BanshkhaliTimes

খাবারপানি সংকটে বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরাঃ পাম্প নষ্ট, দুর্ভোগ চরমে

মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের: উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীর ৭ লক্ষ মানুষের ৫০ শয্যার একমাত্র সরকারী হাসপাতালটিতে পানির দুইটি পাম্প নষ্ট অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে বিগত ৩-৪ বছর যাবৎ। এতে পানির সংকট সৃষ্টি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও দর্শনার্থীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের পানির পাম্পটি নষ্ট অকেজো হয়ে পড়ে আছে । যার ফলে দুর্ভোগে সাধারণ রোগীসহ দর্শনার্থীরা। গেল ৩-৪ বছর যাবৎ নলকূপের অভাবে রোগীরা চরমভাবে দুর্ভোগে পড়লেও একটি নলকূপ স্থাপন করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গতকাল দুপুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের সঙ্গে আসা স্বজনেরা হাসপাতাল এলাকার অদূরে উপজেলা সদরের আশেপাশে অবস্থিত বাঁশখালী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও উপজেলা পরিষদ মসজিদের নলকূপ থেকে বোতল ও বিভিন্ন পাত্রে পানি নিয়ে রোগীদের সরবরাহ করছেন। অনেকেই দোকান থেকে পানির বোতল ক্রয় করে সরবরাহ করছেন। অনেক সময় রাতের বেলা বিভিন্ন অফিস আদালত ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় পানির তৃষ্ণায় চটপট করেও কোথাও পানি পান না। খাবারপানির জন্য হাহাকার পুরো হাসপাতাল এলাকাজুড়ে।
পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মোঃ মোহাম্মদ আলী, ও রনজিত ভট্টচর্য্য অভিযোগ করেন, আমরা তিন দিন ধরে ভর্তি হয়েছি। পানি না থাকায় তাঁরা দূর দূরান্ত থেকে পানি সরবরাহ করেছেন, যেখানে এই পানিই হচ্ছে মানুষের জীবন মরণ আর সেই সময়ে তারা পানি পান না, অথচ এই হাসপাতালে সব কোয়ার্টারে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা আছে, শুধু রোগীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই, আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত আবেদন যাচ্ছি, শীগ্রই যেন এই হাসপাতালে রোগীদের জন্য একটা গভীর নলকূপ স্থাপন করেন।
মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পাইরাং এলাকার ফরিদা ইয়াছমিন ও ভাদালিয়া এলাকার জোসনা আক্তার অভিযোগ করেন, হাসপাতালে পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অথচ খাবার পানির এক মারত্মক সংকট। পুরো হাসপাতাল এলাকায় সব কোয়ার্টারে পানির ব্যবস্থা আছে, অথচ তারা রোগীদের জন্য একটা কিছু করতে পারছে না, বড়ই অদ্ভুত ব্যাপার। কর্তৃপক্ষ চাইলেই বিকল্প ব্যবস্থায় পানি সরবরাহ করতে পারত। তাও করল না, সরকারী হাসপাতাল বলে কথা!
হাসপাতালের নার্স শাহনাজ বেগম ও মায়া চক্রবর্তী জানান, হাসপাতাল এলাকায় রোগীরা পানির জন্য অনেক কষ্ট পাচ্ছে। পাশাপাশি আমরা যারা হাসপাতালে র্কমরত র্কমর্কতা ও কর্মচারীরা কোয়ার্টারে থাকি আমরা আরো বেশী কষ্ট পাচ্ছি। অনেক সময় পুকুরের পানি পান করতে হয়। পুরো হাসপাতাল এলাকায় খাবার পানি সংকট। এই হাসপাতালের জন্য ২ টি নলকূপ অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুর রহমান মজুমদার জানান, পানির পাম্পটি নষ্ট হয়ে অকেজো হয়ে পড়ে আছে র্দীঘদিন যাবত। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা ও হাসপাতালের র্কমকর্তা র্কমচারীদের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় তারা পুকুরের পানি ব্যবহার করছেন। পুকুরের পানি ব্যবহারের ফলে নানানভাবে পানিবাহিত রোগ সৃষ্টি হতেও পারে। আমি বিগত ২-৩ মাস আগে এই হাসপাতালে যোগদান করেছি। এসেই এ বিষয়ে জরুরী ভাবে একটি সাবমার সিবল পাম্পসহ একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে আবেদন করেছি। আশা করি খুব শীগ্রই কোন একটা সুরাহা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top