‘ক্যারিয়ার গড়ে নিতে হয়’ শীর্ষক লাইভ আজ

BanshkhaliTimes

আবু ওবাইদা আরাফাত, বাঁশখালী টাইমস: স্ব স্ব ক্ষেত্রে দক্ষতার দ্যুতি ও সাফল্যের আলো ছড়ানো বাঁশখালীর ৩ কৃতিসন্তান নিয়ে বাঁশখালী টাইমস পেজে আজ রাত ৯ টায় লাইভ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। ইনতিজামুল ইসলামের সঞ্চালনায় ‘ক্যারিয়ার গড়ে নিতে হয়’ শীর্ষক লাইভে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন র‍্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দীন পিপিএম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী মোহাম্মদ জামশেদ ও ইয়ুথ এক্টিভিস্ট ও ফিউচারিস্ট গোলাম কিবরিয়া।
অতিথিদের উদ্দেশ্যে হোয়াটসঅ্যাপে ( ০১৮১৪ ৮৯ ৬৭ ৩৮) প্রশ্ন পাঠানো যাবে।

অতিথিবর্গের সংক্ষিপ্ত পরিচিত তুলে ধরা হলো:

♦ মো. জসিম উদ্দীন পিপিএম

র‍্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দীন পিপিএম। পিতা আলী আহমদ, মাতা ছফুরা বেগম, গ্রাম বাঁশখালা, ডাক ইলশা, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

বাঁশখালী উপজেলার বাহারচরা ইউনিয়নের বাঁশখালা গ্রামে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে। বাঁশখালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বাহারচরা রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০১ খ্রিস্টাব্দে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগ হতে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ৩০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১২খ্রিস্টাব্দে সহকারি পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্ম জীবন শুরু করেন। শুরু থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর নোয়াখালী জেলা পুলিশে সুনামের কাজ করেছেন। নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে তার ধারাবাহিক জলদস্যু বিরোধী দুঃসাহসিক অভিযানে জলদস্যুতা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় স্বস্তি ও শান্তি ফিরে এসেছে। তিনি প্রায় আড়াই বছর যাবত র‍্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ কর্মরত আছেন। ইতোমধ্যে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। শুরু থেকে মাদক ব্যবসায়ী, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ডাকাত, চাঁদাবাজ, সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র গ্রেফতারসহ মাদক বিরোধী ও ভেজাল বিরোধী অভিযানগুলো জনমনে স্বস্তি ও সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। র‍্যাবে তার কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক(পিপিএম-সেবা) ও ২০২০ খ্রিস্টাব্দে আইজি ব্যাজ প্রাপ্ত হয়েছেন। তাছাড়া তিনি একাধিক বার র‍্যাব-১১ এর শ্রেষ্ঠ অফিসার মনোনীত হয়েছেন।

♦ কাজী মোহাম্মদ জামশেদ

কাজী মোহাম্মদ জামশেদ বাঁশখালীর বাহারচড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাজী মোহাম্মদ ইয়াসিন ও মাতা মোরশেদা বেগম।

তিনি ২০০৭ সালে সাধনপুর পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন।

কাজী জামশেদ ২০১৭ সাল হতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডিপার্টমেন্টে লেকচারার হিসেবে নিয়োজিত আছেন ইতোপূর্বে তিনি ইন্ডেপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি ও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন।

একাডেমিক ও প্রফেশনাল এক্সিলেন্সির অংশ হিসেবে তিনি দেশবিদেশে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ লক্ষ্যে তিনি আমেরিকা, সাউথ আফ্রিকা, ভারত, মালয়েশিয়া, তুরস্ক প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেন।

কাজী জামশেদ ২০১৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন আয়োজিত গ্লোভাল সোশ্যাল ইন্টারপ্রেনারশীপ প্রতিযোগিতায় ফাইনালিস্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। মাইক্রোসফটের হেডকোয়ার্টার আমেরিকায় লাইফসেভার প্রজেক্ট উপস্থাপন করেন

‘ব্রান্ড লয়ালটি টুয়ার্ডস টেলিকম অপারেটর’ এবং
Educational Background and Entrepreneurial Intentions: The Case of Dhaka City in Bangladesh”. শীর্ষক তার দুটি গবেষণা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়াও “Do Multinational Companies Practice Good Corporate Governance? Empirical Evidence from Bangladesh”. শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে International Journal of Accounting & Financial Reporting প্রতিষ্ঠান Macrothink Institute এ।

প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার বাইরেও তিনি ক্যান্সার গবেষণা ও সচেতনতামূলক সংগঠন সিসিআরটি বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

♦ গোলাম কিবরিয়া

এই তরুণ ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সফলতার সাথে।

সম্প্রতি রাশিয়ার অরেনবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত The International Youth Forum “Eurasia Global 2019” বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন জাতিসংঘের টেলিকমিউনিকেশান্স ও প্রযুক্তি বিষয়ক সংস্থা International Telecommunication Union (ITU)’র সাবেক এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলিক যুব উপদেষ্টা, Center for Inclusive Governance (CIG)’র বর্তমান বৈশ্বিক ফেলো এবং বাঁশখালীর তরুন ও প্রতিশ্রুতিশীল উন্নয়ন কর্মী গোলাম কিবরিয়া।

রাশিয়া সরকারের যুব সংক্রান্ত মন্ত্রনালয় এবং রাশিয়ান মিনিস্ট্রি অফ ফরেইন এফেয়ার্সের আমন্ত্রণে দশ দিন ব্যাপি এ প্রোগ্রামে তারা বৈশ্বিক বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, চলমান আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং সরকারের গৃহিত নানা পদক্ষেপের কথা রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং প্রায় ১০৮ টি দেশ থেকে যোগ দেওয়া তরুণ নেতৃবৃন্দদের সামনে তুলে ধরেন। মূলত পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তিগত মেলবন্ধন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জাতিসংঘের বেধে দেওয়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা Sustainable Development Goals (SDG’s) নিয়েই এখানে বিভিন্ন প্লেনারি সেশান, ওয়ার্কশপ, ফিল্ডওয়ার্ক এবং থিমেটিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, Eurasia Global 2019 ফোরামটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা এবং তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার শীর্ষ চারটি ফোরামের একটি যেখানে প্রায় ৫০০ বিদেশি এবং ৩০০ স্থানীয় নেতৃত্ব অংশগ্রহণ করার সু্যোগ পান।

জাতিসংঘ প্রণীত এসডিজির অন্যতম প্রমোটার, বিশিষ্ট উন্নয়নকর্মী গোলাম কিবরিয়া বাঁশখালীর পুইছড়ী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পুইছড়ি ইজ্জতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি ও ঢাকা বিশবিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে বিবিএ এবং এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন।

তিনি ২০১২ সালে ইন্দোনেশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শুসিলো বাম্বাং ইধূয়োনোর আমন্ত্রণে বিশ্ব যুব সম্মেলনে যোগদান করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৪ সালে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বার্লিনে ১১তম বিশ্ব উন্নয়ন এবং পপুলেশান সংলাপে অংশগ্রহন করার পাশাপাশি জাতিসংঘের অন্যতম সংস্থা UNFPA’র Special Rapporteur হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একই বছর তিনি জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা UNEP’র আমন্ত্রণে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে আয়োজিত UNEP CSO Asia Pacific Consultation 2014 ফোরামে বাংলাদেশে অংশগ্রহণের পাশাপাশি Special Rapporteur হিসেবে আবারো সক্রিয়া ভূমিকা পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি ফিলিপাইন সরকার এবং জাতিসংঘের শিক্ষা এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা UNESCO’র আমন্ত্রনে ম্যানিলাতে অনুষ্ঠিত UNESCO Asia Pacific Expert Meeting on CCESD ফোরামে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের জলবায়ু এবং পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জসমূহ বিশ্ব নেতৃত্ববৃন্দদের সামনে তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি দক্ষিন কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মালেশিয়া, কোস্টারিকা, ব্রাজিল, সুইডেন, কেনিয়া, সিংগাপুর, নেদারল্যান্ড এবং ডেনমার্ক সরকারের আমন্ত্রনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে দক্ষতার সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

তিনি ২০১৭ সাল থেকে ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের ইন-কান্ট্রি রিসার্চ এনালিস্ট, ২০১৬ সাল থেকে ইয়ুথ এলায়েন্স ইন্টারন্যাশনালের কো- ফাউন্ডার হিসেবে কর্মরত আছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.