BanshkhaliTimes

ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আব্দুল করিমের ৯১তম জন্মবার্ষিকী আজ

আজ ১ জুন ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আব্দুল করিমের ৯১তম জন্মবার্ষিকী।
প্রফেসর আবদুল করিম এম.এ.পি. এইচ-ডি (ঢাকা), পি.এইচ-ডি. (লন্ডন), এফ. এ.এস. বি
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানার চাপাছড়ি গ্রামে ১৯২৮ সালের ১লা জুন তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মরহুম সৈয়দ ওয়াইজু্দ্দীন এবং মাতার নাম সৈয়দা রশীদা খাতুন। তিনি চাপাছড়ি এবং বাহারচরায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করে বৈলছড়ি জুনিয়ার মাদ্রাসা থেকে ষষ্ট শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষা পাশ করেন। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম ইসলামিক ইন্টার মেডিয়েট কলেজ (বর্তমানে মহসিন কলেজ) থেকে হাই মাদ্রাসা ও আই.এ. পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৯ সালে ইতিহাসে বি.এ. অনার্স এবং ১৯৫০ সালে একই বিষয়ে এম. এ. পাশ করেন। প্রাইমারী থেকে শেষ পরীক্ষা পর্যন্ত তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৫৭ সালে প্রথম পি.এইচ-ডি ডিগ্রী এবং লন্ডন বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে দ্বিতীয় পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী লাভ করেন। প্রফেসর করিম ১৯৫১ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত পনর বৎসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক এবং রীডারের চাকুরী করেন। ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে তিনি ইতিহাস বিভাগে রীডার ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দেন। তিনি ইতিহাস বিভাগে প্রফেসর পদে উন্নীত হন, কয়েক বৎসর আলাওল হলেন প্রভোষ্টের দায়িত্ব পালন করেন এবং কলা অনুষদের ডীন নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের নবেম্বর মাসে প্রফেসর করিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন এবং ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ঐ পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। অবসর নেওয়ার পরে প্রফেসর করিম বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপচিালকের দায়িত্ব পালন করেন এবং কয়েক বৎসর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনষ্টিটিউট অব বাংলাদেশ ষ্টাডিজে সিনিয়র ফেলো এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপার নিউমারী প্রফেসর হিসেবে কর্মরত থাকেন। প্রফেসর আবদুল করিম বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় মোট ২৭টি বই লিখেন এবং প্রায় ১৫০টি প্রবদ্ধ প্রকাশ করেন। তথধ্যে উল্লেখযোগ্য (১) Social History of the Muslims in Bengal (1959), (2) Corpous of the Muslims Coins of Bengal (1960), (3) Murshidquli Khan and His Times (1963) (4) Dacca The Mughal Capital (1964) এই চারটি ইংরেজী গ্রন্থ এশিয়াটিক সোসাইটি অব পাকিস্তান ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত। (৫) ঢাকাই মসলিন (১৯৬৫), বাংলা একাডেমী (৬) ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন, বাংলা একাডেমী, (৭) চট্টগ্রামের ইতিহাস (১৯৬৯), (৮) বাংলাদেশের ইতিহাস: সুলতানী আমল (১৯৭৭) বাংলা একাডেমী, (৯) চট্টগ্রামে ইসলাম (১৯৬৯), সোসাইটি ফর পাকিস্তান স্টাডিজ, (১০) হযরত শাহ আমানত, (১১) বাংলার সুফী সমাজ, (১২) মোল্লা মিসকিন শাহ, (১৩) বাংলাদেশের ইতিহাস: মোঘল আমল, (১৪) মুসলিম বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য, (১৫) বাংলা সাহিত্যের কালক্রম (মধ্যযুগ), (১৬) আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, (১৭) আবদুল হক চৌধুরী ও তাঁর গবেষণা কর্ম, (১৮) বাঁশখালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য, (১৯) নসরুল্লাহ খোন্দকার রচিত শরীয়তনামা সম্পাদিত গ্রন্থ (১৯৭৫), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, (২০) Catalogue of the Coins of Bangladesh in the Chittagong University Museum সহ আরও অসংখ্য গ্রন্থের প্রণেতা।
প্রফেসর করিম জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে একজন সম্মনিত ব্যক্তিত্ব এবং নিম্নলিখিত পুরস্কার, পদক, ফেলোশীপ এবং সম্মননা লাভ করেনঃ ক. ইন্ডিয়ান ন্যুমেজমেটিক সোসাইটি কর্তৃক আকবর সিলভার মেডেল প্রদান, ১৯৬০। খ. একুশে পদক ১৯৯৫। গ. আই,এ,আর,এফ, শান্তি পুরস্কার ১৯৯৫। (ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন ফর রিলিজিয়াস ফ্রীডম জাতিসংঘের ৫০ বৎসর পূর্তি উপলক্ষে এই পুরুস্কার দেয়।) ঘ. ওয়ারর্ল্ড সিটিজেনশীপ আইডেনটিটি কার্ড ১৯৯৫। ঙ.এফ.এ.এস.বি (এশিয়াটি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সম্মানিত ফেলো। চ. ওয়ারল্ডস্পিরিচ্যুয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক এর ভিজিটিং প্রফেসর (অনারারী) ১৯৯৫। ছ. বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ বৎসর পর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন কর্তৃক সম্মন সূচক ক্রেষ্ট প্রদান ১৯৯৬। জ. চট্টগ্রাম কেন্দ্রী ঈদ জামাত কমিটির আজীবন সদস্য।
প্রফেসর করিম ১৯৯০ সালে হজ্বব্রত পালন করেন এবং ১৯৯৬ সালে ওমরা পালন করেন।

রবিউল হাসান শাপলা

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published.