দেড়শো বছরের ইতিহাসধন্য দরগাভিটায় শকুনের নজর ও তারুণ্যের জয়

BanshkhaliTimes

দেড়শো বছরের ইতিহাসধন্য দরগাভিটায় শকুনের নজর ও তারুণ্যের জয়

সাইফী আনোয়ারুল আজিম

আমাদের ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামের হাজি কালামিয়া পাড়ার পূর্বপাশে যে বিলটি আছে, এই বিলের ঐতিহাসিক নাম হচ্ছে ” দরগাহঘোনা” প্রায় দেড়শো বছর আগে থেকে এখানে একটি দরগাহভিটা থাকার কারণে এই বিলটিকে দরগাহঘোনা হিসেবে সম্বোধন করা হয়। জনশ্রুতি রয়েছে এই কোন একজন আল্লাহর মকবুল বান্দার কবর রয়েছে। দরগাভিটার বর্তমান অবস্থান যেখানে, সেটি একসময় পুরো চর এলাকা। বাঁশখালীর ( Banshkhali ) জলকদর খাল হয়ে দরগাহভিটের পাশের চরে নৌকা চম্পান এসে নোঙর করত। তখন এই চরাঞ্চল দিয়ে মাটি উঠানামা হতো। এটি ছিল একটি জংশন। কোন একসময় এই জংশনে একজন লোক মারা যাওয়ার পর তাঁকে এই দরগাভিটায় দাফন করা হয়। তখন থেকে এটি দরগাভিটা হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে।

প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ঐতিহাসিক দরগাহভিটাটি সেই ছোটকালে আমরা যেভাবে দেখেছিলাম গত কয়েকদিন আগেও ঠিক সেভাবে দেখেছি। এটি বছরের পর বছর অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকে। কেউ এটার সংরক্ষণের জন্য এগিয়ে আসেনি। তবে প্রায় দেড়শো বছর পেরিয়ে গেলেও এটির মুছে যায়নি।

ঐতিহাসিকভাবে এই দরগাহভিটে সম্পর্কে এলাকার আশির্ধো প্রবীণ মুরব্বিদের কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরেছি।
এলাকার মুরব্বিদের অনুরোধে ২০১৬ সালে আমি এবং আমার ফুফাতো ভাই অগ্রজ জাহাঙ্গীর ও জামাল ভাই মিলে চারপাশে মাটি দিয়ে ভরাট করে সুন্দরভাবে ঘেরাও করে দিই এবং দেখাশুনা করি। কিন্তু সে সময় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ঘেরাওটি ভেঙে যায়। এরপরে অধিকতর ব্যস্ততার কারণে মাঝখানে দরগাহভিটেটি সংস্কার করতে পারিনি।

এরইমধ্যে গত কয়েকদিন আগে দেখি এই দরগাহভিটায় শকূনের নজর পড়ে যায়। যার কারণে এই শকুনের দল দরগাভিটার মাটিগুলো কেটে জমিনের সাথে মিশে দেয়। তারা সেখানে দেড়শো বছরের পুরনো দরগাহভিটের কোন চিন্থ সেখানে অবশিষ্ট রাখেনি। যারা এই কাজটি করেছে তাদের বাপ দাদার জন্মের বহু আগে এই দরগাভিটার জন্ম। তাঁদের ক্ষমতা এতই বেড়ে গেছে যে, শেষমেশ তারা দেড়শো বছরের পুরনো দরগাভিটা কাটতেও দ্বিধাবোধ করেনি।

এমন জঘন্য কর্মকান্ডের ফলে আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে একটি চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

যারা চেয়েছিল দরগাভিটার চিন্থটি মুছে যাক। তাঁদের সেই স্বপ্ন আমরা এলাকার একদল শিক্ষিত তরুণ চুরমার করে দিয়েছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আজকে পুনরায় সে দরগাভিটায় মাটি ভরাট করে আগের রূপ ফিরিয়ে এনেছি।

এইজন্য আমি ধন্যবাদ জানাই বড় ভাই জামাল সাত্তার, জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদুল ইসলাম, ছোট ভাই রফিক, বেলাল, শাহিন, নেছর, ইছহাকসহ আরো যারা অার্থিকভাবে সহযোগিতা করে দরগাভিটা রক্ষার উদ্যোগে শামিল হয়েছেন সবাইকে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আজ আমরা সফল।

শুধু একটা কথা বলে রাখি, আমরা সবাই মরে যাব। মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করব। কিন্তু দেড়শো পুরনো এই পবিত্র দরগাহভিটা কেয়ামত পর্যন্ত অক্ষত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

লেখক- সাংবাদিক ও সমাজ সংগঠক

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.