে মৃত্যু, বাঁধা যা-ই আসুক তিনি দেশকে কিছু দিয়ে যেতে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। মানুষের উন্নয়ন ছাড়া তার ভাববার আর কিছুই নেই। আমাদের সৌভাগ্য যে, তাঁর মতো লক্ষ্যভিসারি, অকুতোভয়, পরিশ্রমী একজন নেতা পেয়েছি। তিনি তাঁর জীবন বাংলার মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন। ১৯৮১ সালের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় চার দশক সামরিক-বেসামরিক স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। মানবদরদী শেখ হাসিনা সকল মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনাই এখন সব কিছুর শেষ ভরসাস্থল।

মূল্যবোধের দিক থেকে শেখ হাসিনার অবস্থান বরাবরই মানবমুক্তির পক্ষে। তাই বাংলার পতাকায় যেমন, পৃথিবীর পথে প্রান্তরেও শেখ হাসিনা তেমনই এক উজ্জ্বল নাম। ২৮ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর ৭৩তম জন্মদিন। তিনি বহু শিখার একটি প্রদীপ, মানববিশ্বের অনন্য আলোকবর্তিকা…

লেখক: আলী প্রয়াস, কবি ও প্রাবন্ধিক

Prottasha-Coaching

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.