চট্টগ্রামে ‘দি আর্ট অব প্যারেন্টিং’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামের মননশীল সংগঠন ব্লগবাড়ির উদ্যোগে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো প্যারেন্টিং বিষয়ক কর্মশালা ‘দি আর্ট অব প্যারেন্টিং’ গত শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪ টায় নগরীর সুপ্রভাত স্টুডিও হলে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পর্যায়ের পুষ্টিবিদ ডায়েট ও নিউট্রিশন কনসালটেন্ট আয়শা সিদ্দিকা, বিষয়ভিত্তিক আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সমাজচিন্তক ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী এবং বিশিষ্ট শিক্ষাচিন্তক ও লেখক শামসুদ্দিন শিশির। কর্মশালা উদ্বোধন করেন কলামিস্ট ও সংগঠক নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এনেল। বক্তব্য রাখেন মোটিভেশনাল বক্তা মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান, নগর ও নাগরিক সভাপতি লায়ন এম আইয়ুব, এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার ও সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম প্রমুখ।

কথাসাহিত্যিক আরমানউজ্জামান ও মারুফ হাসান ওয়াহেদের সঞ্চালনায় কর্মশালার শুরুতে ভাষাশহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘নগর ও নাগরিক’ সংগঠনকে সম্মাননা স্মারকে ভূষিত করা হয়। সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন সংগঠনের সভাপতি লায়ন এম আইয়ুব।

মূল প্রবন্ধকারের বক্তব্যে পুষ্টিবিদ আয়শা সিদ্দিকা বলেন- ‘গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টিচাহিদা পূরণের উপর নির্ভর করবে শিশুর বেড়ে উঠা ও সুস্বাস্থ্য। একটা প্রচলিত ভুল ধারণা হলো- জোর করে খাওয়ানো। পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শিশুর সার্বিক বিকাশ সম্ভব।

‘শিশুদের সাথে আপনার আচরণ কেমন হওয়া চাই’ শীর্ষক আলোচনায় ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী বলেন- ‘শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। আপনার সুন্দর আচরণ শিশুমনে খুব সহজেই গেঁথে যাবে। একই ভাবে তার খারাপ অভ্যাসের জন্য অভিভাবকের আচরণই দায়ী। আমরা সম্পদ গড়ে তোলায় যতটা মনোযোগী তার সিকিভাগও শিশুকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মনোযোগী নই। অথচ উত্তম বিনিয়োগ হলো সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।”

‘শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলায় মা-বাবার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় শামসুদ্দিন শিশির বলেন- ‘একজন শিশুকে গতানুগতিকভাবে গড়ে তোলা আর সচেতনতভাবে ভাবে গড়ে তোলার মধ্যে বিস্তর ফারাক৷ এই পার্থ্যকের ফলাফলটা জাতি একদিন না একদিন পাবেই। আমরা মনে করি আপনার শিশুটা কেবল আপনার সম্পদ নয়, কেবল আপনার সন্তান নয়, সে দেশের সম্পদ ও জাতির সন্তান।
অভিভাবক হিসেবে আপনার গুরু দায়িত্ব আপনার সন্তানকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। সর্বোপরি আগামী প্রজন্ম একজন ‘ভালো মানুষ’ উপহার পেতে পারে সন্তানকে নিয়ে আপনার আজকের সময়োপযোগী ‘ভাবনা’র মধ্য দিয়ে।’

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.