গবেষণায় ‘বাসাসপ সম্মাননা’ পাচ্ছেন কবি কমরুদ্দিন আহমদ

Prottasha Coaching

বাঁশখালী টাইমস: “আল মাহমুদ : কবি ও কথাশিল্পী” গবেষণা গ্রন্থের জন্য “বাসাসপ সম্মাননা – ২০১৮” (বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার) নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট কবি ও গবেষক কমরুদ্দিন আহমদ । আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখ জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে অনুষ্ঠিতব্য বাসাসপ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মেলনে কবি ও গবেষক কমরুদ্দিন আহমদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি ২০১৮ এর প্রথম দশক পর্যন্ত প্রাপ্ত বাংলা ভাষায় রচিত গবেষণা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুতোষ ও কাব্যগ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করে বাসাসপ এর সম্মানিত উপদেষ্টা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের শিক্ষক ড. ইয়াহ্ইয়া মান্নান এর নেতৃত্বে গঠিত “বাছাই পর্ষদ” ১০জন সম্মানিত লেখককে “বাসাসপ সম্মাননা-২০১৮” এর জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন। দশজন সম্মানিত লেখক তালিকার দ্বিতীয়জন কমরুদ্দিন আহমদ।

কমরুদ্দিন আহমদ এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
কমরুদ্দিন আহমদ একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, অধ্যাপক, সাংবাদিক ও সমাজ সেবক । কবি কমরুদ্দিন আহমদ জন্ম ৩১ মার্চ ১৯৬৫ । ঝর্না, খাল, নদী, পাহাড়, সমুদ্রের মিতালীতে সম্মৃদ্ধ প্রকৃতির নন্দন আলয় বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামেই তার জন্মডেরা। ঐতিহ্যবাহী জমিদার শেখ আশরফ আলী আমিনের প্রথম সন্তান মাস্টার ছালে আহমদ তার দাদা। মাস্টার শামছুদ্দিন আহমদ তার পিতা ও প্রথম শিক্ষাগুরু। কমরুদ্দিন আহমদ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে ধর্মীয় শিক্ষা শেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে নিয়েছেন স্নাতক সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। চট্টগ্রামের বারিক মিয়া উচ্চবিদ্যালয়, বায়তুশ শরফ আদর্শ আলীয়া মাদরাসা, আল হেলাল আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, যাতানুরাইন সিনিয়র মাদরাসায় শিক্ষকতার চর্চা শেষে ১৯৯২ সাল থেকে বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন ।
২০১২ সালে চট্টগ্রামের পাঠক নন্দিত দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকা প্রকশিত হলে জন্মলগ্ন থেকে উক্ত পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়ে (খণ্ডকালীন) সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় দৈনিক পূর্বকোণ ও প্রাচীনতম পত্রিকা দৈনিক আজাদীতে সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ লিখে তিনি প্রাবন্ধিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। বর্তমানে সেরা সাহিত্য-পত্রিকা কালি ও কলমসহ সাহিত্য-ম্যাগাজিন এবং সাহিত্য পাতাগুলোতে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন।
২০০৬ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “শহর ছেড়েই যাবো”, ২০০৭ সালে “সবুজ সুখের পুলক”, ২০০৯ সালে “বিষাদের ভাসানে জলজ ঘাতক” কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
২০১১সালে তার প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ “আধুনিক কবিতাঃ প্রাসঙ্গিক বিবেচনা” প্রকাশ পায়। ২০১৩ সালে “হৃদয় শঙ্খতীরে” কাব্যগ্রন্থ এবং ২০১৫ সালে বলাকা প্রকাশন, চট্টগ্রাম থেকে তার দ্বিতীয় গবেষণামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ “আল মাহমুদ : কবি ও কথাশিল্পী ” ইতিহাস গবেষক জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয় । গ্রন্থটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহায়কগ্রন্থ হিসেবে অনুমোদন পায়।

২০১৫ সালের ৩১ মার্চ চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে কবি কমরুদ্দিন আহমদের ৫১তম জন্মদিবসে চট্টগ্রামের তরুণ লেখকদের তিনটি সংগঠন সম্মিলিত ভাবে উদযাপন করে তার জন্মদিন । ওটা প্রচলিত জন্মদিন উদযাপন মাত্র ছিল না। এ অনুষ্ঠানে কবির সাহিত্য ও বিচিত্র কর্ম নিয়ে চট্টগ্রাম বি এড কলেজের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাচিন্তক, প্রখ্যাত লেখক, সামসুদ্দীন শিশিরের সম্পাদনায় “নন্দন অভিযাত্রী ” নামে ২৯৬ পৃষ্ঠার একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয় । কবি কমরুদ্দিন আহমদের ৫০ বসন্তে শিরোনামে “নন্দন অভিযাত্রী”র মোড়ক উম্মোচন ও আলোচনা সভায় চট্টগ্রামের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ছাড়াও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। জীবন ও কর্মবিষয়ক এ স্মারকটিতে প্রবীণ ও নবীন মিলিয়ে ৮৬ জন কবি সাহিত্যিকের মূল্যায়নধর্মী লেখা এবং নিবেদিত কবিতা স্থান পেয়েছে। তাছাড়া তাঁর ১৩টি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ, কবি রচিত চারটি আধুনিক গানও এতে স্থান পায়। ২০১৭ সালে কবি কমরুদ্দিন আহমদের ছড়াকবিতার বই “গন্ধরাজের ঘ্রাণ ” প্রকাশিত হয়। ২০১৯ একুশের বইমেলা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বলাকা প্রকাশন, চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত হয় “বিলবোর্ডে শব্দনূপুর”। এতে ছয় বছরের রচিত ৫৬টি কবিতায় শঙ্খনদীর কবি কমরুদ্দিন আহমদের প্রেম, প্রকৃতি ও যাপন সংকটের কাব্যকথা মলাটবদ্ধ হয়েছে ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.