কয়লা ইস্যুতে ফের রক্তাক্ত বাঁশখালী ( Banshkhali )

মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী, বাঁশখালীঃ-

বাঁশখালীর গন্ডামারায় নির্মাণাধীন বহুল আলোচিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে উশৃংখল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মোহাম্মদ আলী (২৭) নামে একজন মারা গেছে।এসময় কমপক্ষে আরো ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের কারনে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।এদিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মাদ আলী মারা যাওয়ার খবরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাগর পাড়ের বহুল আলোচিত গন্ডামারা-বড়গোনা।চলছে টান-টান উত্তেজনা।তবে সম্ভাব্য যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গন্ডামারার আলেকদিয়াস্থ এস আলম পাওয়ার প্লান্ট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী কমোডর এম সোহাইল (ট্যাজ) বলেন, ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এটি সরকারি প্রকল্প, সবাইকে নিয়েই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এস আলম গ্রুপের ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র গতকাল যৌথবাহিনীর পক্ষে পরিদর্শনে আসেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এসময় তাদের উপস্থিতিতেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করতে শক্তি প্রদর্শনে আসা বিভিন্ন গ্রুপ।
এর আগে নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা ও এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, কমোডর এম সোহাইল
(ট্যাজ) সোহেলসহ পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীর নানান পদের কর্মকর্তারা গন্ডামারা এস,এস পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শন ও জনগণের সাথে মতবিনিময় করতে এলে বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির পক্ষে ১২ দফা দাবি নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা,গন্ডামারা বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির সমন্বয়কারী লেয়াকত আলী, গন্ডামারা আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী, আওয়ামীলীগ নেতা,অধ্যাপক নুরুল মোস্তাফা সংগ্রাম ৬ দফা দাবি এবং এলাকাবাসীর আরো কিছু দাবি নিয়ে চেয়ারম্যান আরিফ উল্লাহ ও আওয়ামীলীগ নেতা মানিকুল আলম মানিক নিজ- নিজ সমর্থকসহ মিছিল সহকারে কয়লা বিদ্যুৎ এলাকায় পৌঁছে শক্তি প্রদর্শন করতে গেলে তাদের কতিপয় উশৃংখল সমর্থক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া সমর্থকরা বাঁশের লাঠি ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করলে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেনের বিচক্ষণতা ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।এছাড়াও লেয়াকত আলী,নুরুল মোস্তফা সংগ্রাম এবংমানিকুল আলম মানিক মাইকে নিজ-নিজ সমর্থকদের শান্ত থাকার আহবান জানান।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে বড়ঘোনার ৪ নং ওয়ার্ডের খলিলুর রহমানের পুত্র মুহাম্মদ আলী(২৭), পশ্চিম বড়ঘোনা ৫ নং ওয়ার্ডের মৃত তোতা মিয়ার পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান(৫৮) ‘র অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের দু’জনকেই চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মাদ আলী মারা যান।অন্যান্য আহতরা হলেন, ৪ নং ওয়ার্ডের মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র আবু ছৈয়দ (২৫),জামাল(৪০),ইউনুচ(৫৫),৪ নং ওয়ার্ডের আমিন উল্লার পুত্র আবদুর রশিদ(২৮), ৫ নং ওয়ার্ডের ইনসাফ মিয়ার পুত্র আব্দুল করিম (২৫),৩ নং ওয়ার্ডের মৃত মাও.বশরত আলীর পুত্র কবির আহমদ প্রঃ বাদশা(৫৫),হেদায়ত আলীর পুত্র এস্তফিজুর রহমান(৪৫)। এদেরকে বাঁশখালী ( Banshkhali ) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর একপর্যায়ে বক্তব্য দিতে মাইকে স্থানীয় চেয়ারম্যান আরিফ উল্লাহ’র নাম ঘোষনা করা হলে অনুষ্টানে আসা একপক্ষের সমর্থকরা ভুয়া-ভুয়া বলে তাকে বক্তব্য দিতে দেয়নি।পরে বসতভিটাও গোরস্থান রক্ষা কমিটির পক্ষে লেয়াকত আলী বক্তব্য দিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে। লিয়াকত আলী তার বক্তব্যে বলেন,আমাদের দাবি দাওয়া আমরা লিখিত ভাবে তুলে ধরেছি,আপনারা শান্ত হউন। তিনি জনতার উদ্দ্যেশে আরো বলেন,আমাকে কারা কারা পছন্দ করেন-না হাত তুলে বলুন, এসময় উপস্থিত কেউ হাত না তুলে নীরবতা পালন করেন।এরপর তিনি মাইকে একে-একে ৩ বার ঘোষনা দিয়ে বলেন, আমাকে কারা কারা পছন্দ করেন, এসময় সবাই হাত উঁচিয়ে তার পক্ষে সাড়া দেন।এর পরপরই নৌবাহিনীর কমোডর এম সোহাইল ট্যাজ বলেন, এ প্রকল্প কোন ব্যক্তির নয়, এটি একটি চীন এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ প্রজেক্ট। এই প্রজেক্ট নিয়ে কোন ধরনের বিশৃংখলা সহ্য করা হবে না। প্রজেক্টটিতে নৌবাহিনী, পুলিশ, কোষ্টগার্ড সহ সকল ধরনের নিরাপত্তা থাকবে।আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় প্রজেক্টটির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাব। তবে যারা যারা জমি বিক্রির টাকা পান নি তাদের সবার সমস্যা সমধান করা হবে বলে তিনি জানান। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ গন্ডামারা বড়ঘোনা এলাকা সিঙ্গাপুরে পরিনত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সবার সহযোগীতা কামনাও করেন। তিনি গন্ডামারা-বড়ঘোনা এলাকায় শান্তিপূর্ন পরিবেশ বিরাজ করায় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি আরো বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের সবার জীবনে পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল হবে। বিভিন্ন প্রকার ব্যাবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে,আর এই কাজগুলো করবেন আপনারা। এই প্রকল্পের কারণে এলাকার কেউ বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্থ হবে না বলেও আশ্বস্থ করে তিনি বলেন,পুরো দেশে উন্নয়ন কাজ চলছে অথছ বাঁশখালীতে আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি, কারও ক্ষতি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হবে না, কিছু সমস্যা আছে জানি তা আমরা দ্রুত সমাধান করবো, আগামী দুই বছরের মধ্যে পুরো এলাকায় পরিবর্তন হয়ে
যাবে, এজন্য আপনাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাঁশখালীতে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম হবে বলে তিনি জানান।এ সময় অরো উপস্হিত ছিলেন,এ এস পি দক্ষিণ একরাম ভূইয়া,সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল)সাতকানিয়া মফিজ উদ্দীন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী চাহেল তস্তুরী, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন,এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পের কর্মকর্তা আদিল বিল্লাহ আদিল,সহ প্রসাশনের কর্মকর্তা বৃন্দ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.