চেচুরিয়ায় বেপরোয়া সিএনজির ধাক্কায় গুরুতর আহত শিশু

BanshkhaliTimes

তাফহীমুল ইসলাম, বাঁশখালী- বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া বাজারে বেপরোয়া গতির সিএনজির ধাক্কায় ৭ বছরের এক শিশু গুরুতর আহত হবার ঘটনা ঘটেছে। আজ বেলা সাড়ে চারটার দিকে বাঁশখালী প্রধান সড়কের চেচুরিয়া কাঁচা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহত শিশুটি রাস্তার পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে পার হতে গেলে উত্তর দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা পেকুয়াগামী এক সিএনজি শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে জলদী আধুনিক হসপিটালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। ঘাতক সিএনজির যাত্রীরা বলেন, গাড়ি চালাবার ক্ষেত্রে আমরা বারবার সতর্ক করার পরও ঐ চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়েছে। যার কারণে মারাত্মক এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

বাঁশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনার খবর নতুন নয়, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এর পেছনের কারণ বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল, অদক্ষ চালক ও কর্তৃপক্ষের অবহেলা। এসব দেখার যেন কেউ নেই। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত দখল, যানবাহনের প্রতিযোগিতাও এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হবার অন্যতম কারণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চেচুরিয়া এলাকার এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের চেচুরিয়া বাজার উপজেলার ব্যস্থতম এলাকাগুলোর একটি। চেচুরিয়া চৌমুহনী থেকে একটু পূর্বে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তরে একটি ফাযিল মাদরাসা, একটি কলেজ, একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, একটি হাইস্কুল রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শতশত শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়া বাজার, হাটে তো হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত আছেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বাঁশখালী প্রধান সড়কের চেচুরিয়া বাজার অংশে একটি গতিরোধক নেই। এর আগে দুটি ছিলো। সড়ক সংস্কারের সময় পুনঃস্থাপন করা হয়নি। ২০১৫ সালেও এই বাজারে বেপরোয়া গতির এক কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিয়েছিল স্কুল শিক্ষার্থী আবদুর রহমানের তরতাজা প্রাণ। এর পরেও ঘটেছে ছোট বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। চেচুরিয়া বাজারে দুটি গতিরোধক স্থাপনের দাবি সংবলিত চিঠি নিয়ে স্থানীয় সাধারণের পক্ষে আমরা গত ১২ই সেপ্টেম্বর ইউএনও মহোদয়ের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, এসব আমার এখতিয়ার নয়। আমাদের প্রশ্ন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়াটা যদি সরকারের এখতিয়ার না হয় তাহলে কার এখতিয়ার?’

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published.