আনওয়ারুল উলুম বড় মাদরাসার সভা যেন ছনুয়াবাসীর ঈদ

BanshkhaliTimes

আনওয়ারুল উলুম বড় মাদরাসার সভা যেন ছনুয়াবাসীর ঈদ

জসিম উদ্দিন তুহিন

২৬ ফেব্রুয়ারি রোজ শুক্রবার দক্ষিণ বাঁশখালীর অন্তর্গত ছনুয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছনুয়া আনওয়ারুল উলুম মাদ্রাসা তথা বড় মাদ্রাসার বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বহু বিখ্যাত ওয়ায়েজ,পীর-বুজুর্গ, ইসলামি চিন্তাবিদ উপস্থিত ছিলেন।

এই সালানা জলসাটা কেবল মাদ্রাসার সভা নয় এটা ছিল পুরো ছনুয়াবাসীর ঈদ, ঈদেরছুটিতে গ্রামে না আসলেও এই এলাকার মানুষ মাদ্রাসার সভায় বাড়িতে ছুটে আসছে। বিবাহিত মেয়েরাও বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে ছুটে আসছে বাপের বাড়িতে। আত্মীয়স্বজন যার যেখানে ছিল এই উপলক্ষে বেড়াতে এসেছে।
ঈদের সালামি দিতে কার্পণ্য করলেও সভা উপলক্ষে ছোটবড় সবার হাতে গুঁজে দিতে হয়েছে কচকচে এক মুঠো টাকা।
কিশোরকিশোরীরা বড় মাদ্রাসার সভা উপলক্ষে একবছর ধরে টাকা সঞ্চয় করছে। শিশুরা নানান ধরণের শখ মিটানোর বায়না ধরে মাতাপিতার হাত ধরে মেলায় আসছে। কাল এই বায়না মিটিয়েছে অনেকেই।

সভা উপলক্ষে বিল জুড়ে বসছে বিশাল মেলা।
মেলায় কী ছিল না!
মেলায় লাঠি মিঠাই থেকে শুরু করে এমনকিছু ছিল না যা বিক্রি হয়নি ।
নাগরদোলায়ের ক্যাতক্যাত, বাশির নানান সুর আর বেলুনের উড়াউড়িতে সরগরম হয়ে উঠছিল মেলা প্রাঙ্গণ। আনন্দের কোথাও কমতি ছিল না। দলেদলে শিশু থেকে শুরু করে লাঠি হাতে নেওয়া বৃদ্ধ লোক পর্যন্ত মেলায় ছুটে আসছে।

মাদ্রাসার মাঠেঘাটে মানুষ গিজগিজ করছে। পিনপতন নীরবতায় মানুষ দ্বীনি বয়ান শুনছে। মাদ্রাসার তহবিলে ধনি, গরীব,অসহায় সব শ্রেণির মানুষ হাজার হাজার টাকা দান করছে।
প্রতিবছরের ন্যায় হেফজখানা থেকে এ’বছর ১৫ জন ছাত্রছাত্রী হেফজ শেষ করে পাগড়ি পেয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী করছে, আরবি ও বাংলা ভাষায় টাঙিয়েছে দেয়ালিকা। দেয়ালিকায় ফুটে উঠেছে দ্বীন-দুনিয়া প্রাসঙ্গিক নানান কথাবার্তা। ছড়া কবিতা,হাদিস আর কোরআনের বাণীতে রাঙিয়ে তুলছে দেয়ালপত্রিকা।
মুফতি আবু তৈয়ব কাসেমির পরিচলানায় জমাতে ছাহারুম পর্যন্ত কিতাব বিভাগ (পুরুষ) আর দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত মহিলা বিভাগ সহ নুরানি, হেফজখানা ও এতিমখানায় প্রায় ১২০০ মতো ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত।

প্রাচীন বড় মাদ্রাসার বার্ষিক সভা ছনুয়ার মানুষকে ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতিসম্পন্ন নেতৃত্ব আর দানশীলতার সুযোগ করে দেয়। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা দ্বীনি শিক্ষার প্রচারের সাথে সাথে এই মেলার সংস্কৃতি যুগযুগ জিইয়ে থাকুক।

লেখক: সাংবাদিক ও ক্যালিওগ্রাফার

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.