BanshkhaliTimes

একুশ শতকের ‘একুশ’ হবে এক অচেনা বিশ্ব

একুশ শতকের ‘একুশ’ হবে এক অচেনা বিশ্ব

BanshkhaliTimes

একুশ শতকের ‘একুশ’ হবে এক অচেনা বিশ্ব
— ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

আধুনিক বিজ্ঞানীদের সেরা বিজ্ঞানী বলা হয় আলবার্ট আইনস্টাইনকে। তাঁর কাছে প্রশ্ন করেছিলেন,তৃতীয় মহাযুদ্ধ কেমন হবে? তিনি বললেন, ‘তৃতীয় মহাযুদ্ধের কথা বলতে পারবোনা কিন্তু চতুর্থ মহাযুদ্ধ হবে হাতে হাতে লড়াই আর হাতিয়ার হবে ইট পাথর’। অর্থাৎ তৃতীয় মহাযুদ্ধ এমন ভয়াবহ হবে, যে যুদ্ধে সমস্ত অস্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে, চতুর্থ মহাযুদ্ধের জন্য আর কোন অস্ত্র বা যুদ্ধের হাতিয়ার থাকবে না। এই মানব বিধ্বংসী যুদ্ধটি কোন দেশ শুরু করবে তা আমরা জানি না কিন্তু একটি কথা জানি তা হলো, কোন মানুষরূপী জানোয়ারের মন হতে যুদ্ধটি শুরু হবে। ‘মন’ হলো পাওয়ার পয়েন্ট। সমস্ত শক্তির উৎস। মানুষের মন পরিবর্তন করা না গেলে সমাজের কোন পরিবর্তনই হবে না। আমরা বিজ্ঞান প্রযুক্তির চরম উন্নতির যুগে ‘বাড়ছে জনসংখ্যা, কমছে মানুষ’ ‘বাড়ছে পরীক্ষার্থী, কমছে শিক্ষার্থী’। শিক্ষার হার বাড়ছে, মনুষ্যত্বের শিক্ষা কমছে। জনসংখ্যা বাড়ছে কিন্তু প্রকৃত মানবিক মানুষের সংখ্যা কমছে।

একটি বিশ্বকে দশবার ধ্বংস করার মত পারমানবিক বোমা মজুদ করার কারণ কী? এক ভাগ চিকিৎসা সেবা ৯ ভাগ মানব বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরী কেন? আমরা জানতে পারছি, দুনিয়ায় বিজ্ঞানীর হাতে দুই ডজন ভাইরাস জমা আছে। এ সব কার স্বার্থে সৃষ্ট তা আমরা জানি না।

আজ বিতর্ক উঠছে, করোনা ভাইরাসটি মানব সৃষ্ট কিনা। যদি মানবসৃষ্ট হয় তাহলে যে বা যারা সৃষ্টি করুক না কেন এই ভাইরাস গ্লোভেল এক মহাসংকট তৈরী করছে।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস বড় ধরনের আক্রমণ করবে কিনা জানি না কিন্তু এই ভাইরাস নতুন এক অজানা অচেনা বিশ্বের জন্ম দিবে।

আজ দুনিয়ার মেধাবী শিক্ষার্থীরা যদি বসে কষ্ট করে ‘একুশ শতকের একুশের বিশ্ব’ (২০২১ সাল) নামক একটি রচনা লেখে। এক বছর পর এই রচনার সাথে বাস্তব দুনিয়ার মিল খুঁজে পাবেনা। নতুন অজানা অচেনা এক নতুন বিশ্বের জন্ম হতে যাচ্ছে। কারণ করোনায় আরও কত মরবে তা জানিনা। ওষুধ ভেকসিন আবিস্কার হতে পারে। মানুষ হয়তো বিজয়ী হবে কিন্তু অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তীর্ণ হওয়া মোটেই সহজতর হবে না। এই সঙ্কট যদি খাদ্যসঙ্কট তৈরীতে সহায়তা করে তাহলে দুর্ভিক্ষায় মানুষ মরতে পারে। তা কী করোনার চেয়ে বেশী মানুষের জীবন কেড়ে নিবে! কিছুই জানি না।

আমরা অন্ধকার ঘরে একটি কালো বিড়াল খুঁজছি। আমার সব ধারণা মিথ্যাও হতে পারে কিন্তু আজকের বিলাসী জৌলুশপূর্ণ এই দুনিয়ার অপমৃত্যু হতে যাচ্ছে। সুতরাং এখন হতে কৃচ্ছসাধন করুন। মিতব্যয়ী হোন। বেঁচে থাকার সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হোন। বিজ্ঞান অভিশাপ হতে পারে। মানুষের জীবন রক্ষার চেয়ে অধিক কেড়ে নিতে পারে। আইনস্টাইনের কথা সত্য হলে অজানা এক যুদ্ধে সমস্ত যুদ্ধাস্ত্র ধ্বংস হয়ে মানুষ প্রাচীণ গুহায় ফিরে যেতে বাধ্য হবে।

দুনিয়ার মুক্তির জন্য শিক্ষিত বা জ্ঞানীর দরকার নেই, আলোকিত মানুষের দরকার। আইনস্টাইনের তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে যখন পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করলো আর সে বোমা বিস্ফোরণ করে জাপানের হিরোশিমায় ব্যাপক মানব হত্যা করলো তখন আইনস্টাইন নিজকে সেরা অপরাধী মনে করলো। সেই সময় তাঁর নিকট জানতে চাইলো, দ্বিতীয় জন্ম যদি আপনার হয়, তখন কী হিসেবে জন্ম গ্রহণ করতে চান? তিনি জানালেন, ‘পত্রিকার হকার। আমি আলো বিতরণ করতে চাই,অন্ধকার নয়’। জগতের সেরা নেতিবাচক বিজ্ঞানীরা অন্ধকারের জীব। মানবেতিহাস তাদের কোনদিন ক্ষমা করবে না। সৃষ্টিকর্তাও করবে না। সবাই প্রকৃত মানুষ হোন, জ্ঞানী বা শিক্ষিত নয়।

লেখক- গবেষক ও কলামিস্ট

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published.