নির্বাচিত স্ট্যাটাস: প্রসঙ্গ বাঁশখালীর আগামী সংসদ নির্বাচন

সমর্থন, মনোনয়ন, নির্বাচন এবং জয়: প্রসঙ্গ বাঁশখালীর আগামী সংসদ নির্বাচন

জালাল উদ্দিন মিসবাহ

১. যে কেউ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সমর্থন চাইতে পারে এবং পাইতেও পারে, মনোনয়ন চাওয়াই এমপি হয়ে গেছে বিরোধী শিবির এমন ভাবাটা বোকামি হবে। তবে তিনি পরিষদ কিংবা কর্পোরেশন এর সাবেক জনপ্রতিনিধি হলেও গোটা নির্বাচনী এলাকায় ভোটার ও দলীয় নেতা ও সমর্থকদের কাছে তার প্রচুর জনসমর্থন থাকতে পারে উড়িয়ে দিবেন কিভাবে?

.

২. আপনি বারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাই বলে আগত জাতীয় নির্বাচনেও এমপি নির্বাচিত হবেন তেমন কোন কথা নেই। নির্বাচনী এলাকায় আপনার পূর্বের সেই সমর্থন আছে কিনা সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। জনগণ আপনাকে চাইবে অতীতের কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নের উপর।

.

৩. আপনি কোটি কোটি টাকার মালিক, দেশের নামকরা শিল্পপতি, দান-খয়রাতও প্রচুর করেছেন,  দলীয় কর্মকাণ্ডে তেমন কোন সরব উপস্থিতি নেই, দলীয় মনোনয়নও পেয়েছেন। দলের কর্মকাণ্ডে তেমন উপস্থিতি না থাকায় দল পাগল খাঁটি সমর্থকরা আপনাকে কতটুকু গ্রহণ করে সেটা দেখার বিষয়।

.

৪. আপনার পরিবারে আউলিয়া কিংবা স্বনামধন্য কেউ একজন আছেন। তাই বলে স্বনামধন্য ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে আপনি এমপি হয়ে যাবেন এটা যদি মাথায় রাখেন তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করবেন। যদিও অতীতে স্বনামধন্য ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ফায়দা পেয়েছেন।

.

৫. আপনি সাবেক কয়েকবারের এমপি ছিলেন, অনেক বড় সরকারী গুরুত্বপূর্ণ দায়ীত্বেও ছিলেন। কূটনৈতিক তৎপরতায়ও খুব অভিজ্ঞ, আপনার এমপি কালীন সময় ও অসময়েও অনেক উন্নয়ন করেছেন। তবে মাঝখানে দীর্ঘ সময় রাজনীতির মাঠে হারিয়ে গেলেন। দীর্ঘদিন নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকার কারণে জনগণের সাথে আপনার দূরত্ব সৃষ্টি হলো তাছাড়া তরুণ প্রজন্ম অনেকেও আপনাকে চিনেনা। সুতরাং আপনি জানেন আপনার নির্বাচনী অবস্থা।

.

৬. আপনার নির্বাচনী এলাকায় কোন বড় পদ পদবী নেই। দলীয় কর্মকাণ্ডে সরব উপস্থিতি আছে। তিলে তিলে শ্রম দিয়ে অনেক কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী তৈরি করেছেন। মনোনয়ন না পেলেও ,পদ পদবীও না থাকলেও তারপরেও কিন্তু দীর্ঘ দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আপনার এমপি হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

.

৭. আপনার পরিবারে সাবেক কেউ এমপি ছিল। দলের জন্যও অনেক অবদান আছে তার, মনোনয়নও পেলেন তবে আপনি নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কাছে তেমন পরিচিত না। তাই কথা হচ্ছে পরিচিত না হওয়ার কারণে ভোটাররা আপনার উপর কতটুকু আস্থা ও ভরসা রাখবে।

.

৮. আপনি জনপ্রিয় আঞ্চলিক নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও বটে। রাজনৈতিকভাবে সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে সারাদেশে পরিচিতি লাভ করেছেন।

মনোনয়ন চেয়েছেন, পাইতেও পারেন। তবে জনতা আপনাকে কতটুকু চায় এবং এলাকার জন্য কতটুকু করতে পারবেন এবং কেন্দ্র থেকে কত আনতে পারবেন সেটা অনুধাবন করে ভোটাররা আপনার উপর সিদ্ধান্ত নিবে।

.

৯. আপনি জনসমর্থহীন নির্বাচনে এমপি হয়েছেন, তাই বলে আগামীতেও হবেন তেমন ধারণা মাথায় না রাখাই উচিত। তাছাড়া আপনাকে যে গতবারের জনসমর্থনহীন নির্বাচনে নিজে মনোনয়ন না নিয়ে আপনাকে দিয়েছে সে গুরুর উত্তরসুরীও মনোনয়ন চাইবে, বুঝতে তো পারছেন। তবে একটা ক্ষেত্রে আপনি এগিয়ে সেটা হলো যদি ইউপি/পৌর/উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি কিংবা সভাপতি/সম্পাদকের ভোটে মনোনয়ন দান দেন তবে সে ক্ষেত্রে আপনি নিশ্চিত এগিয়ে। তবে ভোটের ক্ষেত্রে তেমন সহজ হবে না, কারণ জনপ্রিয়তা এবং যোগ্যতা বলে একটা কথা আছে।

.

১০. আপনি সাবেক মস্ত বড় কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ছিলেন, বর্তমানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এখনও কেন্দ্রে আপনার প্রভাব প্রতিপত্তি আছে কিন্তু এলাকায় জনসমর্থন নেই, দলীয় মনোনয়ন পেলেও অপরিচিত এর কারণে কাজ হবেনা বরং দল ডুবাবেন। তাই আগে নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করতে হবে।

.

দল বা জোট যখন করে যোগ্যতা সম্পন্ন যে কেউ মনোনয়ন চাইতে পারে, চাওয়াটা তার অধিকার তবে জনগণ কতটুকু তাদের চায় সেটা দেখার বিষয় কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে দল কিংবা মার্কা বিরাট ভূমিকা পালন করে এমপি হওয়ার ক্ষেত্রে।

সর্বোপরি আগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বা আসনে প্রতিটি দলের এমন ব্যক্তিবর্গকে মনোনয়ন দেয়া হোক বা উচিৎ। যে যোগ্য, শিক্ষিত, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞ, দলের দীর্ঘদিনের নিবেদিত প্রাণ/নেতা, যার দ্বারা জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব, যে সর্বোপরি মেধার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে।

শুভ কামনা সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের।

Prottasha-Coaching

You May Also Like

2 thoughts on “নির্বাচিত স্ট্যাটাস: প্রসঙ্গ বাঁশখালীর আগামী সংসদ নির্বাচন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.