ইতিহাসের আবদুল করিম ও তাঁর কর্ম- কীর্তির কয়েকটি দিক

আহমদ মমতাজ: বাংলাদেশের ইতিহাস, সাহিত্য ও
সমাজ-সংস্কৃতির গবেষণা জগত দু’জন
আবদুল করিমের অসামান্য অবদানে সমৃদ্ধ।
একজন সাহিত্যবিশারদ আবদুল করিম,
অপরজন ইতিহাসবিদ আবদুল করিম। উভয়েই
চট্টগ্রামের অধিবাসী এবং দক্ষিণ
চট্টগ্রামের পটিয়া ও বাঁশখালী এই দুই
উপজেলার বাসিন্দা। একজনের জন্ম ১৮৭১
সালে, অন্যজনের ১৯২৮। সময়ের ব্যবধান ৫৭
বছর। প্রথমজন ১৯৫৩ সাল কীর্তিময়
জীবনের পরিসমাপ্তি টানেন অন্য আবদুল
করিম তখন কেবলই বৃহত্তর জীবনের পথে
পা বাড়াচ্ছেন। তখনো তিনি অধ্যাপনার
মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের পরিধি বিস্তারের
চেষ্টারত, স্থির করছিলেন জীবনের
লক্ষ্য। অনেক ভেবে চিন্তে গবেষণা এবং
শুধু গবেষণাকে বেছে নেন।
সাহিত্যবিশারদ আবদুল করিম প্রধানত
দুটি কাজ করেন, একটি হলো-প্রাচীন
পুঁথি-পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ, সম্পাদনা,
সংরক্ষণ ও তার তথ্য অনুসন্ধান এবং
দ্বিতীয়টি হলো-সাময়িক পত্রিকার জন্য
অজস্ত্র প্রবন্ধ রচনা এবং পত্র-পত্রিকা
সংগ্রহ। এই কাজকেই তিনি জীবনের ব্রত
হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ১৮ বছর বয়সে
তিনি সাহিত্যক্ষেত্রে প্রবেশ করেন
এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে ৬৪ বছর এই কাজে
নিবেদিত ছিলেন। তাঁর আবিষ্কার
বাংলা সাহিত্যকে নতুন জীবন দান
করেছে,তিনি মধ্যযুগের চারশ বছরের
হারিয়ে যাওয়া বাংলা সাহিত্যের
ইতিহাস রচনা করেছেন তাতে তাঁরা
দেখিয়েছেন যে, বাংলা সাহিত্য
প্রধানত হিন্দুদের সৃষ্টি, মুসলমানরা
এদেশে বিদেশি, বাংলা সাহিত্যের
পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিশেষ কোনো
অবদান নেই। আবদুল করিমের আবিষ্কার
এতোদিনের ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে বদলে
দেয়। সবাই মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্য
রচনার ক্ষেত্রে হিন্দুদের চাইতে মুসলমান
কবি-সাহিত্যিকগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন
করেন। কৃতজ্ঞ চট্টগ্রামের সুধী সমাজ
তাঁকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত
করেন। মুনশি আবদুল করিমের
আবিষ্কারের ফলে অবসান ঘটে বাংলা
সাহিত্যের ইতিহাসে একটি অন্ধকার
যুগের।
অন্যজন বক্ষ্যমান ইতিহাসবিদ আবদুল
করিম। মধ্যযুগের বাংলার মুসলমানদের
সামাজিক ইতিহাস এবং শিলালিপি ও
মুদ্রাতত্ত্ব বিষয়ে অসাধারণ
ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন পণ্ডিত হিসেবে যার
পরিচিতি ও খ্যাতি বিশ্বব্যাপী।
বহুভাষাবিদ হিসেবে গবেষণা জগতে তাঁর
দক্ষতা প্রশংসিত।
অধ্যাপক আবদুল করিম মধ্যযুগে বাংলার
ইতিহাসের প্রবাদপ্রতিম ঐতিহাসিক।
তিনি সুদীর্ঘ ৫৫ বছরের বেশি সময়
বাংলার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা
করেছেন। তাঁর গবেষণা মৌলিক তাঁর
পূর্বে পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস বলতে
বখতিয়ার খিলজীর বঙ্গবিজয় এবং
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ও আরও দু’চারজন
সুলতান শাসকের নাম-পরিচয়ের মধ্যে
সীমাবদ্ধ ছিলো। তাঁর অনেক আগে
কয়েকজন অধ্যাপক ইতিহাস বিষয়ে
গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ
করেন। তবে তাঁরা প্রধানত ভারতের
মুসলিম রাজত্বের ইতিহাসই রচনা করেন।
এঁদের মধ্যে ড. আবু মহামেদ হবিবুল্লাহ
লিখেন ফাউন্ডেশন অব দি মুসলিম রুল ইন
ইন্ডিয়া (১৯৩৬), ড. আগা মেহেদী হাসান
লিখেন-রাইজ এন্ড ফল অব মোহাম্মদ বিন
তুঘলক, কে এস লাল লিখেন-হিস্ট্রি অব
খল্জিস, ড. আবদুল হালিম লিখেন ‘সৈয়দ
এন্ড লোদি সুলতানস অব আগ্রা (১৯৩৮), ড.
কালিকারঞ্জন কানুনগো লিখেন ‘শের
শাহ’। দিল্লির মুসলিম শাসক ও তাঁদের
শাসনকাল নিয়েই এসব গবেষণা ও গ্রন্থ
রচনা। আর এসব বিষয়ে রেফারেন্স বই-
পুস্তকের তেমন অভাব ছিলো না।
ইংরেজি, ফারসি ও উর্দু ভাষায় লেখা
বই-পুস্তক ছিলো। কিন্তু সুলতানী আমলের
বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসের
উপাত্ত ও রেফারেন্স বই-পুস্তক ছিলো
একেবারেই দুর্লভ। অধ্যাপক আবদুল করিম
কয়েক বছরের একটানা পরিশ্রম ও নিষ্ঠার
সাথে সেই অসাধ্য কাজ সম্পন্ন করেন
(১৯৫৮ সালে)। এজন্যে তাঁকে ইতিহাসের
বাইরে প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলাভাষা
ও সাহিত্য অধ্যয়ন, মুদ্রা ও শিলালিপির
পাঠোদ্ধারের জন্য উর্দু আরবি ও ফারসি
ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। ইংরেজির
সাথে শিখেন ডাচ ভাষা। অধ্যয়ন করেন
প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য,
বাংলাসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন
চর্যাপদ থেকে বিভিন্ন পুঁথি-পাণ্ডুলিপি।
মূলত গবেষণা কর্ম না থাকায় মোগলদের
বাংলাদেশ জয়ের পূর্বে এদেশের মুসলিম
শাসনের কয়েক’শ বছরের ইতিহাস সম্পর্কে
জানা সম্ভব ছিলো না। আবদুল করিমই সে
কাজটি সম্পন্ন করেন। অবশ্য বাংলার
ধারাবাহিক ইতিহাস রচনা শুরু হয় আরো বহু
বছর আগে, এটি করেন রাখাল দাস
বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৮৬-১৯৩০)। তিনি
বাংলার ইতিহাস দুই খণ্ডে প্রকাশ করেন,
১ম ভাগ ১৯০৪ ও ২য় ভাগ ১৯১৭ সালের তবে
সে ইতিহাসও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস ছিলো না।
এই ব্যপারে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়
১৯৩৫ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
তদানীন্তন উপাচার্য স্যার আহমদ ফজলুর
রহমানের (১৮৮৯-১৯৪৫) নেতৃত্বে একটি
কমিটি গঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয় তিন খন্ডে
বাংলার সম্পূর্ণ ইতিহাস রচনা করা হবে।
প্রথম খন্ডে বাংলার ইতিহাস প্রাচীন যুগ
ও হিন্দু আমল, দ্বিতীয় খন্ড মধ্যযুগ বা
মুসলিম আমল এবং তৃতীয় খণ্ডে মধ্যযুগের
সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাস থাকবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ড. আর সি
মজুমদারের (১৮৮৮-১৯৮০) সম্পাদনায় ১৯৪৩
সালে বাংলার ইতিহাস প্রথম খণ্ড
প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়
স্যার যদুনাথ সরকারের (১৮৭০-১৯৫৮)
সম্পাদনায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য
উপাত্তের অভাবে বাংলার ইতিহাস
তৃতীয় খণ্ডটি লিখিত হয় নি। দ্বিতীয়
খণ্ডটিও একই কারণে অসম্পূর্ণ ছিলো,
যাকে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস না বলে
ইতিহাসের রূপরেখা বলা চলে। সে অপূর্ণ
কাজটি সম্পন্ন করেন ড. আবদুল করিম
১৯৫৮ সালে। তাঁর গবেষণা কর্মের
তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ড. আহমদ হাসান
দানী।
একের পর এক আবিষ্কারের নেশায় পেয়ে
বসে তাঁকে। নিরবচ্ছিন্নভাবে কাটিয়ে
দেন জীবনের পঞ্চান্নটি বছর। এক এক
করে প্রকাশিত হয় ইংরেজি ও বাংলায়
মিলিয়ে চল্লিশটির কাছাকাছি বই, দু’শর
কাছাকাছি মৌলিক প্রবন্ধ।
উল্লেখযোগ্য বই- Murshid Quli khan and his
times (1963), Dhaka the Mughal Capital (1964),
corpus of Muslim coins of Bengal Down in 1538,
Catalogue of Coins in the Calienet of Chittagong
University Museum (1979), Corpus of the Arabic
and persian inscriptions of bengla (1992), History
of Bengal Mughal period vol. 1 (1576-1627) and
vol. 2 (1627-1707), The Rohinga Muslims : their
History and culture, বাংলার সুফী সমাজ,
মক্কা শরীফে বাঙালি মাদ্রাসা,
ফুতুহাত-ই-ফিরোজশাহী, বাংলার
ইতিহাস (মোগল আমল), বাংলার ইতিহাস :
সুলতানী আমল (১৯৭৮), ঢাকাই মসলিন
(১৯৬৫), ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম
শাসন (১৯৬৯), (১৯৬৯), মুসলিম বাংলার
ইতিহাস ও ঐতিহ্য (১৯৯৪), বাংলা
সাহিত্যের কালক্রম, মধ্যযুগ (১৯৯৪),
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস : মুসলিম
আমল (১৯৯৮), বাংলার ইতিহাস
(১২০০-১৮৫৭) প্রভৃতি। এছাড়াও চট্টগ্রামের
ইতিহাস ও সমাজ-সংস্কৃতি বিষয়ক বহু
সংখ্যক গবেষণামূলক প্রবন্ধ তিনি
লিখেছেন যা বিভিন্ন দৈনিক জার্নাল ও
সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। জীবনের
শেষ দিকে তিনি রচনা করেন
আত্মজীবনী। ‘সময় ও জীবন’ নামে এই গ্রন্থ
দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
আবদুর করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
১৯৫৮ সালে social History of the Muslim in
bengal. Down to ১৫৩৮ বিষয়ে গবেষণা করে
প্রথমবার পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬০ সালে তিনি কমনওয়েলথ স্কলারশীপ
পেয়ে লন্ডন যান এবং খুব কম সময় নিয়ে
১৯৬২ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল
অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান
স্টাডিজ’ থেকে ুলর্রদধঢ লৈফধ পদটভ টভঢ
দধ্রর্ ধবণ্র বিষয়ে গবেষণা করে
দ্বিতীয়বার পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
বাংলার ইতিহাসের অনেক জটিল ও
অমীমাংসিত বিষয় আবদুল করিম কঠোর
শ্রম, মেধা ও নিষ্ঠার সাথে সমাধান করে
দিয়েছেন। ইতিহাস বিষয়ে তাঁর কর্মকাণ্ড
ও অবদান খুবই সুবিন্যস্ত এবং কাজের
পরিধির বিশালত্ব ও বৈচিত্র্য যে কোনো
নিবিষ্ট পাঠক-গবেষককে মোহাচ্ছন্ন
করে। সাধারণভাবে তাঁর রচনাবলি ও
প্রকাশিত গ্রন্থসমূহকে পাঁচ ভাগে
দেখানো যেতে পারে।
১. বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
২. ধর্ম ও সাহিত্য
৩. জীবন ও কর্ম
৪. স্থানীয় ইতিহাস
৫. স্মৃতিকথা
পঞ্চান্ন বছরের (১৯৫১-২০০৬) গবেষণা-
লেখালেখির জীবনে আবদুল করিমের
লেখালেখির পরিমাণ কতো? স্বভাবতই এই
কৌতূহল মনে জাগে। আবদুল করিমের সময়
প্রযুক্তি ব্যবহার করার এতো সুযোগ
ছিলো না, তিনি হাতেই লিখতেন এবং
দ্রুতগতিতে লিখতে পারতেন। একবার
স্যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি
সচরাচর কখন লেখালেখি করেন। তিনি
উত্তরে বলেছিলেন “আমি রাত জেগে
পড়া-লেখা করিনা। সাধারণত রাত
১০-১১টা পর্যন্ত লেখাপড়া করি, তবে
নিয়মিত এবং গভীর মনোযোগ সহকারে
লিখার চেষ্টা করি। যতাই কর্মব্যস্ততা
থাকুক, লেখার সময় আমি ঠিকই বের করে
নেই।” করিম স্যার নিয়মমাফিক এবং খুব
সাধারণভাবে জীবন যাপনে অভ্যস্ত
ছিলেন। ফলে সব কিছু তাঁর কাছে বরকতময়
হয়ে ওঠেছিলো। তাঁর মৃত্যুর পর একবার
আমি তাঁর লেখালেখির একটি হিসেব
করেছিলাম। হিসেবটা এরকম-প্রকাশিত
বাংলা বই’র সংখ্যা ২৬টি, গড়ে ৩০০ পৃষ্ঠা
হলে মোট = ৭৮০০ পৃষ্ঠা, ইংরেজি ১০টি বই
* ৩০০ = ৩০০০ পৃষ্ঠা, প্রকাশিত বাংলা
প্রবন্ধ ১১২টি * ২০ পৃষ্ঠা = ২২৪০ পৃষ্ঠা,
প্রকাশিত ইংরেজি প্রবন্ধ ৭২টি * ২০ =
১৪৪০ পৃষ্ঠা, বাংলা পিডিয়ায় প্রকাশিত
ভুক্তি ১২০টি * ৩ = ৩৬০ পৃষ্ঠা, পুস্তক
সমালোচনা ৮*১০ পৃষ্ঠা = ৮০ পৃষ্ঠা, মুখবন্ধ
ও ভূমিকা ২০টি * ৫ = ১০০ পৃষ্ঠা, সভাপতির
বক্তৃতা ৬ * ১০ = ৬০ পৃষ্ঠা, বুক রিভিউ ১০টি
* ১০ = ১০০ পৃষ্ঠা এবং অন্যান্য ৫০০ পৃষ্ঠা,
সর্বমোট যা হতে পারে ১৬ হাজার পৃষ্ঠা।
হাতের লেখা হিসেব করলে যা ৩০ থেকে
৩৫ হাজার পৃষ্ঠা হতে পারে।
অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
যোগদানের সময়কাল অর্থাৎ ১৯৫১ থেকে
২০০৬ সালের (মৃত্যুর এক বছর আগে পর্যন্ত)
হিসেব ধরলে ৫৫ বছরে তিনি এই পরিমাণ
লেখালেখি করেছেন। দৈনিক হিসেব
ধরলে গড়ে ২ পৃষ্ঠা করে লিখেছেন।
(প্রফেসর ড. আবদুল করিম স্মরণে
প্রকাশিত ‘অভিযাত্রিক’ স্মারক গ্রন্থ
সম্পাদক-মুস্তাফা শামীম আল যুবায়ের,
চট্টগ্রাম, ১ সেপ্টেম্বর ২০০৭ অনুযায়ী
আবদুল করিমের প্রকাশিত বই-এর
তালিকা অনুযায়ী) অধ্যাপক আবদুল
করিমের একজন সহকর্মী ও গুণগ্রাহী ড.
সুনীতিভূষণ কানুনগোর মতে, লেখালেখির
পরিমাণটা ৫০ হাজার পৃষ্ঠা হতে পারে।
ইতিহাসবিদ ড. কানুনগো এটাকে ‘ঐশ্বরিক
কৃপা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর
রচনাসমূহ গবেষণামূলক, অতএব এজন্যেই
লেখালেখির কাজে তাঁর ক্ষমতাটা
অসামান্য মনে হয়।
আবদুল করিম তাঁর লেখালেখির কাজে
সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। তাঁর জীবন
ও কর্মের কথা এতটা ক্ষুদ্র পরিসরে
উপস্থাপন করাটাও খুব দুঃসাধ্য ব্যাপার।
জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ড. করিম
ছিলেন আল্লাহর রহমতের ওপর নির্ভরশীল
এবং আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত একজন সফল
মানুষ। দেশের প্রতি, দেশ ও জাতির
ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর ছিলো
অসামান্য দরদ। তাই বিদেশে তাঁর আরো
উচ্চতর গবেষণা ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময়
জীবনের হাতছানি ছিলো, জীবনে
সুপ্রতিষ্ঠা পাবার আরো সুযোগ ছিলো।
কিন্তু তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।
এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে
গেলেও তাঁর জীবনটা আরো বেশি
গতিশীল ও কীর্তিময় হয়ে উঠতে পারতো।
কিন্তু জন্মস্থান চট্টগ্রামে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে অথচ
চাটগাঁরই এক ভূমিপুত্র আবদুল করিম
সেখানে না গিয়ে থাকতে পারেন কি
করে? জন্মস্থানের মাটি তাঁকে আকর্ষণ
করছিলো চুম্বকের মতো। তাই ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে ইস্তফা
দিয়ে তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। শুধু নিজে
একা যাননি, পরিচিতি চাটগাঁয়ের
ছাত্রদেরও যেতে উৎসাহিত করেন। অথচ
শুভাকাঙক্ষী-বন্ধুরা উপর্যুপরি তাঁকে
নিষেধ করেছিলেন।
আত্মজীবনী ‘সময় ও জীবন’ গ্রন্থের দুই
খণ্ডের পাতায় পাতায় লিখে রেখেছেন
চট্টগ্রামে যাবার ফল কিরূপ বিষময় হয়ে
ওঠেছিলো, পারিবারিক দৈন্যতা
সত্ত্বেও মায়ের দোয়া ও আল্লাহর দয়ার
ওপর ভরসা রেখে কাছে-দূরের গ্রামে
অন্যের বাড়িতে জায়গির থেকে তিনি
লেখাপড়া চালিয়ে যান, অসচ্ছলতা
তাঁকে দমাতে পারে নি। একইভাবে শহরে
আসেন উচ্চশিক্ষার আশায়, শহরেও তিনি
জায়গির থাকেন। পড়ার খরচ চালান ছাত্র
বৃত্তির অর্থে। চট্টগ্রাম ইসলামিক
ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (পরবর্তীতে হাজি
মুহম্মদ মহসিন কলেজ) থেকে
ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, ইতিহাস বিষয়ে
সম্মান শ্রেণিতে। ১৯৪৯ সালে বিএ
অনার্স এবং ১৯৫৯ সালে এম.এ পরীক্ষায়
প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার
করেন। পরের বছরই যোগ দেন বিভাগের
প্রভাষক পদে।
আবদুল করিমের শিক্ষকতা জীবন দুই
পর্বের; ১৯৫১ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১৯৬৬ থেকে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবসর গ্রহণের
পূর্ব পর্যন্ত। এর মধ্যে চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব
পালন করেন ১৯৭৫ সালের নভেম্বর থেকে
১৯৮১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, উপাচার্যসহ
বিভিন্ন পদে থেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব
পালন করেও তাঁর ইতিহাস চর্চা ও গবেষণা
কাজ অব্যাহত রাখেন। ব্যক্তিগতভাবে এই
মনীষীর সান্নিধ্যে যাবার ও তাঁর স্নেহ-
আশীর্বাদ পাবার সুযোগ আমার
হয়েছিলো। যা ছিলো আমার জন্য পরম
সৌভাগ্যের। অবসর গ্রহণের পর তাঁর
শারীরিক অসুস্থতার মাঝে ২০০৩ সালের
মাঝামাঝি সময় আমি ‘মীরসরাইর
ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতি ‘গ্রন্থের
পাণ্ডুলিপি নিয়ে তাঁর নাসিরাবাদ
হিলভিউ সোসাইটির বাসায় হাজির
হয়েছিলাম। কদমবুচি করে তাঁর হাতে তুলে
দেই পাণ্ডুলিপির একটা প্রেস কপি।
তিনি বললেন শারীরিক অক্ষমতার কথা,
তবুও পাণ্ডুলিপিখানা রাখলেন। বললেন,
মাস দু’য়েক পর খবর নিতে। আমি ঢাকায়
চলে আসি। ১০ দিন পর স্যার নিজেই ফোন
করেন। তিনি বললেন, তোমার বইয়ের জন্য
ভূমিকা লিখে রেখেছি, এসে নিয়ে যেও।
পরদিনই আমি হাজির হই। স্যার প্রায় দুই
হাজার শব্দের একটি পূর্ণাঙ্গ মুখবন্ধ
আমার হাতে দেন। প্রথম অধ্যায়ে
লিখেছেন-“আমি এখন বয়সের কারণে
ইতিহাস পড়া ও লিখা ছেড়ে দিয়েছি,
কিন্তু ইতিহাস আমাকে ছাড়ে না। আরো
দু’ তিনটি বই মতামতের জন্য বা ভূমিকা বা
প্রসঙ্গ কথা লিখার জন্য আমার টেবিলে
পড়ে আছে। কিন্তু মমতাজের অনুরোধ
উপেক্ষা করতে পারলাম না, বিশেষ করে
বইখানির নাম ও বিষয়বস্তুর কারণে। সেই
স্থানের নাম আমরা ছেলেবেলায় ভূগোল
বই এ ‘মীরেশ্বরাই’ পড়েছি, ইতিহাস পড়ার
পরে ‘মীরসরাই’ নামে শুদ্ধ করেছি, এই
বইতে দেখা যায় সেই স্থানের নাম মীর
সাহেবের সরাই।” এর ছয় মাসের মাথায়
চট্টগ্রামের সুফী সাধক (প্রথম খণ্ড)
গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপির ভূমিকাও
তিনি লিখে দেন। সেখানে লিখেছেন
“স্নেহভাজন আহমদ মমতাজের চট্টগ্রামের
সুফী সাধক বইখানি আকারে ছোট হলেও
অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনায় ঠাঁসা। তিনি
এই পুস্তকে মীরসরাই তথা চট্টগ্রামের ৩৪
জন সুফী-সাধকের জীবনী আলোচনা
করেছেন। তিনি বিশাল আকারের
মীরসরাইর ইতিহাস নামে একখানি বইও
লিখেছেন।
সেই বই এর মুখবন্ধ লিখার দায়িত্ব ও
আমাকে নিতে হয়, গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক
অস্বীকার করতে পারি নি।” এর দুই বছর পর
‘চট্টগ্রামের সূফী সাধক’ নামে দ্বিতীয়
একটি খণ্ড আমি রচনা করি। মুখবন্ধ লিখে
দেন জালালাবাদের ইতিহাস ও হযরত
শাহজালাল বিষয়ক গ্রন্থের লেখক-
গবেষক দেওয়ান নূরুল আনোয়ার চৌধুরী।
এই গ্রন্থটি আমি উৎসর্গ করি শ্রদ্ধেয়
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আবদুল করিমকে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বইটির প্রকাশনা
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলার
ইতিহাসের এই কিংবদন্তির অধ্যাপক।
আমি তাঁর একজন নগন্য শিষ্যমাত্র। ২০০৩
থেকে ২০০৭, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই চার
বছর নিয়মিত যোগাযোগের মধ্যে ছিলাম।
ঢাকায় এলে আমাকে ফোন করতেন, আমি
দেখা করতাম। চট্টগ্রাম থেকে স্যার ফোন
করতেন, আমিও করতাম। বিভিন্ন বিষয়ে
স্যারের মতামত-উপদেশ গ্রহণ করেছি।
আমি ইতিহাসের ছাত্র নই, বাংলা
সাহিত্যের ছাত্র। কিন্তু ইতিহাসের প্রতি
আমার আগ্রহ ও ইতিহাস বিষয়ে
অনুসন্ধিৎসায় তিনি আমার কাজে সন্তুষ্ট
ছিলেন। অন্যান্য কারো কারো কাছে তা
প্রকাশও করেছেন। ঢাকায় এলে তাঁর ফোন
পেয়ে আমি কয়েকটি অনুষ্ঠানে হাজির
থেকেছি। একবার তাঁর মেয়ের বাসায়
গিয়ে দীর্ঘ সময়ব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ
করি ও তাঁর স্ত্রী-কন্যার সাথে ছবি
তুলি। আমার মনে এই প্রতীতী জন্মেছে
যে, আমি নগন্য হলেও এই মহীরূহ
ব্যক্তিত্বের স্নেহ-আশীর্বাদ সামান্যতম
হলেও লাভ করতে পেরেছিলাম।
অধ্যাপক আবদুল করিম অধ্যাপনা ও
গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা
প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫২
সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত এশিয়াটিক
সোসাইটি অব বাংলাদেশ (তৎকালীন
পাকিস্তান) এর জেনারেল সেক্রেটারি
(১৯৬৪-১৯৬৬) ছিলেন। সংস্থাটি ১৯৯৫
সালে তাঁকে ফেলোশিপ ও ২০০৬ সালে
প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক প্রদান করে। তিনি
বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির
প্রেসিডেন্ট ছিলেন ১৯৭৩-৭৭ সালে, ২০০৫
সালের ডিসেম্বরে সংস্থাটি তাঁকে
সংবর্ধনা ও স্বর্ণপদকে ভূষিত করে। তিনি
দেশে-বিদেশে অনেক সংস্থার
ফেলোশিপ লাভ করেন। ১৯৯২-৯৬ সাল
পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার
নিউমারারী প্রফেসর, ২০০১ থেকে আমৃত্যু
প্রফেসর ইমেরিটাস ছিলেন। চট্টগ্রামের
বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা
প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (১৯৮৫-৮৯)
ছিলেন অধ্যাপক আবদুল করিম। চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় মিউজিয়াম তাঁর প্রতিষ্ঠত
ও চিন্তাপ্রসূত। যা জাতীয় ও
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি ও গুরুত্ব
লাভ করেছে।
সমাজে শিক্ষার প্রসার এবং ধর্শীয় ও
সামাজিক কর্মকাণ্ডে আজীবন নিবেদিত
ছিলেন। বায়তুশ শরফের পীর মওলানা
আবদুল জব্বারে আগ্রহে ১৯৮৫ সালের মে
মাসে ‘বাংলাদেশে ইসলাম’ বিষয়ে
তিনদিন ব্যাপী জাতীয় সেমিনারের
আয়োজন করেন। সেমিনার বিভিন্ন
বিশ্ববিদ্যালযের অধ্যাপক-গবেষকরা
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এসব প্রবন্ধ নিয়ে
পরবর্তীকালে জাপান ও শ্রীলংকা
থেকে ‘ইসলাম ইন বাংলাদেশ’ নামে গ্রন্থ
প্রকাশিত হয়।
হাটহাজারী এলাকায় চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই
থানায় কোনো কলেজ ছিলো না। আবদুল
করিম হাটহাজারীতে কলেজ প্রতিষ্ঠা
করেন। নিজ জন্মস্থান বাঁশখালীর
পশ্চিমাঞ্চল শিক্ষাক্ষেত্রে অনগ্রসর
ছিলো। তিনি পশ্চিম বাঁশখালী উপকূলীয়
ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজের
উন্নতি কল্পে আমৃত্যু নিবেদিত ছিলেন।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মসজিদ, মক্তব-
মাদ্রাসা, ঈদগাহ, ঈদ জামাত কমিটি,
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালসহ অনেক
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট
ছিলেন। আবদুল করিম ছিলেন নিষ্ঠাবান
ধর্মপরায়ণ, সত্যনিষ্ঠ ও মানবতাবাদী
সাধক। চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচারে ওলী-
দরবেশদের ভূমিকা নিয়ে তিনি দীর্ঘকাল
গবেষণা করেছেন। রচনা করেছেন বেশ
কয়েকটি মূল্যবান গ্রন্থ। চট্টগ্রামের তথা
বাংলাদেশের ইতিহাস গবেষণার
ক্ষেত্রে এগুলো মূল্যবান আকরগ্রন্থ
বিশেষ।
বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ’ নামকরণের
বিষয়ে অধ্যাপক আবদুল করিমের
অসামান্য যুক্তি প্রতিপক্ষের কাছে ছিল
উপযুক্ত জবাব। তাঁর কাছে জানতে পারি
বাংলাদেশের ‘বঙ্গালাহ’ যে মধ্যযুগে
মুসলিম শাসকদের দেওয়া নাম। যা থেকে
মোগল আমলে সুবাহ বাঙ্গালাহ, ইংরেজ
আমলের বেঙ্গল এবং ১৯৭১ সালে
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামে
রূপলাভ করেছে। ঐতিহাসিক যুক্তি-
প্রমাণ সাপেক্ষে তিনি খণ্ডন করেন
পূর্বসূরী ঐতিহাসিক ডক্টর আর সি
মজুমদার এক সময় লিখেছেন “ইতিহাসের
দিক হইতে পূর্ববঙ্গের ‘বাংলাদেশ’ নাম
গ্রহণের কোন যৌক্তিকতা নাই” এবং
“বর্তমান পূর্ববঙ্গের রাষ্ট্রনায়কগণ
ইতিহাস ও ভূগোলকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা
করিয়া আবেগের দ্বারা পরিচালিত হইয়া
তাহাদের দেশের ‘বাংলাদেশ’ নাম গ্রহণ
করিয়াছেন।” অধ্যাপক আবদুল করিম এর
উত্তরে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে
লিখেন “ড. মজুমদারের এই উক্তি
তথ্যভিত্তিক নয়; যেই বঙ্গ, বঙ্গ এর
অধিবাসী বঙ্গাল হইতে মুসলামনদের
বঙ্গালাহ, বাঙ্গালাহ নামের উৎপত্তি,
সেই বঙ্গ-এর প্রায় সম্পূর্ণ অংশই বর্তমান
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। সুতরাং
বাংলাদেশ নামকরণ মোটেই অযৌক্তিক
নয়।”
সুদীর্ঘ পঞ্চান্ন বছরের অধ্যাপনা গবেষণা
জীবনে একটি একটি করে দু’হাজারের
বেশি গবেষণা উপাত্ত-নিদর্শন সংগ্রহ
করেছিলেন তিনি। নিজ বাসার একটি
কক্ষে এসব তিনি সংরক্ষণ করেছিলেন,
যা থেকে নিজে ও অন্যান্য শিক্ষক-
গবেষকগণ ব্যবহার করতেন। ২০০৩ সালে
তিনি সিদ্ধান্ত নেন সমুদয় সংগ্রহ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে
দান করবেন। সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ একটি
তালিকা প্রণয়ন করেন ও ২০০৬ সালে
মুদ্রিত হয়। অতঃপর একদিন ট্রাক ভর্তি
করে সংগৃহীত বই, জার্নাল, প্রাচীন পুঁথি-
পাণ্ডুলিপি, দলিল-দস্তাবেজ চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, স্থান
পায় সারিবদ্ধ আলমারীতে। চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরীতে দুষ্প্রাপ্য
শাখা প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবদুল করিম
ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। পাশেই
বিশ্ববিদ্যালয় মিউজিয়াম। দুটি
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি নিদর্শনই জাতীয়
আঞ্চলিক ইতিহাস রচনা ও গবেষণার
ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবদুল
করিমের দানকৃত বিপুল সংগ্রহ চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারকে যেমন সমৃদ্ধ
করেছে, তেমনি সুনতি আবদুল করিম
সাহিত্য বিশারদের দুষ্প্রাপ্যও মূল্যবান
সংগ্রহ এই গ্রন্থাগারকে উচ্চমাত্রার
সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিতি এনে
দিয়েছে।
২০০৭ সালের ২৪ জুলাই, মঙ্গলবার বিকেল
পৌনে চারটার সময় চট্টগ্রামের একটি
ক্লিনিকে তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস
ত্যাগ করেন। সেদিন জোহরের নামাজ
আদায় করে ঘর থেকে বের হয়ে ভর্তি হন
ক্লিনিকে। স্ত্রী-পুত্র-কন্যা, স্বজনরা
শিয়রেই ছিলেন। পরদিন চিরনিদ্রায়
শায়িত হন গরীবুল্লাহ শাহ (রহ.) মাজার
প্রাঙ্গণে। তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
জানাই।

#দৈনিক আজাদীর সৌজন্যে

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.