পর্যটনের হাতছানি দিয়ে ডাকছে বাঁশখালী

মোঃ রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদঃ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা। যেখানে জলকদর-নদীর মিলনস্থলে ছায়া হয়ে দিগন্তে মিশে গেছে নীল অাকাশ। এই সৌন্দর্যকে দেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর কাছে অার সহজে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং দেশের পর্যটনশিল্পকে আর একধাপ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এখানে তৈরি হয়েছে সৌন্দর্যময় বাঁশখালী ইকো-পার্ক, চা বাগান ও বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত। যদিও বাঁশখালীতে আরও অনেকগুলো পর্যটনকেন্দ্র থাকলেও এই তিনটা সব চেয়ে বেশি পরিচিত। বাঁশখালী ইকেপার্ক, চা বাগান, বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত দেখতে হাজার হাজার পর্যটক পরিবার প্রিয়জন বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন।

ইকোপার্কঃ যেখানে ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ি ছড়ার মিলন মোহনায় রয়েছে স্বচ্ছ সবুজ জলধার। পাহাড়ি ঝর্ণা প্রবাহ হতে সৃষ্ট জলধারা এর সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম ঝুলন্ত ব্রীজ অার রয়েছে নানা রকম বাহারী রঙের শস্য-শ্যামল গাছ-গাছালি এবং বৈচিত্র্যময় লেক। এই প্রাকৃতিক দৃশ্যে মুখরিত হয়ে ওঠে পর্যটকরা।

বৃহত্তম সমুদ্রসৈকতঃ বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা উপকূলীয় ছনুয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, গন্ডডামারা, সরল, খানখানাবাদ, বাহারছড়া এবং পুকুরিয়া ইউনিয়নের উপর অবস্থিত বৃহত্তম এই সমুদ্রসৈকত। বিশেষ করে কদমরসুল পয়েন্ট, বাহারছড়া পয়েন্ট এবং গন্ডামারা পয়েন্টে অতিরিক্ত পর্যটক ভিড় জমায়। নানা রকমের খেলাধুলা, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব সহ সমুদ্রভোজন, সূর্য ডোবা দেখাসহ ইত্যাদি বিমুগ্ধ করে তোলে পর্যটকদের। এই সমুদ্র সৈকত যদি সরকারিভাবে পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা হয় তাহলে বিশ্বের পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠবে এক অসম্ভব সৌন্দর্যময় বৃহত্তম সমু্দ্রসৈকত।

পুকুরিয়া চা বাগানঃ চা বাগান বললেই আমাদের মনে পড়ে সিলেটের কথা, কিন্তু অাপনি চাইলে সিলেটের চেয়ে বেশি মন-মুগ্ধকর পরিবেশে উপভোগ করতে পারবেন পুকুরিয়া চা বাগান। চারদিকে স্বচ্ছ সবুজ শ্যামলে ভরা পাহাড়, নানা রকমের পাখিদের ডাকে সৌন্দর্যে ভরে ওঠে এই চা বাগান।

কিভাবে যাবেন বাঁশখালীঃ চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট বাস-টার্মিনাল হতে বাঁশখালী স্পেশাল সার্ভিস, সুপার সার্ভিস, এসঅালম পরিবহন, অথবা শাহ অামানত সেতু (নতুন ব্রীজ) থেকে সিএনজি যোগে (বাসে হলে ৮০টাকা, সিএনজি হলে ১০০টাকা) দিয়ে বাঁশখালী উপজেলা সদরে নামবেন। সেখান থেকে রিজার্ভ ১০০-১২০টাকা লোকাল হলে ৩০টাকা দিয়ে ইকোপার্ক,২০টাকা দিয়ে টিকেট কিনে উপভোগ করুন সৌন্দর্যে ভরপুর নান্দনিক এই পার্ক।
সমুদ্রসৈকত যেতে চাইলে উপজেলা সদর হতে রিজার্ভ ২৫০টাকা, লোকাল হলে জনপ্রতি ৫০-৫৫টাকা দিয়ে সমু্দ্রসৈকতে যেতে পারেন।

থাকার জায়গাঃ বাঁশখালী উপজেলা সদরে অসংখ্য হোটেল রয়েছে। সিঙ্গেল হলে ৩০০-৫০০টাকা, ডাবল হলে ৭০০-১০০০টাকা। মানসম্মত হোটেল সেবা এবং খাবারের জন্য বিখ্যাত এই উপজেলা। এই উপজেলা সদরে রয়েছে মামা বাড়ি রেস্টুরেন্ট, নিউ সাফরান রেস্টুরেন্ট, কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টসহ অসংখ্য খাবারের হোটেল।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.