জমকালো আয়োজনে আনন্দে উল্লাসে কালীপুর স্কুল

মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের: “এসো মিলি প্রাণের টানে” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কালীপুর এজাহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তী উৎসব জমকালো ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তিতে দুই দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য হীরক জয়ন্তী অনুষ্ঠান সকাল ১১টায় শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী, প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম। শুভ উদ্বোধনোত্তর আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম.এ মালেক, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য শাহিদা আকতার জাহান।অন্যান্যদের মধ্যে প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ, মহা সচিব অধ্যক্ষ আ.ন.ম সরওয়ার আলম, কালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট আ.ন.ম শাহাদাত আলমসহ নিবন্ধিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর বিকালে ৫ টায় দ্বিতীয় অধিবেশনে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভাপতি নিজাম উদ্দীন (ফেজু মিয়ার) সভাপতিত্বে ও কালীপুর ইউপির চেয়ারম্যান এড.আ.ন.ম শাহাদত আলমের স্বাগত বক্তব্যর মধ্য দিয়ে অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি বোরহান উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শন কাজী নাজিমুল ইসলাম,চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এড.আনোয়ারুল ইসলাম, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লা,বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আলমগীর হোসেন,
সাবেক যুগ্ন সচিব কৃষ্ণ পদ চক্রবর্তী প্রমূখ।

১৩ জানুয়ারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনঃ মিলনী, স্মৃতিচারণ, আড্ডা শেষে অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দের সংবর্ধনা বিকালে অনুষ্ঠিত হবে।এতে প্রধান অতিথি থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মাহামুদুল হক, বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সচিব শাব্বির ইকবাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে এম এমরান ভুঁইয়া, প্রধান আলোচক থাকবেন লেখক ও গবেষক বেলাল বেগ, আলোচক থাকবেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্ত্তী,লেখক সাংবাদিক শওকত বাঙালী।
সভায় পরিষদের উপদেষ্টা মনিরুল আলম আজাদ,মহাসচিব অধ্যক্ষ আ,ন,ম সরোয়ার আলম,প্রধান শিক্ষক চন্দন কান্তি দত্ত,নিবন্ধন কমিটির আহবায়ক প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ প্রসাদ সেন,বেদার উদ্দীন,যুগ্ন মহাসচিব অধ্যাপক মিজানুর রহমান,মোজাফফর আহমেদ,শিক্ষক মোঃ হারুনুর রশিদ,শিক্ষক বিকাশ ধর,দিলীপ কুমার,শোয়াইবুর রহমান,আনিস চৌধুরী,মেম্বার মস্তাফা,শফিক আহমেদ,শামসু,নাফিজ মিনহাজ,শিহাব,রাহাতুল আমিন,আল ফয়সাল,রনধীর, রিয়াজ উদ্দীন রাসেল, রৌশনুজ্জামান প্রমুখ। ।

উদ্ধোধনী বক্তব্যে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, আজ থেকে ৭৫ বছর আগে শিক্ষাদীক্ষায় অনগ্রসর কালীপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় যারা ভূমিকা রেখেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অত্র এলাকা থেকে অংশ নিয়েছেন তাঁদেরকে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আজকের দিনে আমরা যে বা যারা লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি তারা স্কুল ও শিক্ষকদের অবদানের কথা ভুলবো না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকার শিক্ষাবিস্তারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যদি এগিয়ে না আসি, নতুন  প্রজন্মের কাছে আমরা দায়বদ্ধ থাকব। আসুন, আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আলোকিত প্রতিষ্ঠান গঠনে কাজ করি। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা- ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গঠনের যে ভিশন- ২০২১ তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হই এবং নিরক্ষরমুক্ত বাঁশখালী গঠনে সবাই এগিয়ে আসি।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি বোরহান উদ্দীন বলেন, শিক্ষায় জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষার গুনগত মান ভাল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভাবে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে সু- পরিচিত। আগের যুগে গরীব মানুষেরাই মুড়ি চাউল তোলে এই সমস্ত বিদ্যালয় গুলো প্রতিষ্টা করেছেন।সমাজে অনেক বিত্তশালী মানুষ থাকা সত্তেও ওরা এ সমস্ত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি। যে যত বড় মানুষ হউক না কেন যদি তার জিবনে এই রকম কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না করে তাহলে ১০০ বছর পর তাদের কে মানুষ মনে রাখবে না। যারা এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে তাদের কে মানুষ সারা জিবন মনে রাখবে। তাই আজ দাতা ও এবং প্রতিষ্টাতাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।সাথে সাথে স্মরণ করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে। যার জম্ম না হলে আজ আমরা বাংলাদেশ  পেতাম না। সমাজের মানবসম্পদ কে উন্নয়ন করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঁশখালী এসে সব কিছু পরিবর্তন করতে পারবে না।আগে আপনারা নিজেরাই নিজের মনকে পরিবর্তন করুন দেখবেন আপনার সমাজ ও দেশ দিন দিন পরিবর্তন হয়ে যাবে।সমাজকে পরিবর্তন করার জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। সরকার আপনাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মানুষ পারেনা এমন কোন কাজ নেই, কেবল সুচিন্তা ও অটুট মনোবল যার আছে সেই অসাধ্য সাধন করতে পারে আর এক্ষেত্রে শিক্ষাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। সফলতার জন্য মেধার সমন্বয় ও পরিশ্রমই সব এবং এর ফলে নিজেকে জাতির কল্যাণকর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষার চেয়ে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর নেই।”
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও লেখকগণ উপস্থিত থাকবেন।
রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিকঅনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

Prottasha-Coaching

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.